লম্বা একটা সময়, হিসাব করলে সেটা দাঁড়ায় প্রায় ১২৮ বছর। দীর্ঘ সেই অপেক্ষার পর অলিম্পিকের মঞ্চে আবারও দেখা যাবে ব্যাটে-বলের লড়াই। অর্থাৎ, দ্বিতীয়বারের মতো অলিম্পিকের মঞ্চে হবে ক্রিকেট ইভেন্ট। ১৯০০ প্যারিস অলিম্পিকে মাত্র দুই দল অংশ নেওয়ার পর গ্রেটেস্ট শো অন আর্থের মঞ্চে রাজকীয় এই খেলা উপেক্ষিতই ছিল, আলোর মুখ দেখেনি। লস অ্যাঞ্জেলেস গেমসে টি-টোয়েন্টি সংস্করণ দিয়ে আবারও বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়াযজ্ঞে হাজির হচ্ছে ক্রিকেট। অবশ্য এই খবরটি পুরোনো। নতুন খবর হচ্ছে, সেখানে জায়গা পেতে বাংলাদেশকে পেরোতে হতে পারে কঠিন চ্যালেঞ্জ।
২০২৮ অলিম্পিকে ক্রিকেট দেখা গেলেও তাতে অংশগ্রহণের সুযোগ খুব বেশি দল পাচ্ছে না। ছেলে ও মেয়েদের ইভেন্টে মাত্র ছয়টি দলকে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি স্কোয়াডে রাখা যাবে ১৫ জন সদস্য। কিন্তু ছয়টি দল কীভাবে নির্বাচিত হবে সেটা এখনও খোলাসা করেনি আয়োজক কর্তৃপক্ষ। র্যাঙ্কিং অনুযায়ী শীর্ষ ছয় দলকে সুযোগ দেওয়া হবে নাকি, আগামী ২০২৬ বা ২০২৮ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পারফরম্যান্স হবে বাছাইয়ের মানদণ্ড সেটাও জানা যায়নি। এ ছাড়া আয়োজক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ নেওয়াটা সময়ের ব্যাপার মাত্র। সেক্ষেত্রে দল সংখ্যা কমে পাঁচে নেমে আসবে। তা ছাড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজ যদি বাছাইপর্ব পার হয়ে বিশ্বকাপে সুযোগ পায়, তখন টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ নিয়েও একটা প্রশ্ন থাকবে। কারণ, ক্যারিবিয়ান দ্বীপ দেশগুলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ নামে ক্রিকেট খেললেও অলিম্পিক বা বৈশ্বিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় আলাদাভাবে অংশ নেয়। ২০২২ কমনওয়েলথ গেমসে নারী টি-টোয়েন্টিতে বারবাডোস অংশ নিয়েছিল, কারণ ওয়েস্ট ইন্ডিজের ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় সেবার তারাই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।
২০২৩ সালে যখন অলিম্পিকে ক্রিকেটের অংশ নেওয়া নিশ্চিত হয়, তখনই বলা হয়েছিল ছয়টি দল অংশ নেবে। বুধবার আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় নারী ও পুরুষের ইভেন্টের জন্য ৯০ জন করে অ্যাথলেটের জায়গা বরাদ্দ করে আয়োজক কমিটি সেটাই নিশ্চিত করেছে। এদিকে অলিম্পিক আয়োজক কমিটির কাছে আইসিসি দল নির্বাচনের জন্য একটি পরামর্শ দিয়েছে। নির্দিষ্ট কাট-অফ সময়ের মধ্যে র্যাঙ্কিংয়ের সেরা ছয় দলকে বেছে নিতে বলছে তারা। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত চলতি বছরই জানিয়ে দেওয়া হবে।
এদিকে র্যাঙ্কিং বা বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের অতীত বা সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সÑদুটো বিবেচনা করলেও বাংলাদেশের অলিম্পিকে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা খুব ক্ষীণ। টি-টোয়েন্টি বাংলাদেশ পুরুষ দল ছয় বা এর উপরে শুধু একবারই উঠতে পেরেছিল (২০১২)। বর্তমানে বাংলাদেশের অবস্থান নয়ে। নারী ক্রিকেট দলের অবস্থানও তাই। সবশেষ ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সুপার এইটে উঠলেও ছেলেদের দল হয়েছিল সপ্তম। বিশ্বকাপে বাংলাদেশের এটাই সেরা পারফরম্যান্স। আর নারী ক্রিকেট দলও বিশ্বকাপে কখনো শীর্ষ ছয়ে থাকতে পারেনি।