মুমিনের চুলের বিন্যাস কেমন হবে

মিজানুর রহমান

ইসলামের আলো

মানুষ স্বভাবজাতভাবেই অনুকরণপ্রিয়। প্রতিটি কাজেই তারা কাউকে না কাউকে অনুকরণ করতে পছন্দ করে। পোশাক থেকে শুরু করে চুলের স্টাইলেও মানুষের

2025-05-18T06:44:22+00:00
2025-05-18T06:44:22+00:00
 
  মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৩১ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইসলামের আলো
মুমিনের চুলের বিন্যাস কেমন হবে
মিজানুর রহমান
প্রকাশ: রোববার, ১৮ মে, ২০২৫, ৬:৪৪ এএম 
ছবি: সংগৃহীত
মানুষ স্বভাবজাতভাবেই অনুকরণপ্রিয়। প্রতিটি কাজেই তারা কাউকে না কাউকে অনুকরণ করতে পছন্দ করে। পোশাক থেকে শুরু করে চুলের স্টাইলেও মানুষের অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব পাওয়া যায়। তবে ভুল মানুষের অনুকরণ করলে বিপথগামী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো সম্প্রদায়ের অনুকরণ করবে, সে তাদের অন্তর্ভুক্ত হবে’ (আবু দাউদ : ৪০৩১)। মুমিনের জীবনে একমাত্র অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব মহানবী (সা.) কিংবা যারা মহানবী (সা.)-এর সুন্নত মোতাবেক জীবন গড়েছেন। এর বিপরীত মেরুর কাউকে অনুকরণ করতে গেলে হাদিসের ভাষ্যমতে, বিপদে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

একটি হাদিসে জানা যায়, আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বলেন, আমি রাসুল (সা.)-কে ‘কাজা’ থেকে নিষেধ করতে শুনেছি। (বর্ণনাকারী ওবায়দুল্লাহ বলেন) আমি জিজ্ঞেস করলাম, ‘কাজা’ কী? তখন আবদুল্লাহ (রা.) আমাদের ইঙ্গিতে দেখিয়ে বললেন, শিশুদের যখন চুল কামানো হয়, তখন এখানে-ওখানে চুল রেখে দেয়। এ কথা বলার সময় ওবায়দুল্লাহ তার কপাল ও মাথার দুই পাশে দেখালেন। ওবায়দুল্লাহকে আবার জিজ্ঞেস করা হলো, বালক ও বালিকার জন্য কি একই নির্দেশ? তিনি বলেন, আমি জানি না। এভাবে তিনি বালকের কথা বলেছেন। ওবায়দুল্লাহ বলেন, আমি এ কথা আবার জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বলেন, পুরুষ শিশুর মাথার সামনের ও পেছনের দিকের চুল কামানো দূষণীয় নয়। আর (অন্য এক ব্যাখ্যা মতে) ‘কাজা’ বলা হয়, কপালের ওপরে কিছু চুল রেখে বাকি মাথার কোথাও চুল না রাখা। তেমনিভাবে মাথার চুল এক পাশ থেকে অথবা অন্য পাশ থেকে কাটা। (বুখারি : ৫৯২১)

মুসলমান কীভাবে চুল রাখবে, কীভাবে চুল কাটবে সে সম্পর্কে নবীজি (সা.)-এর সুন্নাহে সব বিদ্যমান। পুরুষদের জন্য সাধারণত বাবরি চুল রাখা সুন্নত। কেননা রাসুলুুল্লাহ (সা.)-এর সাধারণ অভ্যাস ছিল বাবরি চুল রাখা। তা তিন পদ্ধতিতে হতে পারে- ১. উভয় কাঁধ বরাবর। ২. ঘাড়ের মাঝামাঝি। ৩. উভয় কানের লতি পর্যন্ত (আবু দাউদ : ৪১৮৩)। রাসুলুুল্লাহ (সা.) ইহরাম থেকে হালাল হওয়ার জন্য মাথা মুণ্ডাতেন। এ ছাড়া তিনি কখনো মাথা মুণ্ডাননি। এ সময় তিনি মাথা মুণ্ডানোকে চুল ছোট করে রাখার ওপর প্রাধান্য দিয়েছেন। এ জন্য ইমাম তাহতাবি (রহ.) বলেন, মাথা ন্যাড়া করাও সুন্নত। আর কিছু অংশ মুণ্ডানো ও কিছু রেখে দেওয়া নিষেধ। মুণ্ডাতে ইচ্ছে না করলে চুল ছোট রাখা যেতে পারে।

আলেমগণ তিন তরিকায় বাবরি রাখাকে সুন্নত আর মাথার চুল ছোট করে রাখা বা মুণ্ডানোকে জায়েজ বলেন। এ ছাড়া সামনে বা পেছনে লম্বা রাখা অথবা ডান পাশে বা বাম পাশে ছোট-বড় করে রাখাকে জায়েজ মনে করেন না। এ ক্ষেত্রে লক্ষণীয় বিষয় হলো, চুলের যে কাটিং ভিন্ন কোনো জাতি সত্তার অনুকরণে হবে, তা-ই নাজায়েজের মধ্যে শামিল হবে (ফাতাওয়া মাহমুদিয়া : ২৭/৪৬০)। মেয়েদের জন্য চুল মুণ্ডন করা বা কেটে ছেলেদের মতো করে ফেলা নিষেধ। আবার এতো বড় রাখা উচিত নয় যে, গোসলের সময় পানি পৌঁছানো কষ্টকর হয়। বরং পিঠ বা কোমর পর্যন্ত রাখা ভালো। সে মতে, কোমরের নিচের অংশ কেটে ফেলা জায়েজ হবে। অবশ্য না কাটলেও কোনো সমস্যা নেই।

সময়ের আলো/জেডআই
Advertisement
Loading...
Loading...
ইসলামের আলো- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: