মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ফুটবল প্রতিনিধিদলের কয়েকজন সদস্যকে ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এরই জেরে ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বের ড্র অনুষ্ঠানে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে ইরানের ক্রীড়াবিষয়ক কর্তৃপক্ষ।
ইরান ফুটবল ফেডারেশনের মুখপাত্র রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, ‘আমরা ফিফাকে জানিয়েছি যে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা–সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের সঙ্গে খেলাধুলার কোনো সম্পর্ক নেই। এমন পরিস্থিতিতে আমাদের প্রতিনিধিরা ড্র অনুষ্ঠানে অংশ নেবে না।’
ইরানি ক্রীড়াবিষয়ক জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ভারজেশ ৩ জানায়, ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজসহ বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্যের ভিসা আবেদন যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাখ্যান করেছে। এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে তাজ বলেন, এটি একটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, যা আন্তর্জাতিক ফুটবলের চেতনার সঙ্গে যায় না।
তিনি আরও দাবি করেন, ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে যুক্তরাষ্ট্রের এই আচরণ বন্ধে হস্তক্ষেপ করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
যদিও প্রতিনিধিদলের চার সদস্যকে ভিসা দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে আছেন জাতীয় দলের কোচ আমির ঘালেনোয়ি, তবুও ফেডারেশনের শীর্ষ কর্মকর্তারা ভিসা না পাওয়ায় পুরো দলই ড্র অনুষ্ঠান বর্জন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ইরান ইতোমধ্যে ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলতে যোগ্যতা অর্জন করেছে। এটি তাদের টানা চতুর্থ এবং মোট সাততম বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ হতে যাচ্ছে। তবে গ্রুপ পর্ব পেরোনোর সাফল্য এখনও পায়নি দেশটি। ১৯৯৮ বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ২–১ গোলের ঐতিহাসিক জয় এখনো ইরানের বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত।
২০২৬ সালের বিশ্বকাপ আয়োজন করবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। আয়োজক দেশ হওয়ায় ড্র অনুষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রে হলেও ইরানের এই সিদ্ধান্ত এক ধরনের কূটনৈতিক উত্তেজনাকে নতুন করে সামনে আনছে।
দু’দেশের মধ্যে চার দশকেরও বেশি সময় ধরে তিক্ত সম্পর্ক বিরাজ করছে। সাম্প্রতিক সময়ে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা চলছিল, যা গত এপ্রিল মাসে পুনরায় শুরু হয়। আলোচনার মূল ইস্যু ছিল তেহরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার, যা ইরান ‘অবিচ্ছেদ্য অধিকার’ বলে দাবি করে।
তবে জুনের মাঝামাঝি সময়ে ইসরায়েলের অভূতপূর্ব সামরিক হামলার পর অঞ্চলজুড়ে সংঘাত শুরু হলে আলোচনাটি থমকে যায়। এই সময় যুক্তরাষ্ট্রও স্বল্প সময়ের জন্য সংঘাতে জড়ায় এবং ইরানের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়। এর ফলে দু’দেশের সম্পর্ক আরও খারাপের দিকে যায়।
/এমএইচআর