ফুটবলের বৃহস্পতি যেন তুঙ্গে। মাঠের পারফরম্যান্সে পুরুষ এবং নারী দল যেখানে একের পর এক সাফল্য বয়ে নিয়ে আসছে, তেমনি মাঠের বাইরেও দেশের ফুটবলের পুরোনো জৌলুস আবারও ফিরে আসছে। ম্যাচ আয়োজন করে কোটি টাকা আয় করছে দেশের ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা বাফুফে। আবার পৃষ্ঠপোষকদের উপস্থিতিও ভিন্ন মাত্রা যোগ করছে। কয়েক দিন আগে পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান বিজেএমইএ বাফুফের সঙ্গে যুক্ত হয়। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) বাফুফের নতুন ডেভেলপমেন্ট পার্টনার হিসেবে যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ স্টিল রি-রোলিং মিলস (বিএসআরএম)।
১০ বছরের জন্য বাফুফের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বুধবার বাফুফে ভবনে দুই পক্ষের চুক্তি স্বাক্ষর হয়। যেখানে বাফুফের পক্ষে সভাপতি তাবিথ আউয়াল এবং বিএসআরএমের পক্ষে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমের আলী হুসেন চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এ সময় বাফুফের সহ-সভাপতি ও মার্কেটিং কমিটির চেয়ারম্যান ফাহাদ করিম ছাড়াও উভয় পক্ষের অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
চুক্তির আওতায় বাফুফের কোচেস ট্রেনিং প্রোগ্রাম, টেকনিক্যাল প্রোগ্রাম, এলিট একাডেমিসহ বাফুফের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত হবে বিএসআরএম। দশ বছরের চুক্তির মধ্যে থাকছে দুটি ধাপ। প্রথম পাঁচ বছরে এক ধরনের আর্থিক সুবিধা বিএসআরএম দেবে বাফুফেকে। এই পর্বের কার্যক্রম মূল্যায়নের পর পরবর্তী পাঁচ বছরের আর্থিক অংক নির্ধারিত।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাফুফের সভাপতি বলেন, ‘এটা আমাদের জন্য খুবই খুশির সংবাদ। দশ বছর আমরা বিএসআরএমকে ফুটবলের পার্টনার হিসেবে পেয়েছি। বাফুফেতে কখনো এত দীর্ঘমেয়াদি কোনো পার্টনার আগে ছিল না। বিএসআরএম স্থায়িত্ব, নিরাপত্তা ও শক্তিশালীকরণ নীতিতে বিশ্বাসী। বাফুফের সঙ্গে তাদের এই বৈশিষ্ট্য দারুণভাবে মিলে।’
বিএসআরএমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমের আলী হুসেন ফুটবলে যুক্ত হওয়া প্রসঙ্গে বলেন, ‘ফুটবল নাম্বার ওয়ান খেলা বিশ্বব্যাপী। আমরা নির্মাণ খাতে নাম্বার ওয়ান, চাই ফুটবলও দেশে নাম্বার ওয়ান থাকুক। নারী ও পুরুষ উভয় দলই এখন ভালো পারফরম্যান্স করছে। আমরা চাই ফুটবল বিকেন্দ্রীকরণ। আমরা ফুটবল উন্নয়নের অংশীদার।’
বাফুফে নির্বাহী কমিটি চার বছর মেয়াদের। ইতিমধ্যে এক বছর পার হয়েছে। বাফুফে সভাপতি তাবিথ আশাবাদী কমিটিতে না থাকুক কিংবা না থাকুক দুই পক্ষের চুক্তি চলমান থাকবে।
বাফুফে সহ-সভাপতি ফাহাদ করিম বিএসআরএমের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে তাদের দশ বছরের চুক্তি। পাঁচ বছর পর এটি পর্যালোচনা হবে। প্রথম পাঁচ বছর তারা একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ বাফুফেকে প্রদান করবে।’
পুরুষ জাতীয় দলে ইউসিবি, নারী দলে ঢাকা ব্যাংক, ইয়ুথ পর্যায়ে রেডিয়্যান্ট ফার্মাসিটিক্যাল, লিগে ইউনাইটেড হেলথ কেয়ার পৃষ্ঠপোষকতা করছে।
বিএসআরএম ফুটবলের সুনির্দিষ্ট কোথায় সহায়তা করবে এই প্রশ্নের উত্তরে ফাহাদ বলেন, ‘আমরা তাদের আগামী বছরের বাফুফের কর্মকাণ্ডের তালিকা দিয়েছি। সেখান থেকে তারা পছন্দ করবে কোনটা কোনটার সঙ্গে থাকবে, আবার আমাদেরও একটা প্রাধান্য থাকবে। আগামী সপ্তাহে আলোচনা করে আগামী বছরের বিষয়টি ঠিক হবে।’
বাফুফের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজের ব্যাকগ্রাউন্ড দিন তিনেক আগে হলুদ হয়েছিল। ডেভেলপমেন্ট পার্টনার বিএসআরএমের অনুরোধেই এটা করেছে ফেডারেশন।
বিএসআরএমের ব্র্যান্ডিং নিয়ে ফাহাদ বলেন, ‘তারা আমাদের ডেভেলপমেন্ট পার্টনার। ফেডারেশনের বোর্ডে বা আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে তাদের লোগো থাকবে। স্পেসিফিক কিছু বিষয়ে অন্যদের সঙ্গে তাদের লোগোও থাকবে। এখানে তাদের শর্ত স্টিল বা নির্মাণ সংক্রান্ত অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করা যাবে না। আমরা এটা অনুসরণ করি যেমন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অন্য কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান যুক্ত করি না।’
সময়ের আলো/এনএ