আরামদায়ক বাহনের কথা বললে সবার আগে আসে ট্রেনের নাম।
ট্রেন আরামদায়ক, আনন্দদায়ক এবং তুলনামূলক নিরাপদও। যানজটে পড়তে হয় না। ঝাক্কি ঝামেলা নেই। বমি হওয়ার আশঙ্কাও প্রায় কম। আমাদের দেশে ট্রেনে প্রায় জায়গায় দ্রুত পৌঁছানো যায়। কিন্তু অনেকে ট্রেন যাতায়াতের সময়
টিকিট কাটেন না। কেউ আবার টিকিট না কেটে টিটিকে ভাড়ার চেয়ে কম টাকা ধরিয়ে দেন।
প্রশ্ন হলো, ট্রেনে টিকিট ছাড়া যাত্রা করে ফেললে দায়মুক্তির উপায় কী? টিকিট না কেটে টিটিকে টাকা দেওয়া বৈধ কি না?
টিকিট না কেটে ট্রেনে ভ্রমণ করা ইসলাম এবং রাষ্ট্রীয় আইনে অপরাধ। এটি বৈধ নয়। টিটিক ছাড়া ভ্রমণ করলে রাষ্ট্র রাজস্ব হারায়। রাষ্ট্রকে তার অধিকার থেকে, তার পাওনা থেকে বঞ্চিত করা হয়। যা জায়েজ নয়। কোনো ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রকে জবরদখলমূলকভাবে কারও সম্পদ গ্রাস করার অধিকার দেওয়া হয়নি। আল্লাহ বলেছেন, ‘হে ঈমানদাররা, তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না।’ (সুরা নিসা, আয়াত : ২৯)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ অন্যের সম্পদ খেলাচ্ছলে কিংবা সুনিপুণ কৌশলে গ্রহণ করবে না। আর যদি কেউ অন্যের লাঠিও নেয়, সে যেন তা ফেরত দেয়।’ (বায়হাকি : ৬/৯২)
ট্রেনের টিকিট না কেটে টিটিকে ভাড়ার সমপরিমাণ টাকা বা ভাড়ার চেয়ে কম টাকা দেওয়া বৈধ নয়। এটা ভাড়া হিসেবে গণ্য হবে না। এটা হবে ঘুষ। ইসলামে ঘুষ হারাম। তবে টিটি যদি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যক্তির নামে টাকা পৌঁছে দেয়, তাহলে জায়েজ হবে। ইবনে আমর (রা.) বলেন, ‘ঘুষ গ্রহণকারী ও ঘুষ প্রদানকারী দুজনকেই রাসুলুল্লাহ (সা.) অভিসম্পাত করেছেন।’ (জামে তিরমিজি, হাদিস : ১৩৩৭)
ট্রেনে যাতায়াতের সময় টিকিট না কাটা কিংবা টিটিকে টাকা দেওয়া ব্যক্তির করণীয় হলো, ভাড়ার পরিমাণ টাকার একটি স্ট্যান্ডিং (সিটবিহীন) টিকিট কাটতে হবে। ওই টিকিট দিয়ে ট্রেনে ভ্রমণ করা যাবে না। ছিঁড়ে ফেলে দিতে হবে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২/২৭; ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া : ৪/৪১৭; ইমদাদুল ফাতাওয়া : ৩ / ৪৪৫)
লেখক : আলেম ও সাংবাদিক