কর্মঘণ্টায় ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার বিষয়ে অধস্তন আদালতের বিচারকদের কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন নবনিযুক্ত প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, আদালতের কর্মঘণ্টার মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। কেউ এ নির্দেশনা অমান্য করলে এবং তার প্রমাণ পাওয়া গেলে তা সংশ্লিষ্ট বিচারকের বিচারিক জীবনের শেষ দিন হিসেবে গণ্য হবে।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এক অভিভাষণে দেশের সব জেলা ও দায়রা জজ, মহানগর দায়রা জজ, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটদের উদ্দেশে তিনি এসব নির্দেশনা দেন। এ সময় তিনি আদালতের পরিবেশ শৃঙ্খলাপূর্ণ রাখা, দ্রুত রায় ও আদেশ প্রদান, সততা বজায় রাখা এবং বহিরাগতদের কোর্ট প্রাঙ্গণে প্রবেশ বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
প্রধান বিচারপতি বলেন, বিচার বিভাগে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে। বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির সঙ্গে আপোস করা যাবে না। দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে।
তিনি আরও নির্দেশ দেন, মামলার শুনানি শেষ হওয়ার তিন থেকে সাত দিনের মধ্যেই রায় বা আদেশ দিতে হবে। অযথা বিলম্ব হলে বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি বাড়বে এবং আদালতের সময় নষ্ট হবে। তাই আদালতের কর্মঘণ্টার পূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
এ ছাড়া আদালত ও কোর্ট প্রাঙ্গণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, আইনজীবী ও মামলার পক্ষ ছাড়া অন্য কারও এজলাসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা এবং হকার ও ভাসমান বিক্রেতাদের কোর্ট এলাকায় ঢুকতে না দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। একই সঙ্গে আইনজীবীদের ড্রেসকোড মানা হচ্ছে কি না, সে বিষয়েও বিচারকদের নজর রাখতে বলেন।
উল্লেখ্য, অধস্তন আদালতের অফিস সময় সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত এবং আদালতের কার্যক্রম চলে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত, যার মধ্যে দুপুরে বিরতি থাকে।
/ইউএমএইচ