মানবিক উন্নয়নের অপরিহার্যতা

মো. নূর হামজা পিয়াস

সম্পাদকীয়

আজকের বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে উন্নয়ন শব্দটি ক্রমেই একটি সংখ্যাভিত্তিক ধারণায় পরিণত হয়েছে। কত শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হলো, মাথাপিছু আয় কত বাড়ল,

2025-12-29T04:27:11+00:00
2025-12-29T04:27:11+00:00
 
  মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬,
৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
সম্পাদকীয়
মানবিক উন্নয়নের অপরিহার্যতা
ন্যায়ভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে
মো. নূর হামজা পিয়াস
প্রকাশ: সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৪:২৭ এএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
আজকের বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে উন্নয়ন শব্দটি ক্রমেই একটি সংখ্যাভিত্তিক ধারণায় পরিণত হয়েছে। কত শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হলো, মাথাপিছু আয় কত বাড়ল, রাষ্ট্রীয় সঞ্চয় কত দূরে পৌঁছাল এসব হিসাবই যেন উন্নয়নের চূড়ান্ত মানদণ্ড। 

জাতীয় অগ্রগতির আলোচনায় মানুষের কথা নয়, বেশি গুরুত্ব পায় গ্রাফ, চার্ট আর শতাংশের হিসাব। এই সংখ্যাগুলো কী সত্যিই মানুষের জীবনের বাস্তবচিত্র তুলে ধরে। একটি দেশ অর্থনৈতিকভাবে বড় হতে পারে, অথচ তার নাগরিকরা যদি নিরাপত্তাহীন, বঞ্চিত ও অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকে, তবে সেই উন্নয়ন কতটা অর্থবহ এই প্রশ্ন আজ আরও জোরালো হয়ে উঠছে।

সংখ্যাগত উন্নয়ন মূলত অর্থনীতির গাণিতিক বৃদ্ধি নির্দেশ করে। একটি দেশে মোট উৎপাদন বাড়ছে, বিনিয়োগ বাড়ছে, রফতানি বাড়ছে এসবই অর্থনৈতিক সক্ষমতার ইঙ্গিত দেয়। অবকাঠামো নির্মাণ, বড় প্রকল্প, নতুন শিল্পাঞ্চল এসবের মাধ্যমেই এই প্রবৃদ্ধি দৃশ্যমান হয়। 

সমস্যা শুরু হয় তখনই, যখন এই গড় পরিসংখ্যানকে পুরো জনগোষ্ঠীর জীবনমানের প্রতিফলন হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। বাস্তবে দেখা যায়, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সমাজের একটি সীমিত অংশ ভোগ করে, আর বৃহত্তর জনগোষ্ঠী থেকে যায় একই জায়গায় দাঁড়িয়ে। ফলে উন্নয়ন পরিণত হয় কেবল কাগুজে সাফল্যে।

বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অনেক উন্নয়নশীল দেশে অর্থনীতি বাড়লেও আয়ের বৈষম্য বেড়েছে। ধনীরা আরও সম্পদশালী হচ্ছে, কিন্তু নিম্ন ও মধ্যবিত্তের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তাদের বাস্তব অবস্থা উন্নত হচ্ছে না। 

শহরে বড় বড় ভবন উঠছে, কিন্তু গ্রামে স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার মান এখনও প্রশ্নবিদ্ধ। এই বৈপরীত্য প্রমাণ করে, সংখ্যাগত উন্নয়ন সবসময় মানবিক উন্নয়নের নিশ্চয়তা দেয় না। উন্নয়ন যদি কেবল উপরের দিকে ওঠা গ্রাফেই সীমাবদ্ধ থাকে, তবে সমাজের ভেতরে অসন্তোষ ও হতাশা জমতে থাকে।

মানব উন্নয়ন ধারণাটি এই সীমাবদ্ধতার বিপরীতে একটি বিস্তৃত দৃষ্টিভঙ্গি দেয়। এখানে প্রশ্ন ওঠে, মানুষ কতটা সুস্থ, কতটা শিক্ষিত, কতটা নিরাপদ এবং কতটা মর্যাদার সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারছে। সহজলভ্য ও মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা, কার্যকর শিক্ষাব্যবস্থা, ন্যায়সংগত কর্মসংস্থান এবং সামাজিক নিরাপত্তা এসবই মানব উন্নয়নের মূল ভিত্তি। 

এই ধারণা স্বীকার করেই আন্তর্জাতিক পরিমাপ ব্যবস্থায় আয় ছাড়াও শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মানকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়। কারণ একজন অসুস্থ বা অশিক্ষিত মানুষ কখনোই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রকৃত অংশীদার হতে পারে না।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই দ্বৈত বাস্তবতা স্পষ্ট। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার নিয়ে আশাবাদী বক্তব্য শোনা গেলেও বেকারত্বের চাপ কমেনি। বিশেষ করে শিক্ষিত তরুণদের মধ্যে কর্মসংস্থানের সংকট ক্রমেই গভীর হচ্ছে। ডিগ্রি আছে, কিন্তু বাস্তব দক্ষতা ও বাজারের চাহিদার মধ্যে ফাঁক রয়ে গেছে। ফলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি একদিকে বাড়ছে, অন্যদিকে মানব সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। 

