ঈদ উৎসবে মেতে ওঠে ছোট বড় সবাই। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঈদের আনন্দের ধরনও বদলে যেতে থাকে। ধনী-গরিব থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ কিংবা তারকা সবারই উৎসবের কেন্দ্র থাকে এই ঈদ। কখনো কখনো কোনো দুর্ঘটনা উৎসবের আমেজে নেমে আসে বিষাদের ছায়া।
বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের অ্যাটাকিং মিফিল্ডার শেখ মোরসালিনের কথাই বলা যাক। বেশ ডানপিটে হিসেবে পরিচিত ফরিদপুর থেকে উঠে আসা ১৯ বছর বয়সী এই তারকা ঈদকে ঘিরে কোনো কেনাকাটাই করেননি। গাড়ি দুর্ঘটনার কবল থেকে মামা-নানুর বেঁচে ফেরাই যেন তার কাছে ঈদ।
তিনি বলেন, ‘কিছুদিন আগে আমার পরিবারের সদস্য এক্সিডেন্ট করে। আমার মামা আর নানু হাসপাতালে ছিল অনেক দিন। ঢাকা থেকে বাসায় নিয়ে যাচ্ছি। এ কারণে কেনাকাটা করা হয়নি। এই খারাপ অবস্থায় আসলে কেনাকাটা করাটা কঠিন। ছোট ভাইয়ের জন্য কিছু করেছি শুধু। এটুকুই।’
এমন একটা সময়ে আমরা বাস করছি যখন সবাই ব্যস্ত থাকে রঙিন পর্দায়। আত্মীয় স্বজন কিংবা পাড়া প্রতিবেশীর খবর নিয়মিত কজনেই রাখে। কিন্তু মোরসালিনদের বাস পরিবারের সবাইকে ঘিরে। তাইতো নানুর গাড়ি দুর্ঘটনার পরবর্তী সময় উদ্যাপনে মেতে উঠতে চান না।
মোরসালিন বলেন, ‘আমার নানু আইসিউতে ছিল ১২ দিন। এখন মোটামুটি সুস্থতার দিকে। আমরা একান্নবর্তী পরিবারের মতো সবাই একসঙ্গে থাকি। নানুর এমন দুর্ঘটনা আসলে সবার জন্যই মন খারাপের বিষয়।’

তবুও ঈদ বলে কথা। কোনো পরিকল্পনা আছে ঈদকে ঘিরে? এমন প্রশ্নেও মোরসালিন জানিয়েছেন পরিবারকে সময় দেয়ার কথা। তিনি বলেন, ‘পরিকল্পনা বলতে গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরে ঈদ করব। সেখানে আত্মীয়স্বজন থেকে শুরু করে সবাই আছে। গ্রামেই কাটাব।
‘আসলে বিশেষ কোনো পরিকল্পনা করা হয়নি। সারা বছর খেলা নিয়ে ব্যস্ত থাকি। পরিবারকে সময় দেব।’
খেলার কারণে দুবার দেশের বাইরে ঈদ করলেও সবসময় গ্রামেই ঈদ কাটে মোরসালিনের। তিনি বলেন, ‘দেশের বাইরে দু’বার ঈদ করা হয়েছে। দু’বারই ভারতে। খেলার কারণ মূলত দেশের বাইরে ঈদ করা। ওভাবে ঈদ করার জন্য দেশের বাইরে যাওয়া হয়নি। গ্রামেই সবসময় ঈদ করা হয়েছে।’
মোরসালিনের কাছে আগের ঈদ ছিল ভিন্ন রকম। স্কুল ব্যাগে করে বাজি এনে সারা দিন এগুলো ফোটাতেন। কিন্তু এখন বদলে গেছে সময়। বদলে গেছে জীবন। চাইলেও এমন আর পারবেন না। ওই সময়গুলো মিস করেন জাতীয় ফুটবল দলের এই তারকা।
তিনি বলেন, ‘আমি সব থেকে বেশি করছি হলো বাজি নিয়ে। আমি খুব বাজি ফুটাইতাম। স্কুল ব্যাগে করে বাজি নিয়ে আসতাম। তারপর সারাদিন এই বাজি ফুটাতাম। এখন এটা করতে পারি না আগের মতো। এটা মিস করি বেশি।’