ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতের সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আসন সমঝোতা ‘শেষ পর্যায়ে’ রয়েছে। এমন তথ্য জানিয়েছেন দুই শীর্ষ নেতা। যদিও নাম প্রকাশ করতে চাননি তারা।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ও এনসিপির দুই যুগ্ম সদস্য সচিব। অবশ্য আসন ভাগাভাগি চূড়ান্ত হয়েছে কি না তা নিশ্চিত করেননি তারা।
আলোচনার বিষয়ে জানতে চাইলে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, এনসিপি ছাড়া আরও কয়েকটি দলের সঙ্গে আসন সমঝোতার আলাপ করছে জামায়াত। এসব আলোচনা শেষের পথে রয়েছে। কারণ, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার বেশি সময় বাকি নেই।
বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকাল থেকে জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির আসন সমঝোতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলাপ ছড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে এনসিপির তীব্র সমালোচনা করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আব্দুল কাদের।
সারা দেশের মানুষের এবং নেতা-কর্মীদের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে জলাঞ্জলি দিয়ে গুটিকয়েক নেতার স্বার্থ হাসিল করতেই এই জোট করা হচ্ছে– লেখেন তিনি। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামীকাল এই জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এরপর এক ফেসবুক পোস্টে ‘এনসিপি ভুল পথে যাচ্ছে’ জানিয়ে দলটির চট্টগ্রাম মহানগরের প্রধান সমন্বয়কারী ও কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব মীর আরশাদুল হক পদত্যাগের ঘোষণা দেন। পাশাপাশি চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসন থেকে এনসিপির হয়ে নির্বাচন না করার ঘোষণাও দেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, এনসিপির নেতারা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রতিশ্রুতি রক্ষায় পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন।
দেশে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে সংবিধান সংস্কার ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন প্রশ্নে গণভোটের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। ওই ঘোষণার আগে পাঁচ দাবিতে জামায়াত সাতটি দলকে নিয়ে মাঠে ছিল। এনসিপিরও সেই আন্দোলনে থাকার কথা সামনে এসেছিল। যদিও পরে জামায়াতের সঙ্গে আন্দোলন বা জোটে যাওয়ার পরিকল্পনা নেই বলে ঘোষণা দেয় এনসিপি।
এরপর গত ৯ ডিসেম্বর থেকে আন্দোলনে সঙ্গী সাত দলের সঙ্গে আসন সমঝোতার আনুষ্ঠানিক আলাপ শুরু করে জামায়াত। এখন এনসিপির সঙ্গেও আসন ভাগাভাগির তথ্য সামনে আসলো।
সময়ের আলো/এআর