২০২৫ সালের শ্রমবাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, অনেক তরুণ চাকরি না পেয়ে অনানুষ্ঠানিক ও অস্থায়ী কাজের দিকে ঝুঁকছে। এতে তাদের আয় অনিশ্চিত, সামাজিক নিরাপত্তা দুর্বল এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা অনিরাপদ হয়ে উঠছে। অর্থনীতি বড় হলেও যদি মানুষের কর্মজীবন স্থিতিশীল না হয়, তবে সেই উন্নয়ন টেকসই হতে পারে না। কারণ দীর্ঘমেয়াদে উন্নয়নের ভিত্তি গড়ে ওঠে সুস্থ, দক্ষ ও আত্মবিশ্বাসী মানবসম্পদের ওপর।

শুধু অর্থনৈতিক সূচকের ওপর দাঁড়িয়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা করলে রাষ্ট্র একটি বড় ঝুঁকির মুখে পড়ে। জনগণের ওপর বিনিয়োগ ছাড়া কোনো অগ্রগতি দীর্ঘস্থায়ী হয় না। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে পারে না। এর ফলে উৎপাদনশীলতা কমে যায় এবং অর্থনীতি একসময় স্থবির হয়ে পড়ে।

যেসব দেশ অর্থনৈতিক সম্প্রসারণের পাশাপাশি মানব উন্নয়নে ধারাবাহিক গুরুত্ব দিয়েছে, তারা দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি অর্জন করেছে। সেখানে শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক করা হয়েছে, স্বাস্থ্যসেবাকে সবার নাগালে আনা হয়েছে এবং সামাজিক সুরক্ষা জোরদার করা হয়েছে। ফলে নাগরিকরা শুধু উৎপাদনের যন্ত্র হয়ে ওঠেনি, বরং উদ্ভাবন ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে উন্নয়নের চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছে। 

এই অভিজ্ঞতা উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। উন্নয়ন মানে কেবল বড় প্রকল্প, উঁচু ভবন বা দীর্ঘ সড়ক নয়। এগুলো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখালেও মানুষের দৈনন্দিন জীবনে তার প্রভাব না পড়লে এসব অর্থহীন হয়ে পড়ে। প্রকৃত উন্নয়ন তখনই ঘটে, যখন একটি শিশু মানসম্পন্ন শিক্ষা পায়, একজন রোগী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পায় এবং একজন নাগরিক ন্যায়বিচারের ওপর আস্থা রাখতে পারে।

আধুনিক বিশ্বে প্রযুক্তিই উন্নয়নের প্রধান বাহন। কিন্তু এই ডিজিটাল অগ্রগতি যদি কেবল শহরের উচ্চবিত্তের নাগালে থাকে, তবে তা নতুন এক সামাজিক বৈষম্য তৈরি করে। যখন সরকারি সেবা, শিক্ষা এবং কর্মসংস্থান পুরোপুরি অনলাইননির্ভর হয়ে পড়ে, তখন প্রান্তিক মানুষ যারা ইন্টারনেট সুবিধা থেকে বঞ্চিত, তারা উন্নয়ন প্রক্রিয়া থেকে ছিটকে পড়ে। 

প্রকৃত উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন তথ্যের অধিকার এবং প্রযুক্তিগত সুবিধা দেশের প্রতিটি প্রান্তে সমানভাবে পৌঁছাবে। সংখ্যাগতভাবে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়লেই হবে না, বরং সেই প্রযুক্তি মানুষের ক্ষমতায়ন ঘটাচ্ছে কি না, তা বিচার করা জরুরি।

২০২৫ সালের সামাজিক জরিপগুলোতে দেখা যায়, মানুষের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা এখন নিরাপত্তা, স্থিতিশীল আয় ও মানসম্মত সেবা। তারা শুধু পরিসংখ্যান শুনতে চায় না, তারা চায় বাস্তব পরিবর্তন। যদি উন্নয়ন পরিকল্পনায় এই প্রত্যাশা প্রতিফলিত না হয়, তবে রাষ্ট্র ও নাগরিকের মধ্যে দূরত্ব বাড়তে থাকে। এই দূরত্বই একসময় সামাজিক অস্থিরতার জন্ম দেয়।

উন্নয়ন যদি প্রকৃতির বিনিময়ে অর্জিত হয়, তবে তা দীর্ঘমেয়াদে বিপর্যয় ডেকে আনে। বড় বড় শিল্পাঞ্চল বা অবকাঠামো নির্মাণের ফলে যদি বন উজাড় হয় এবং নদী দূষিত হয়, তবে সেই প্রবৃদ্ধি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জীবনকে সংকটাপন্ন করে তোলে। বৈশ্বিক জলবায়ু সংকটের প্রেক্ষাপটে সবুজ উন্নয়ন এখন অপরিহার্য। 

জিডিপি প্রবৃদ্ধির হিসাবে আমরা পরিবেশের যে ক্ষতি করছি, তার মূল্য ধরা হয় না। কিন্তু মানুষের সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য নির্মল বাতাস ও পানির প্রয়োজন সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। পরিবেশকে রক্ষা করে যে প্রবৃদ্ধি আসে, তাকেই মানবিক উন্নয়ন বলা উচিত।

একটি দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী, তাদের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় সমানভাবে সম্পৃক্ত না করে প্রকৃত অগ্রগতি সম্ভব নয়। সংখ্যাগত পরিসংখ্যানে নারীর শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণ বাড়লেও, কর্মক্ষেত্রে তাদের নিরাপত্তা এবং মজুরিবৈষম্য এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। 

উন্নয়ন মানে কেবল নারীদের চাকরি করা নয়, বরং তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা এবং সম্পত্তিতে সমান অধিকার নিশ্চিত করা। যখন একজন নারী শিক্ষিত ও স্বাবলম্বী হয়, তখন তার ইতিবাচক প্রভাব পুরো পরিবারের ওপর পড়ে। তাই মানব উন্নয়নের মানদণ্ডে নারীর সামাজিক মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি অপরিহার্য শর্ত।

মানুষকে কেন্দ্র করে উন্নয়ন পরিকল্পনা করলে অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হয়। সুস্থ ও শিক্ষিত নাগরিক উৎপাদনশীলতা বাড়ায়, উদ্ভাবন সৃষ্টি করে এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে। এই মানবিক ভিত্তির ওপর দাঁড়ানো অর্থনীতি অনেক বেশি সহনশীল ও টেকসই হয়। বৈশ্বিক বিশ্লেষণেও এই সত্য বারবার উঠে এসেছে।

উন্নয়নের আলোচনায় আমরা প্রায়ই মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি এড়িয়ে যাই। অর্থনৈতিক চাপ এবং যান্ত্রিক জীবন মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও বিষণ্নতা বাড়িয়ে দিচ্ছে। একটি রাষ্ট্র যদি কেবল উৎপাদনশীলতাকে গুরুত্ব দেয় এবং মানুষের মানসিক প্রশান্তিকে অবহেলা করে, তবে সেই সমাজ সৃজনশীলতা হারিয়ে ফেলে। বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে, সুখী দেশের তালিকায় তারাই এগিয়ে যারা নাগরিকদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর বিনিয়োগ করে। 

উন্নয়নের একটি অদৃশ্য কিন্তু অতি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলো ন্যায়বিচার। নাগরিকরা যদি মনে করে যে আইনের চোখে সবাই সমান নয় এবং শক্তিশালীরা সবসময় সুবিধা পায়, তবে রাষ্ট্রীয় প্রবৃদ্ধির প্রতি তাদের আস্থা নষ্ট হয়ে যায়। বড় বড় স্থাপনা বা সেতু নির্মাণের চেয়েও জরুরি হলো একটি স্বচ্ছ বিচারব্যবস্থা নিশ্চিত করা। 

যেখানে একজন সাধারণ মানুষ বিনা হয়রানিতে প্রতিকার পাবে এবং দুর্নীতিগ্রস্তরা শাস্তি পাবে। যেসব দেশে আইনের শাসন শক্তিশালী, সেখানে বিনিয়োগ টেকসই হয় এবং সামাজিক অস্থিরতা কম থাকে। মানুষের মর্যাদা রক্ষায় ন্যায়বিচারই উন্নয়নের আসল পরিচয়।

যেকোনো উন্নয়ন মডেল, যা মানুষের জীবনের মান উন্নত করতে ব্যর্থ হয়, তার পরিসংখ্যান যতই আকর্ষণীয় হোক না কেন, প্রকৃত উন্নয়ন হতে পারে না। উন্নয়নকে যদি কেবল সংখ্যা দিয়ে বিচার করা হয়, তবে মানুষের কষ্ট, বঞ্চনা ও সম্ভাবনা অদৃশ্য থেকে যায়। একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্রের কাজ হলো এই অদৃশ্য বাস্তবতাকে দৃশ্যমান করা।

উন্নয়নের সংজ্ঞা নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। উন্নয়ন মানে এমন একটি সমাজ, যেখানে মানুষ নিরাপদ, সম্মানিত ও সম্ভাবনায় ভরপুর জীবনযাপন করতে পারে। সংখ্যাগত প্রবৃদ্ধি তখনই অর্থবহ হয়ে ওঠে, যখন তা মানুষের জীবনে বাস্তব  উন্নতি আনে। মানুষের কল্যাণকে কেন্দ্র করে গড়া উন্নয়নই শেষ পর্যন্ত একটি রাষ্ট্রকে সত্যিকারের অগ্রগতির পথে নিয়ে যায়।

লেখক : শিক্ষার্থী, আইন বিভাগ, ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ।

সময়ের আলো/এআর

  বিষয়:   মানবিক  উন্নয়ন  অপরিহার্য 


Loading...
Loading...
সম্পাদকীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: