১৭ মে ছিল বিশ্ব উচ্চ রক্তচাপ দিবস। বলা হয়, আমরা এক অনুচ্চারিত মহামারির মধ্যে বাস করছি। সেই মহামারির নাম উচ্চ রক্তচাপ।
বিশ্বজুড়ে প্রায় ১১.৩ লাখ মানুষের উচ্চ রক্তচাপ ধরা পড়েছে। বাংলাদেশেও নানা কারণে বাড়ছে এ রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা। কিন্তু যে হারে মানুষ রোগটিতে আক্রান্ত হচ্ছেন সেই হারে বাড়ছে না সচেতনতা। এরই মধ্যে বেড়েছে মানুষের গড় আয়ু, বেড়েছে বয়স্ক মানুষের সংখ্যাও। সে কারণে আগের চেয়েও অনেক বেশি রোগী চোখে পড়ছে এখন।
এ ছাড়া মানুষের জীবনযাপন পদ্ধতির ওপর অনেকখানি নির্ভর করে উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি। শহুরে জীবনে আমাদের কায়িক পরিশ্রম কমেছে। জীবনাচরণের বেড়েছে স্ট্রেস ও মানসিক চাপ। খাদ্যাভ্যাসে লবণ বেশি খাওয়াও উচ্চ রক্তচাপের অন্যতম কারণ। উচ্চ রক্তচাপ নিজেই একটা রোগ, আবার এটির উপস্থিতি আরও অন্যান্য রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। এটি হৃদরোগ ও মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণের সম্ভাবনা বাড়ায়। বিশেষ কোনো লক্ষণ নেই যা দেখে বুঝবেন যে আপনি উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন।
আমাদের দেশে একটি বিশেষ অভ্যাস রয়েছে। সেটি হলো কেউই নিয়মিত রক্তচাপ মাপেন না। কালেভদ্রে ডাক্তারের কাছে গিয়েছেন কেউ, তখন হয়তো রক্তচাপ মাপা হয়। আবার ডাক্তার খেয়াল না করলে সেটিও হয় না। এতে করে বেশিরভাগ মানুষ জানেই না যে তার উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে। প্রতিটি পূর্ণবয়স্ক মানুষকে নিজ উদ্যোগে রক্তচাপ মাপা উচিত।
উচ্চ রক্তচাপের তেমন কোনো লক্ষণ প্রকাশ না পেলেও রক্তচাপ অনেক বেড়ে গেলে অনেকের ঘাড়ে ব্যথা হতে পারে, চোখে ঝাপসা দেখতে পারেন, মাথা ঘোরাতে পারে, অজ্ঞান হয়ে যেতে পারেন। পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধে আমাদের কাজ করতে হবে। খাবারে অতিরিক্ত লবণ পরিহার করতে হবে। প্রসেসড ফুডে প্রচুর লবণ থাকে। জাঙ্ক ও প্রসেসড ফুড এড়িয়ে স্বাভাবিক শাকসবজি খাওয়ার পরিমাণ বাড়াতে হবে। কায়িক পরিশ্রম বাড়াতে হবে। সকালে উঠে হাঁটাহাঁটি, জগিং বা জিম করার ব্যাপারে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।
সরকারি পর্যায় থেকে উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত রোগীদের নিয়মিত চিকিৎসা দেওয়া প্রয়োজন। সরকার উচ্চ রক্তচাপ বিষয়ে সচেতনতা নিয়ে কাজ করছে। প্রতিটি হাসপাতালে রক্তচাপ মাপার একটি কর্নার করা হয়েছে। সেখানে যে কেউ তার রক্তচাপ মাপতে পারবেন। এসব কর্মসূচিতে মানুষ আরও সচেতন হবে বলে আমাদের বিশ্বাস।
লেখক : বিভাগীয় প্রধান, রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগ, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ
সময়ের আলো/এমএইচ