ইসলাম ধর্মের পাঁচটি স্তম্ভের একটি হজ। ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের কাছে পবিত্র হজ পালন একটি বিশেষ ইবাদত। বিশ্বের প্রায় সব মুসলমান-ই মনে মনে জীবনে অন্তত একবার হলেও হজ কিংবা ওমরাহ করার ইচ্ছে লালন করেন। হজ ও ওমরাহ সবসময়ই শারীরিক ভ্রমণের চেয়ে অনেক বেশি কিছু। নিঃসন্দেহে এটি ভক্তি, আশা এবং ধৈর্যের আবেগপূর্ণ অংশ। প্রতি বছর লাখ লাখ মানুষ আধ্যাত্মিক স্বপ্ন নিয়ে সৌদি আরব ভ্রমণে যান, যাদের অনেকেই তীব্র তাপ মোকাবিলা করার চ্যালেঞ্জও বহন করেন। শরীরের জন্য অনেকেই হয়তো সামলে নিতে পারেন না। আবার অনেকেই তীব্র ইচ্ছেশক্তি কাজে লাগিয়ে এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আসেন। হজযাত্রীদের কষ্ট কমাতে এবার উদ্যোগ নিয়েছে সৌদি প্রশাসন। এ বছর সৌদি আরব সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় একটি অর্থপূর্ণ উদ্ভাবন চালু করেছে। তাপ প্রতিফলিত এবং শীতলকারী উপকরণ দিয়ে তৈরি ‘কুলিং ইহরাম' বা 'শীতল ইহরাম'-এর ব্যবস্থা করছে দেশটি।
জানা গেছে, পবিত্র এ কার্যক্রমে হজযাত্রীদের নিরাপদ এবং আরও আরামদায়ক থাকতে সাহায্য করার জন্য পোশাকটি ডিজাইন করা হয়েছে।
শীতল ইহরাম কী?
মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, শীতল ইহরাম দেখতে হুবহু ঐতিহ্যবাহী ইহরামের মতো। এটি সাদা এবং দেহকে শালীন রাখে। নতুনত্বটি কেবল কাপড়ের মধ্যে নিহিত।
সংবাদমাধ্যমগুলো আরও জানায়, পোশাকটি এমন উন্নত উপাদান ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে, যা সূর্যালোক প্রতিফলিত করে। সেই সঙ্গে বায়ুপ্রবাহ বেশ ভালো দেয় এবং দীর্ঘ সময় বাইরে থাকার সময় শরীরকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে।
শুধু তাই নোয়, ঘামের সংস্পর্শে এলে এই পোশাকটি দ্রুত শুকিয়ে যায়। এর ফলে, হজযাত্রীদের সতেজতা বজায় থাকে এবং প্রখর রোদের নিচে সাধারণত ভার কমায় বা আঠালো ভাব কম দেখা দেয়। এসব মিলিয়ে পোশাকটি ত্বকে তাপের অনুভূতি কমাতে সাহায্য করতে পারে।
শারীরিকভাবে যাদের দীর্ঘক্ষণ গরমে থাকেতে কষ্ট হয়, এবার হজযাত্রায় এ শীতল ইহরাম তাদের জন্য নিশ্চয়ই আশীর্বাদ। সেই হিসেবে সৌদি আরব সরকারের এ উদ্যোগ প্রশংসার দাবিদার।
সময়ের আলো/এনএ