উদীচী অফিসে হামলার প্রতিবাদে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিবিধ

উদীচী অফিসে হামলা ও অগ্নি সংযোগকারীদের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার না করলে সারা দেশব্যাপী দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ার দিয়েছেন

2025-12-20T14:24:54+00:00
2025-12-20T14:40:47+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬,
২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
বিবিধ
উদীচী অফিসে হামলার প্রতিবাদে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শনিবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০২৫, ২:২৪ পিএম  আপডেট: ২০.১২.২০২৫ ২:৪০ পিএম  (ভিজিট : ২৫০)
উদীচী অফিসে হামলার প্রতিবাদে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম। ছবি : সময়ের আলো

উদীচী অফিসে হামলা ও অগ্নি সংযোগকারীদের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার না করলে সারা দেশব্যাপী দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ার দিয়েছেন সংগঠনটি। একইসঙ্গে অন্তবর্তী সরকারের পদত্যাগ দাবি করে উদীচী।


শনিবার (২০ ডিসেম্বর) উদীচীর কার্যালয়ের হামলা ও অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদে রাজধানীর পল্টন মোড় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উদীচির কার্যালয়ের সামনে সত্যেন সেন চত্বরে এসে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা এ হুঁশিয়ারি দেন।


উদীচীর সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে বলেন, উদীচীর কার্যালয়ের হামলা ও অগ্নিসংযোগ, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের অফিসে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। ছায়া নোটের উপরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। ময়মনসিংহের ভালুকায় এক হিন্দু লোককে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে হত্যা পরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে লাশ। এই ঘটনাগুলো সব একই সূত্রে গাঁথা। মৌলবাদী গোষ্ঠী একের পর এক ঘটনা ঘটিয়ে চলেছে। অথচ সরকার নির্বিকার। প্রশাসন নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে। আমরা শরিফ ওসমান হাদির হত্যার বিচার চাই। কিন্তু এই হাদির হত্যাকে কেন্দ্র করে উগ্র জঙ্গিবাদী গোষ্ঠী যে তান্ডব লীলা চালাচ্ছে সেটি কোনভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।


পুলিশ এখনও পর্যন্ত হত্যাকারীকে খুঁজে বের করতে পারেনি। এরপর হামলা হবে উদীচীতে, তা প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছে। দেশে প্রশাসন আছে কি না প্রশ্ন আছে? অবিলম্বে এই সরকারের পদত্যাগ দাবি করছি। তারা কি মানুষের নিরাপত্তা দিতে চায়। নাকি আমেরিকার প্রেসক্রিপশন বাস্তবায়ন করতে চায়।


তিনি বলেন, সারাদেশে আমাদের কর্মীরা রয়েছে। আমাদের এই কর্মসূচি চলতে থাকবে। অবিলম্বে যারা হামলা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে আমরা বসে থাকবো না। আমরা দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবো। আমরা মানুষের পক্ষে গান গেয়েছি ও স্লোগান দিয়েছি। আমরা সংস্কৃতি বিকাশের মধ্য দিয়ে মানুষের কথা বলি। সংস্কৃতির যে উপাদানগুলো আছে, তার মধ্য দিয়ে মানুষের কথা বলি। আমরা কালাকানুনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করি। যে আইন মানুষের কথা বলার অধিকার কেড়ে নেয়, সেই আইনের বিরুদ্ধে আমরা কথা বলেছি। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে কথা বলি। মানুষের কথা বলার অধিকার যারা খর্ব করতে চাইবে আমাদের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে রাস্তায় নেমে আসবো। আমাদের যতবার ধ্বংসের চেষ্টা করা হবে, ততবার আমরা রাস্তায় নেমে আসবে। যশোরের শিল্পীর উপর হামলা করে ১০ জন কর্মীকে হত্যা করা হয়। একের পর এক আমাদের উপর আঘাত করা হয়েছে। শিল্পীরা যেমন মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছে, এখনো তারা রাস্তায় নামবে। এই অপশক্তি দেশের মধ্যে একটি অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।। এভাবেই একের পর এভাবে হামলা মামলা করে ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিয়ে আমাদেরকে থামিয়ে দেওয়া যাবে না। যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের রক্ত প্রবাহিত হবে ততক্ষণ পর্যন্ত এই অন্ধকার শক্তির বিরুদ্ধে আমরা লড়াই করে যাব।


উদীচির সহ-সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ ঘোষ বলেন, আমাদের রাস্তায় থাকার কথা নয়। অনেক সাংবাদিক ও শিল্পীদের উপর হামলা করেছে। এই সরকার সব ধরনের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। ভালুকায় যে ঘটনা ঘটেছে। মব সন্ত্রাস কোনভাবেই থামানো যাচ্ছে না। একটা রাষ্ট্র যদি নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়, তখন মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। এই সরকার দেশকে বিদেশিদের হাতে বিক্রি করে দেবে। এই বাঙালিরা আবার অস্ত্র ধরার ডাক দেব। উদীচি কোনো ছোট সংগঠন মনে করার কারণ নেই।


প্রদীপ ঘোষ ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে বলেন, এরইমধ্যে গ্ৰেফতার করতে না পারলে সারাদেশে শিল্পীরা রাস্তায় নামবে। দেশকে জঙ্গিবাদী রাষ্ট্রে পরিণত করতে দেব না।


এ কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) ঢাকা মহানগর উত্তর সভাপতি হাসান হাফিজুর রহমান সোহেল বলেন, ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে একটি গোষ্ঠী দেশকে জঙ্গিবাদী রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়। সাংবাদিকরা নিরাপদ নয়। ছায়ানটে হামলা করা হয়েছে। এটা অতর্কিত হামলা নয়। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী দর্শকের মতো চেয়ে থাকে। ওসমান হাদির হত্যাকারীদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসুন। বাংলাদেশের মানুষ দুর্বল নয়।


এর আগে উদীচী রাজধানীর পল্টন মোড় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে উদীচীর কেন্দ্রীয় কার্যালয় সামনে সত্যেন সেন চত্বরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে। এ সময় স্লোগান দেওয়া হয় স্লোগানগুলোর মধ্যে ছিল 'উদীচীতে হামলা কেন? ইনটেরিম জবাব চাই' 'লড়াই লড়াই লড়াই চাই, লড়াই করে বাঁচতে চাই' 'জ্বালোরে জ্বালো, আগুন জ্বালো' 'জঙ্গিবাদী হামলা, রুখে দাঁড়াও বাংলা' 'জঙ্গিবাদের আস্তানা, জ্বালিয়ে দাও পুড়িয়ে দাও' 'ছায়ানটের উপরে হামলা, হতে দেবো না আমরা'।


/ইউএমএইচ



  বিষয়:   উদীচী  আগুন 


Loading...
Loading...
বিবিধ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: