কোনো মুসলিম ব্যক্তি মারা গেলে জানাজার নামাজ পড়া হয়। জানাজার নামাজ মূলত কোনো মৃত ব্যক্তির ক্ষমা প্রার্থনা করার উদ্দেশ্যে পড়া হয়। জানাজার নামাজ ফরজে কেফায়া। কয়েকজন মিলে নামাজ আদায় করলেও সবার পক্ষ থেকে পড়া হয়ে যায়। তবে কেউ না পড়লে সবাই গুনাহগার হয়ে যায় এবং সবাইকে এর হিসাব দিতে হবে।
জানাজার নামাজ মূলত চার চাকবিরের। প্রথম তাকবির পড়ার পর উভয় হাত কান পর্যন্ত ওঠাতে হয়। এরপর নাভির নিচে হাত বেঁধে সানা পড়তে হয়। তবে সানার মধ্যে ওয়া তাআলা জাদ্দুকা পড়ে ‘ওয়া জাল্লা সানাউকা’পড়তে হয়। এরপর দরুদে ইবরাহিম পড়তে হয়। তারপর তাকবির পড়ে নির্দিষ্ট দোয়া পড়তে হয়, সবশেষে চতুর্থ তাকবির বলে সালাম ফেরাতে হয়।
শিশু ও বয়স্ক বিবেচনায় জানাজায় মৃতের জন্য যে দোয়া পড়া হয়, সে ক্ষেত্রে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। মৃত ব্যক্তি যদি প্রাপ্তবয়স্ক নারী বা পুরুষ হয় তবে নিচের দোয়াটি পড়তে হয়-
আরবি:
للَّهُمَّ اغْفِرْ لِحَيِّنَا وَمَيِّتِنَا وَشَاهِدِنَا وَغَائِبِنَا وَصَغِيرِنَا وَكَبِيرِنَا وَذَكَرِنَا وَأُنْثَانَا اللَّهُمَّ مَنْ أَحْيَيْتَهُ مِنَّا فَأَحْيِهِ عَلَى الإِسْلاَمِ وَمَنْ تَوَفَّيْتَهُ مِنَّا فَتَوَفَّهُ عَلَى الإِيمَانِ اللَّهُمَّ لَا تَحْرِمْنَا أَجْرَهُ، وَلَا تُضِلَّنَا بَعْدَهُ
বাংলা: আল্লাহুম্মাগফির লি হাইয়্যিনা ওয়া মাইয়্যিতিনা ওয়া শাহিদিনা ওয়া গায়েবিনা ওয়া সগিরিনা ওয়া কাবিরিনা ওয়া জাকারিনা ওয়া উনছানা, আল্লাহুম্মা মান আহয়াইতাহু মিন্না ফাআহয়িহি আলাল ইসলাম ওয়া মান তাওয়াফফাইতাহু মিন্না ফাতাওয়াফফাহু আলাল ইমান। আল্লাহুম্মা লা তাহরিমনা আজরাহু ওয়া আলা তুদিল্লানা বা-দাহু।
অর্থ: হে আল্লাহ, আমাদের জীবিত এবং মৃতদের, উপস্থিত এবং গায়েবদের, ছোট ও বড়দের এবং আমাদের নারী-পুরুষ সবাইকে ক্ষমা করুন। হে আল্লাহ, আপনি আমাদের মধ্য থেকে যাকে জীবিত রাখবেন, তাকে ইসলামের ওপরই জীবিত রাখুন। যাকে মৃত্যু দান করবেন, তাকে ইমানের সঙ্গেই মৃত্যু দিন। হে আল্লাহ! এর সওয়াব থেকে আমাদেরকে বঞ্চিত করবেন না এবং এরপর আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করবেন না। (সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ৩২০১; সুনান আত তিরমিজি, হাদিস: ১০২৪)
অন্যদিকে মৃত ছেলে শিশুর ক্ষেত্রে নিচের দোয়াটি পড়তে হয়-
আরবি: اللَّهُمَّ اجْعَلْهُ لَنَا فَرَطًاً , وَّاجْعَلْهُ لَنَا أَجْرًا وَّذُخْرًا , اَللَّهُمَّ اجْعَلْهُ لَنَا شَفِيْعًا وَّمُشَفَّعًا
