রমজানের শেষ জুমা, কী আমল করবেন

ইসলাম ডেস্ক

ইসলামের আলো

পবিত্র রমজানের দিনগুলো ফুরিয়ে যাচ্ছে। গতকাল ছিল ২৭ রমজানের রাত। পৃথিবীর প্রায় সব মুসলিমরা ২৭ রমজানের রাতকে কদরের রাত মনে

2025-03-28T12:20:41+00:00
2025-03-28T12:20:41+00:00
 
  রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬,
৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
ইসলামের আলো
রমজানের শেষ জুমা, কী আমল করবেন
ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৮ মার্চ, ২০২৫, ১২:২০ পিএম   (ভিজিট : ১৮৭৩)
লালা মোস্তফা পাশা মসিজদ, সাইপ্রাস। ছবি: সংগৃহীত
পবিত্র রমজানের দিনগুলো ফুরিয়ে যাচ্ছে। গতকাল ছিল ২৭ রমজানের রাত। পৃথিবীর প্রায় সব মুসলিমরা ২৭ রমজানের রাতকে কদরের রাত মনে করে ইবাদত-আমল করে। ২৭ রমজানের রাত কদরের রাত—এ ব্যাপারে বেশ কিছু ইঙ্গিতও পাওয়া যায়। আজ ২৭ রমজান। রমজানের শেষ জুমার দিন। বলা হয় রমজানের বিদায়ী জুমা। আরবিতে একে ‘জুমাতুল বিদা’ও বলা হয়। বাংলাদেশেও এ পরিভাষাটি প্রচলিত। জুমাতুল বিদা অর্থ মাহে রমজানের শেষ জুমা। জুমাতুল বিদার দিন আলাদা কোনো আমল-ইবাদত নেই। শেষ জুমা বলে এর কোনো স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যও নেই। তবে জুমার দিনটি ইসলামে তাৎপর্যময় ও ফজিলতপূর্ণ। আর সেটি যদি হয় রমজানের জুমার দিন, তাহলে তো এর গুরুত্ব, তাৎপর্য ও ফজিলত হয় অন্যরকম। 

ইসলামে জুমার দিনের গুরুত্ব ও ফজিলত অনেক। এটি  মুসলিমদের সাপ্তাহিক ঈদের দিন। ‘জুমা’ নামে কোরআনে একটি সুরাও রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিন শ্রেষ্ঠ। আল্লাহ তাআলার কাছে এ দিনটি অধিক সম্মানিত।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১০৮৪)। এ দিন আজান হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দুনিয়ার যাবতীয় কাজকর্ম ছেড়ে মসজিদে প্রবেশ করা মুসলমানদের ঈমানি দায়িত্ব। আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনরা, জুমার দিনে যখন নামাজের জন্য ডাকা হয়, তখন আল্লাহর স্মরণের দিকে শিগগির ধাবিত হও। ক্রয়-বিক্রয় ছেড়ে দাও। এটাই তোমাদের জন্য অতি উত্তম, যদি তোমরা জানতে!’ (সুরা জুমা, আয়াত: ৯)। রমজানের এ জুমার দিনে বেশ কিছু আমল করা যেতে পারে। এখানে কয়েকটি উল্লেখ করা হলো—

মেসওয়াক, গোসল, উত্তম পোশাক পরিধান, সুগন্ধি ব্যবহার ও জুমার নামাজ আদায় করা: মেসওয়াক করা রাসুলুল্লাহ (সা.) অন্যতম সুন্নত। তিনি প্রতিদিন মেসওয়াক করতেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে জুমার দিন গোসল করে উত্তম পোশাক পরবে এবং সুগন্ধি ব্যবহার করবে; এরপর জুমার নামাজে এসে অন্য মুসল্লিদের গায়ের ওপর দিয়ে টপকে সামনের দিকে না গিয়ে নির্ধারিত জায়গায় নামাজ আদায় করবে। ইমাম খুতবার জন্য বের হওয়ার পর থেকে সালাম পর্যন্ত চুপ থাকবে; আল্লাহ তাআলা তার দুই জুমার মাঝের গুনাহ (সগিরা) ক্ষমা করে দেবেন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৮৫৭)

পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করছেন দুই মুসল্লি। ছবি: সংগৃহীত

দ্রুত মসজিদে যাওয়া: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘জুমার দিন মসজিদের দরজায় ফেরেশতারা অবস্থান করেন এবং ক্রমানুসারে আগে আসা মুসল্লিদের নাম লেখেন। যে সবার আগে মসজিদে আসেন; সে একটি মোটাতাজা উট কোরবানির সাওয়াব লাভ করবেন। এভাবে এরপরে আসা ব্যক্তি গাভী কোরবানি করার এবং এরও পরে আসা ব্যক্তি মুরগি দানকারীর মতো সাওয়াব পাবেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৯২৯)

খুতবা শোনা: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে জুমার দিন ভালো করে গোসল করে দ্রুততর সময়ে মসজিদে গেল ও (ইমামের) কাছাকাছি বসে মনোযোগসহ (খুতবা) শুনল, তার জন্য প্রতি কদমের বদলে এক বছরের রোজা ও নামাজের সওয়াব থাকবে।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৩৪৫)

বেশি বেশি দুরুদ পড়া: মুহাম্মাদ (সা.)-এর ওপর দুরুদ পড়া মুসলমানদের ওপর ওয়াজিব। দুরুদ পড়ার মাধ্যমে অনেক ফজিলত অর্জন করা যায়। প্রিয় হওয়া যায় প্রিয়নবীর। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘দিনসমূহের মধ্যে জুমার দিনই সর্বোত্তম। এই দিনে আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে। এই দিনে তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। এই দিনে শিঙায় ফুঁক দেওয়া হবে। এই দিনে সব সৃষ্টিকে বেহুঁশ করা হবে। অতএব, তোমরা এই দিনে আমার ওপর অধিক পরিমাণে দুরুদ পাঠ করো। কেননা তোমাদের দুরুদ আমার সামনে পেশ করা হয়ে থাকে।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১০৪৭)

দোয়া করা: দোয়া মুমিনের ঢাল। এতে আল্লাহ খুশি হন। বান্দার ডাক শুনেন। তার স্বপ্ন কবুল করেন। এ দিন বেশি বেশি দোয়া করা উচিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘জুমার দিনের বারো ঘণ্টার মধ্যে এমন একটি বিশেষ মুহূর্ত আছে, তখন কোনো মুসলমান আল্লাহতায়ালার কাছে যে দোয়া করবে; আল্লাহ তা কবুল করেন। ওই মুহূর্তটি তোমরা আসরের শেষ সময়ে অনুসন্ধান করো।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ১০৪৮)

প্রতীকী ছবি

সুরা কাহাফ তেলাওয়াত: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরা কাহাফ পড়বে, তা জুমার মধ্যবর্তী সময়ে তার জন্য আলোকিত হয়ে থাকবে। আর যে ব্যক্তি এই সুরার শেষ ১০ আয়াত পাঠ করবে, দাজ্জাল বের হলে তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।’ (তারগিব, হাদিস: ১৪৭৩) 

কোরআন তেলাওয়াত করা: এ দিন বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত করা যেতে পারে। রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজান মাসে পবিত্র কোরআন বেশি পরিমাণ তেলাওয়াত করতেন এবং জিবরাইল (আ.)-কে তা শোনাতেন। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘রমজান মাসের প্রতি রাতে জিবরাইল (আ.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে উপস্থিত হতেন এবং তাঁরা উভয়েই পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করে একে অপরকে শোনাতেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬)

মনে রাখতে হবে, শরিয়তে জুমাতুল বিদা বলে আলাদা ফজিলতের কিছু নেই। এটি একটি নব আবিষ্কৃত পরিভাষা। তবে একথা ঠিক যে, জুমার দিন একটি ফজিলতপূর্ণ দিন। রমযানের জুমার দিন হিসেবে এর গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। আর এ বছরে রমজানের জুমা এটিই শেষ—এ হিসেবে এর যে ফজিলত শরিয়তে আছে তা অর্জনে সচেষ্ট হওয়া উচিত। তাই বলে ‘হাজ্জাতুল বিদা’র সাথে মিল রেখে ‘জুমাতুল বিদা’ নামকরণ এবং এর বাড়তি ফজিলতের বিশ্বাস রাখা—এর কোনো ভিত্তি নেই।




  বিষয়:   জুমাতুল বিদা  জুমা  আমল  রোজা  রমজান 


Loading...
Loading...
ইসলামের আলো- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: