মজুমদারের অনুপস্থিতিতে নাসা গ্রুপ চালাচ্ছে বিএনপি নেতা

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজনীতি

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ট ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত এক্সিম ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশের বড় শিল্পগোষ্ঠী নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল

2025-10-27T20:44:10+00:00
2025-10-27T21:03:32+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬,
১৮ আষাঢ় ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
রাজনীতি
মজুমদারের অনুপস্থিতিতে নাসা গ্রুপ চালাচ্ছে বিএনপি নেতা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৫, ৮:৪৪ পিএম  আপডেট: ২৭.১০.২০২৫ ৯:০৩ পিএম
নজরুল ইসলাম মজুমদার ও কাজী রফিকুল ইসলাম। সংগৃহীত ছবি
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ট ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত এক্সিম ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশের বড় শিল্পগোষ্ঠী নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার। ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে ৭৮১ কোটি ৩১ লাখ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়। এসব মামলায় বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন। 

তবে তার অনুপস্থিতিতে গ্রুপটির ব্যবসা পরিচালনা নিয়ে নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযোগ উঠেছে নাসা গ্রুপের বেশ কিছু ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড এখন দেখভাল করছেন বগুড়া–১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য কাজী রফিকুল ইসলাম।

কাজী রফিকুল ইসলাম নাসা গ্রুপের মালিক নজরুল ইসলাম মজুমদারের ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী বন্ধু হিসেবে পরিচিত। অভিযোগ রয়েছে, রফিকুল ইসলাম এখন নাসার রিয়েল এস্টেট–সংক্রান্ত কার্যক্রম দেখভালের দায়িত্ব নিয়েছেন। এটি নাসা গ্রুপেরই একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এছাড়াও তিনি বর্তমানে র‍্যান্স রিয়েল এস্টেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

অপরদিকে যৌথ মূলধনী কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরের (আরজেএসি) নথির তথ্য বলছে, ২০০৮ সালে নজরুল ইসলাম মজুমদার র‍্যান্স রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠা করেন। তখন তিনি আরজেএসির চেয়ারম্যান ছিলেন। এই কোম্পানির অন্যান্য শেয়ারহোল্ডার মধ্যে ছিলেন মো. সাইদুর রহমান, মেজর (অব.) খন্দকার নুরুল আফসার, কাজী রফিকুল ইসলাম ও তার স্ত্রী কাজী রাশিদা ইসলাম। প্রত্যেকের সমান ৫ হাজার করে শেয়ার ছিল। ২০১৫ সালের মার্চে নজরুল ইসলাম মজুমদার চেয়ারম্যান পদ ছাড়েন এবং মো. সাইদুর রহমানকে চেয়ারম্যান ও কাজী রফিকুল ইসলামকে এমডি করেন।

ওকে প্রপার্টিজ লিমিটেড নামে কাজী রফিকুল ইসলামের নিজেরও একটি প্রতিষ্ঠান আছে। এই প্রতিষ্ঠানে তিনি ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং তার স্ত্রী চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বে আছেন।

যদিও নাসা গ্রুপ রফিকুল ইসলামের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে গ্রুপটির ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার সাইফুল আলম জানান, চেয়ারম্যান কারাগারে যাওয়ার আগে থেকেই অপারেশনাল দায়িত্ব তিনি দেখতেন। এখন তার সঙ্গে অপর ভাইস চেয়ারম্যান রঞ্জন চৌধুরীও যুক্ত হয়েছেন। তাদের দাবি, তারাই সবকিছু পরিচালনা করছেন।

তবে নাসা গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান স্বীকার করেন যে, কাজী রফিকুলসহ কিছু ব্যবসায়ী চেয়ারম্যানের বিভিন্ন কোম্পানিতে অংশীদার ছিলেন। কিন্তু সেগুলো আলাদা প্রতিষ্ঠান, নাসা গ্রুপের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই বলে জানান তিনি।

প্রায় পনের বছর বাংলাদেশ এ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি) এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন নজরুল ইসলাম মজুমদার। গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আত্মগোপনে যান মজুমদার। পরে ১ অক্টোবর তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। 

১৯৯০ সালে তিনি ‘অ্যাডভান্স অ্যাপারেল ম্যানুফ্যাকচার অ্যান্ড সাপ্লাই’ এর মাধ্যমে নাসা গ্রুপ গড়ে তোলেন। পরে ধীরে ধীরে এটি হয়ে ওঠে দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীতে। অ্যাপারেলস, টেক্সটাইল, স্পিনিং, ব্যাংক ও আবাসন খাতে তাদের ব্যবসা ছড়িয়ে পড়ে।

মজুমদারের গ্রেফতারের পর নাসা গ্রুপে দেখা দেয় প্রশাসনিক ও আর্থিক অস্থিরতা। উৎপাদন ব্যাহত হয়, বেতন–ভাতা বকেয়া পড়ে। ২৩ সেপ্টেম্বর কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের এক ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে নাসা গ্রুপের ১৬টি কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে ১০টি, গাজীপুরে ২টি, চট্টগ্রাম ইপিজেডে ২টি এবং কুমিল্লা ইপিজেডে ২টি কারখানা। সবগুলোই গার্মেন্টস ও টেক্সটাইল খাতের। বাকি ৯টি কারখানা এখনো চালু আছে।


এরপর ৯ অক্টোবর গ্রুপটির শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধ তদারকির জন্য সরকারের যুগ্ম সচিব ও কলকারখানা পরিদর্শন অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক আরিফ আহমেদ খানকে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়।

জানতে চাইলে নাসার বর্তমান ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তিনি জানান, অল্প কিছুদিন হলো দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি। এখনো সবকিছু দেখে উঠতে পারেননি। তিনি বন্ধ কারখানাগুলোর শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধ নিশ্চিত করা এবং চালু কারখানাগুলো যাতে ঠিকঠাকমত চলতে পারে, তা দেখভাল ও সমন্বয় রাখার কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, রফিকুল ইসলাম এখন নজরুল ইসলাম মজুমদারের ব্যবসা বাঁচাতে নাসার কিছু কার্যক্রমে সরাসরি সম্পৃক্ত হয়েছেন। গ্রুপের অস্থিরতার মধ্যেই বগুড়ার সোনাতলা ও সারিয়াকান্দি এলাকায় আবারও সক্রিয় হয়েছেন সাবেক এই সাংসদ। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সোনাতলা উপজেলার এক শিক্ষক জানান, ওই এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ১৮৬টি মামলা থাকলেও কাজী রফিকুলের নামে একটিও নেই। আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় ছিলেন বলেই বেঁচে গেছেন তিনি। এখন আবার মজুমদারের ব্যবসা সামলাচ্ছেন।

এসকে/ 




  বিষয়:   এক্সিম ব্যাংক  কাজী রফিকুল ইসলাম  নজরুল ইসলাম মজুমদার  নাসা গ্রুপ  এমপি  বিএনপি 


Loading...
Loading...
রাজনীতি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: