পৃথিবীর বুকে সবচেয়ে চির সত্য হলো মৃত্যু। প্রত্যেক প্রাণীকে মরতে হবে। ছারপোঁকা থেকে শুরু করে প্রাণওয়ালা যত সৃষ্টিজীব আছে, সবাইকে মৃত্যুর অবশ্যম্ভাবী স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। মৃত্যুর কবল থেকে জগতের কোনো তাবৎ পরাশক্তি কোনো প্রযুক্তি কাউকে বাঁচাতে পারবে না। আল্লাহ বলেন, ‘প্রত্যেক প্রাণীকে আস্বাদন করতে হবে মৃত্যু।’ (সুরা আনয়াম, আয়াত : ১৮৫)
কেউ মৃত্যুকে প্রতিহত করতে পারবে না। নির্ধারিত সময় থেকে পূর্বপরে মৃত্যু ঘটাতে সক্ষম হবে না। আল্লাহ বলেন, ‘যখন তাদের (মৃত্যুর) সময় হয় তখন তারা মুহূর্তকাল অগ্রবর্তী ও পশ্চাতবর্তী হতে পারে না।’ (সুরা নাহল, আয়াত : ৬১)
মৃত্যুর পর মৃত ব্যক্তির প্রতি পরিবারের ও সমাজের বিভিন্ন দায়িত্ব থাকে। ইসলাম মৃত ব্যক্তির প্রতি জীবিতদের ওপর বিশেষ কিছু দায়িত্ব আরোপ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে মৃতের জন্য দোয়া করা, দাফনের ব্যবস্থা করা এবং শেষযাত্রায় অংশগ্রহণ করা।
ইসলামে মৃত ব্যক্তিকে গোসল দেওয়া অত্যাবশ্যক। তবে কোনো ব্যক্তি মারা যাওয়ার পর তার নখ, চুল, অবাঞ্ছিত পশম কাটা যাবে না। নখ, চুল বড় থাকলে পরিবারের লোকদের উচিত হলো, জীবদ্দশায়ই তা কেটে দেওয়া। আইয়ুব (রহ.) বলেন, ‘মুহাম্মাদ ইবনে সিরিন (রহ.) মৃত ব্যক্তির নাভির নিচের পশম অথবা নখ কেটে দেওয়া অপছন্দ করতেন। তিনি বলতেন, অসুস্থ ব্যক্তির পরিবারের জন্য উচিত হলো, অসুস্থ থাকা অবস্থায়ই (মৃত্যুর আগেই) এসব কিছু পরিষ্কার করে দেওয়া।’ (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, বর্ণনা : ১১০৫৪)
উম্মুল মুমিনীন হজরত আয়েশা (রা.) এমন করা থেকে বিরত থাকতে বলেছেন। তিনি এ বিষয়ে নিষেধও করেছেন। প্রখ্যাত তাবেয়ি ইবরাহিম নাখয়ি (রহ.) বলেন, উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা.) এক মৃতের চুল আঁচড়ে দিতে দেখে বললেন, তোমরা মৃতের চুল কেন আঁচড়াচ্ছ? (কিতাবুল আসার : ১/২৪২)
ইবনে জুরাইজ (রহ.) বলেন, ‘এক লোক হজরত আতা (রহ.)-কে প্রশ্ন করল, মৃতের চুল বড় থাকলে তা কি কেটে দেওয়া যাবে? তিনি বললেন, না, মারা যাওয়ার পর তা কাটা যাবে না। (মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক, বর্ণনা : ৬২২৯; কিতাবুল আসার, ইমাম মুহাম্মাদ, বর্ণনা : ২২৬; আদ্দুররুল মুখতার, ২/১৯৮)
আরআর