বাংলা: আল্লাহুম্মাজআলহু লানা ফারাতঁও ওয়াজআলহু লানা আজরাঁও ওয়া জুখরাঁও ওয়াজআলহু লানা শা-ফিআও ওয়া মুশাফ্ফাআ।
অর্থ: হে আল্লাহ! এ শিশুকে আমাদের নাজাত ও আরামের জন্য আগে পাঠিয়ে দাও, তার জন্য যে দুঃখ তা আমাদের প্রতিদান ও সম্পদের কারণ বানিয়ে দাও, তাকে আমাদের জন্য সুপারিশকারী বানাও, যা তোমার দরবারে কবুল হয়।
তবে মৃত শিশু যদি মেয়ে হলে নিচের দোয়াটি পড়তে হয়-
আরবি: اللَّهُمَّ اجْعَلْهَا لَنَا فَرَطًاً , وَّاجْعَلْهَا لَنَا أَجْرًا وَّذُخْرًا , اَللَّهُمَّ اجْعَلْهَا لَنَا شَفِيْعَةً وَّمُشَفَّعَة
বাংলা: আল্লাহুম্মাজআলহা লানা ফারাতঁও ওয়াজআলহা লানা আজরাঁও ওয়া জুখরাঁও ওয়াজআলহা লানা শা-ফিআতাঁও ওয়া মুশাফ্ফাআহ।
অর্থ: হে আল্লাহ! এই বাচ্চাকে আমাদের নাজাত ও আরামের জন্য আগে পাঠিয়ে দাও, তার জন্য যে দুঃখ তা আমাদের প্রতিদান ও সম্পদের কারণ বানিয়ে দাও, তাকে আমাদের জন্য সুপারিশকারী বানাও, যা তোমার দরবারে কবুল হয়।
এ ক্ষেত্রে কারও জানাজায় অংশ নিলেও আছে বিশেষ সওয়াব। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত সহিহ বুখারি হাদিসের ৪৫ নম্বর আয়াতে এসেছে, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে ও সওয়াবের আশায় কোনো মুসলিমের জানাজায় অনুগমন করে এবং তার জানাজা আদায় ও দাফন সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত সঙ্গে থাকে, সে দুই কিরাত সওয়াব নিয়ে ফিরবে। প্রতিটি কিরাত হলো উহুদ পর্বতের মতো। আর যে ব্যক্তি শুধু জানাজা আদায় করে এবং দাফন সম্পন্ন হওয়ার আগেই চলে আসে, সে ব্যক্তি এক কিরাত সওয়াব নিয়ে ফিরবে।
তবে জানাজা নিয়ে প্রায়সময় একটি কথা শোনা যায় যে, কারও জানাজায় যদি অনেক মানুষ হয়, তাহলের তাদের শাফায়াত বা সুপারিশ আল্লাহ কবুল করেন। অর্থাৎ, মৃত ব্যক্তির জন্য ওইসব মানুষ দোয়া করলে তা কবুল হয়। আবার কেউ কেউ বলেন, যদি কারও জানাজায় ১০০ জন মানুষ হয়, তাহলে ওই ব্যক্তির জন্য তারা শাফায়াত বা সুপারিশ করলে অবশ্যই সেই সুপারিশ কবুল হয়। আসলেই কি তাই?
এ বিষয়ে আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসটি হলো- রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- কোনো মুসলিম যদি মারা যায় এবং একশ’র মতো মুসলিমের একটি দল তার সালাতুল জানাজা আদায় করে এবং তার জন্য শাফায়াত বা সুপারিশ (দোয়া) করে তবে তার জন্য অবশ্যই তাদের শাফায়াত কবুল করা হবে। এ ক্ষেত্রে আলী (রহ.) তার বর্ণনায় সংখ্যাটি একশ বা তার বেশির কথা উল্লেখ করেছেন। (সুনান আত তিরমিজি, হাদিস: ১০২৯)
/ইউএমএইচ