বাংলা নববর্ষ উদযাপনের আয়োজনটি শুরু হয় ১৯৮৯ সালে। তখন এর নাম ছিল ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’। ১৯৯৬ সালে এর নাম বদল করে রাখা হয় ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’। এর মধ্যে শোভাযাত্রায় নানা পরিবর্তন আসে। বৈচিত্র যোগ হয়। তবে মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজনটি কখনও বিতর্কের ঊর্ধ্বে ছিল না।
২০১৬ সালে বাংলা বছরকে বরণ করে নেওয়ার নতুন এই উৎসবটি ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পায়। ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা অন পহেলা বৈশাখ’ বাংলা বর্ষবরণের আয়োজনটিকে ইউনেস্কোর অপরিমেয় বিশ্ব সংস্কৃতি হিসেবে স্বীকৃতির সনদে এভাবেই উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু নাম বদলের ফলে জাতিসংঘের সংস্থার স্বীকৃতিতে কোনো প্রভাব পড়বে কি। বিবিসি বাংলা এ প্রসঙ্গে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এখানে সংক্ষেপে কিছুটা উল্লেখ করা হলো—
নাম পরিবর্তন নিয়ে সমালোচনা ও নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এর পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তি দিচ্ছেন অনেকে। এসবের মধ্যে ইউনেস্কোর স্বীকৃতির বিষয়টিও ঘুরে ফিরে আসছে। নাম পরিবর্তনের ব্যাপারটিকে ‘হাস্যকর’ বলছেন কেউ কেউ। চারুকলার সাতাশি ব্যাচের নাজিব তারেক বললেন, ‘একটি নাম যেখানে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক পরিসরে যার পরিচিতি ঘটেছে এখন সেই নামটা পরিবর্তনের প্রয়োজন কেন পড়লো? জাতিসংঘের কাছে এটা মঙ্গল শোভাযাত্রা নামে পরিচিত। এখন মনে হতে পারে মঙ্গল শোভাযাত্রা নামে আর কিছু নেই, এটা হারিয়ে গেছে। এর ফলে ‘ক্রেডিবিলিটি’ (বিশ্বাসযোগ্যতা) হারানোর শঙ্কা রয়েছে।’
ইউনেস্কোর স্বীকৃতি। ছবি: সংগৃহীত
ইনট্যাঞ্জিবল কালচারাল সেইফগার্ডিং এর বিষয়ে একটি কনভেনশন রয়েছে ইউনেস্কোর। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ঐতিহ্যের সুরক্ষায় রাষ্ট্রের দায়িত্বের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে নাম পরিবর্তনের বিষয়ে আলাদা কিছু দেখা যায়নি। এই বিষয়ে জানতে চেয়ে ইউনেস্কোকে ই-মেইল করা হলেও এই প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। তবে, সংস্থাটির ওয়েবসাইটের প্রশ্নোত্তর অংশে, স্বীকৃতির তালিকায় কোনো ঐতিহ্যকে অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে কিছু সম্ভাব্য ঝুঁকির কথা বলা আছে।
‘ঝুঁকিগুলো হলো, অপরিমেয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পর ঐতিহ্যটি থমকে যেতে পারে (বৈচিত্র হ্রাস, প্রামাণ্য সংস্করণ তৈরি ও সৃজনশীলতা ও পরিবর্তনের সুযোগ নষ্ট করা ইত্যাদি কারণে), অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়তে পারে।’
একইসঙ্গে ঝুঁকির জায়গায় আরও বলা আছে, ‘ঐতিহ্য সম্পর্কে প্রচলিত ধারণা বদলে যেতে পারে, বিদেশিদের জন্য সরলীকরণ করা হতে পারে, সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়ের কাছে এর কার্যক্রম ও অর্থ পাল্টে যেতে পারে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার বর্ষবরণের প্রথম শোভাযাত্রার অন্যতম আয়োজক নাজিব তারেক মনে করেন, এখন বাংলাদেশের ঐতিহ্যের অংশ হওয়া শোভাযাত্রার নাম বদলের বিষয়টি জাতিসংঘের সংস্থাটির কাছে নেতিবাচক বার্তা দেবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।