বাংলাদেশে মেট্রোরেল চালু হয় ২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর। প্রথম ধাপে উত্তরা উত্তর থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রো চলাচল শুরু হয়। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে রুট সম্প্রসারণ করা হয়। ২০২৩ সালের শেষ দিকে উত্তরা উত্তর থেকে মতিঝিল পর্যন্ত পূর্ণ রুটে চলাচল শুরু হয়।
ঢাকা মেট্রোরেলের মোট ২৪টি ট্রেনসেট ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে প্রায় ১২টি ট্রেনসেট সারাদিন ধরে পর্যায়ক্রমে চলছে। ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড জানিয়েছে, ভবিষ্যতে পরিষেবা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করলে ১৯টি ট্রেনসেট একসঙ্গে চলাচল করতে পারবে, যা দৈনিক যাত্রী সংখ্যা ৫ লাখেরও বেশি বাড়াতে সাহায্য করবে।
মেট্রোরেল চালু হওয়ার পর নানা ঘটনাপ্রবাহ বয়ে গেছে এর ওপর দিয়ে। ২০২৫ সালে বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে মেট্রোরেলে। এখানে আলোচিত পাঁচটি ঘটনা উল্লেখ করা হলো—
ছাদে এক কিশোর, বন্ধ ট্রেন চলাচল
সেদিন ৩০ নভেম্বর, রাত ৮ বাজে। রাজধানীর সচিবালয় রেলস্টেশনে মেট্রোরেলের দুই কোচের মাঝখান দিয়ে এক কিশোর ট্রেনের ছাদে উঠে পড়ে। এতে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ জানায়, ছাদে থাকা ওই কিশোরকে কিছুক্ষণের মধ্যেই মই দিয়ে নামিয়ে আনে এমআরটি পুলিশ। পরে তাকে শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করা হয়।
ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) সতর্কতার অংশ হিসেবে রাতে মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ রাখে। পরদিন সকাল থেকে সূচি অনুযায়ী মেট্রোরেল চলে।
পিলারের বিয়ারিং প্যাড পড়ে পথচারীর মৃত্যু
রাজধানীর ফার্মগেট মেট্রো স্টেশন সংলগ্ন বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটের সামনে মেট্রোরেলের পিলারের বিয়ারিং স্প্রিং (বিয়ারিং প্যাড) ছিটকে পড়ে পথচারী আবুল কালামের (৩৫) মৃত্যু হয়। ঘটনাটি সদ্য বিদায়ী বছরের ২৬ অক্টোবর দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দুর্ঘটনার সময় ফুটপাত দিয়ে ওই তরুণ ব্যাগ নিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ বিয়ারিং প্যাড ছিটকে তার মাথায় পড়ে। ঘটনাস্থলেই মারা যান আবুল কালাম। দুর্ঘটনার পর উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর সেদিন মেট্রো চলাচল শুরু হয়।
বৈদ্যুতিক গোলযোগ
বিজয় সরণি এলাকায় মেট্রোরেল বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এতে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। ২৬ এপ্রিল বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
সেদিন ডিএমটিসিএল জানায়, মেট্রোরেলে দুভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হয়। স্টেশনের বাতি, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাসহ অন্যান্য কাজ চালানো হয় অক্সিলারি বা সহযোগী বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার মাধ্যমে। আর বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে মেট্রো ট্রেন চালানোর বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। বিজয় সরণিতে মূল লাইনেই সমস্যা হয়, যা দিয়ে ট্রেন চালানো হয়।
মেট্রোরেল কর্মীদের আংশিক কর্মবিরতি
এমআরটি পুলিশ সদস্যদের দ্বারা ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) চারজন সহকর্মী মৌখিক ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হন। এ ঘটনায় কর্মবিরতির ঘোষণা দেন কর্মীরা। পরে যাত্রীদের ভোগান্তির কথা চিন্তা করে মেট্রোরেল চালু রাখার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। এ অবস্থায় কর্মী না থাকার কারণে ফাঁকা ছিল কাউন্টারগুলো। সে সুযোগে টিকিট ছাড়াই গন্তব্যে যেতে পেরেছেন যাত্রীরা। গত বছরের ১৬ মার্চ মেট্রোরেলের বিভিন্ন স্টেশনে এমন চিত্র দেখা যায়।
দরজায় আটকা পড়েন দুই নারী
সদ্য বিদায়ী বছরের ৫ জানুয়ারির সকাল। শেওড়াপাড়া স্টেশনে দাঁড়িয়ে আছে ট্রেন। যাত্রীরা ওঠানামা করছেন। এর মধ্যে ট্রেনের দরজায় আটকা পড়েন দুই নারী। বন্ধ হয়ে যায় ট্রেন চলাচল।
মেট্রোরেল সূত্র জানায়, দুই দরজার মাঝে যাত্রী আটকা পড়ায় অটোমেটিক সিস্টেম অচল হয়ে পড়ে, এতে ট্রেন চলাচলে বিলম্ব হয়। সেসময় স্টেশনে উপস্থিত থাকা যাত্রীরা জানান, সকাল ৯টা ৩১ মিনিটে শেওড়াপাড়া স্টেশন মেট্রোরেল এসে থামলে সেখানে মহিলা বগিতে দুজন নারী প্লাটফর্ম গেট ও ট্রেনের দরজার মধ্যে আটকা পড়ে। এতে ট্রেন চলাচলে বিঘ্ন হয়।
আরআর