জাতিসংঘের তদন্ত কমিশন চলতি মাসের শুরুতে জানায়, গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েল গণহত্যা চালিয়েছে। এরপরই জাতিসংঘের একদল বিশেষজ্ঞ ও স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে খেলাধুলায় নিষেধাজ্ঞার দাবি তোলেন। এবার গাজায় গণহত্যার প্রেক্ষিতে ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক ফুটবল প্রতিযোগিতায় নিষিদ্ধ চায় ইউরোপিয়ান ফুটবল সংস্থা উয়েফা।
এই বিষয়ে ভোটাভুটির পথে এগোচ্ছে তারা। বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) এই তথ্য জানিয়েছে।
উয়েফার ২০ সদস্যবিশিষ্ট নির্বাহী কমিটির বেশিরভাগ সদস্য ইসরায়েলের সদস্যপদ স্থগিত করার প্রস্তাবকে সমর্থন করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সূত্রগুলো নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, কারণ বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল।
ইসরায়েল নিষিদ্ধ হলে, জাতীয় দলসহ তাদের ক্লাবগুলো আন্তর্জাতিক ফুটবলে অংশ নিতে পারবে না। এর মধ্যে ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচগুলোও রয়েছে। ইসরায়েলের পুরুষ দল আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে নরওয়ে ও ইতালির বিপক্ষে বাছাই ম্যাচ খেলতে যাচ্ছে।
এদিকে, বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা এই নিষেধাজ্ঞা সমর্থন করবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। কেননা, ফিফার প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেশ ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।
২০২৬ সালের বিশ্বকাপ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বিশ্বকাপ সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের সহায়তা, বিশেষ করে খেলোয়াড়, কর্মকর্তা এবং বিপুল সংখ্যক দর্শকদের ভিসা প্রক্রিয়ায় সহায়তা ফিফার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
ফিফার নির্বাহী পরিষদের বৈঠক আগামী সপ্তাহে জুরিখে অনুষ্ঠিত হবে। ৩৭ সদস্যবিশিষ্ট এই পরিষদের মধ্যে উয়েফার আটজন প্রতিনিধি রয়েছেন। তবে এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ফিফা।
সময়ের আলো/এনএ