ইরানের রাজধানী তেহরানে এবং এর আশপাশের এলাকায় অবস্থিত পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিরতা ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার পর নিজ দেশে জরুরি অবস্থা জারি করেছে ইসরায়েলি সরকার। ইরানের পাল্টা হামলার আশঙ্কায় এই পদক্ষেপ নিয়েছে তেল আবিব। এরই পরপর পাল্টা হামলার আশঙ্কায় জেরুজালেমে সাইরেন বাজতে দেখা গেছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলের এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, তেহেরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি ঠেকাতে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের সংবাদমাধ্যম এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ অঞ্চলে ইসরায়েলের হামলা চালানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। ইসরায়েল এ অভিযানের নাম দিয়েছে ‘রাইজিং লায়ন’।
ইসরায়েলের এ হামলায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। অনেক দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা প্রকাশ্যে বলেছে, এই হামলা অগ্রহণযোগ্য ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে।
বিশেষ করে তিন মুসলিম দেশ- ওমান, ইন্দোনেশিয়া ও সৌদি আরব স্পষ্ট ভাষায় এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে। তারা বলেছে, এটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে হুমকিতে ফেলেছে।
ওমানের নিন্দা
ওমান নিন্দা জানিয়ে বলেছে, ইসরায়েলের এই হামলা বিপজ্জনক ও অগ্রহণযোগ্য। ওমান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অনুরোধ করেছে যে তারা দৃঢ় ও স্পষ্ট পদক্ষেপ নিয়ে এই আগ্রাসন বন্ধ করুক। ওমান মনে করে, এই হামলা আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের নীতিমালা লঙ্ঘন করেছে।
ইন্দোনেশিয়ার সমালোচনা
ইন্দোনেশিয়া বলেছে, ইসরায়েলের এ হামলা অস্থিরতা আরও বাড়াতে পারে ও মধ্যপ্রাচ্যে অগ্নিসংযোগ ঘটাতে পারে। দেশটি সব পক্ষকে অনুরোধ করেছে, তারা সংযম প্রদর্শন করুক ও উত্তেজনা কমাতে পদক্ষেপ গ্রহণ করুক।
সৌদি আরবের নিন্দা
সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানে হামলা দেশটির সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। আন্তর্জাতিক আইন ও মান অগ্রাহ্য করে এ ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলেও উল্লেখ করেছে সৌদি সরকার।
ওমান, ইন্দোনেশিয়া ও সৌদি আরব সবাই আন্তর্জাতিক মহলকে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা ও অরাজকতা বন্ধে কার্যকর ও সুস্পষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছে।
এদিকে জাতিসংঘ, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও জাপানও স্থিতিশীলতা ও সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে।
অস্ট্রেলিয়া বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা আরও বাড়লে তা বিশ্ব নিরাপত্তার জন্য হুমকিতে পরিণত হতে পারে। অপরদিকে নিউজিল্যান্ড ও জাপান বলেছে, সামরিক পদক্ষেপ কখনও সমাধান নিয়ে আসে না; তাই সবাইকে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
বৃহস্পতিবার (১২ জুন) রাত ৩টার দিকে ইরানে হামলা চালায় ইসরায়েল। ওই হামলায় ইরানের শীর্ষ সামরিক নেতারা নিহত হন। এদের মধ্যে রয়েছেন, সলামি রেভল্যুশনারি গার্ডের কমান্ডার ইন চিফ জেনারেল হোসেইন সালামি ও সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ মোহাম্মদ বাগেরি।
এছাড়া ইসরায়েলের হামলায় ইরানের ২ পরমাণু বিজ্ঞানী নিহত হয়েছেন। তাসনিম নিউজের বরাতে আলজাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।
ইরানের তাসনিম সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় পরমাণু বিজ্ঞানী মোহাম্মদ মেহেদি তেহরানচি এবং ফেরেদুন আব্বাসি নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১৩ জুন) সকালে ইসরায়েলে পাল্টা হামলা চালায় ইরান। গত কয়েক ঘণ্টায় ইরান ইসরায়েলে ১০০টিরও বেশি ড্রোন ছুঁড়েছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী সেগুলো ভূপাতিত করার চেষ্টা করছে। সূত্র: রয়টার্স, আলজাজিরা, বিবিসি।
/এসটিও