নারীর প্রতি সহিংসতার যত পরিসংখ্যান

খন্দকার ওবায়দুল্লাহ

জাতীয়

দেশে ক্রমান্বয়ে বাড়ছে নারীর প্রতি সহিংসতা ও নির্যাতন। বাসা থেকে শুরু করে কর্মস্থল, সবখানেই নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন নারীরা।

2026-01-02T20:12:24+00:00
2026-01-02T23:16:31+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
জাতীয়
নারীর প্রতি সহিংসতার যত পরিসংখ্যান
খন্দকার ওবায়দুল্লাহ
প্রকাশ: শুক্রবার, ২ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮:১২ পিএম  আপডেট: ০২.০১.২০২৬ ১১:১৬ পিএম
গ্রাফিক : সময়ের আলো
দেশে ক্রমান্বয়ে বাড়ছে নারীর প্রতি সহিংসতা ও নির্যাতন। বাসা থেকে শুরু করে কর্মস্থল, সবখানেই নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন নারীরা। এর মধ্যে পারিবারিক নির্যাতনের শিকার বেশি হচ্ছেন নারীরা।

বিদায়ী বছর ধর্ষণ এবং পারিবারিক সহিংসতার মাত্রা ২০২৪ সালের মাত্রাকে ছাড়িয়ে গেছে। বিশেষ করে বিদায়ী বছরে নারী নির্যাতনের সবচেয়ে বীভৎস অপরাধ-ধর্ষণের ঘটনা ছিল ২০২৪ সালের প্রায় দ্বিগুণ।

২০২৫ সালে ধর্ষণের ঘটনায় বেশির ভাগই নির্যাতনের শিকার হয়েছে কন্যাশিশুরা। সালজুড়ে নানা বয়স ও শ্রেণির ভুক্তভোগীদের নিয়ে সংঘটিত একাধিক ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের ঘটনা দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে। এসব ঘটনায় জনমনে ক্ষোভ, প্রতিবাদ এবং বিচার ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বছরজুড়ে আলোচিত এসব ঘটনাই প্রমাণ করে, যৌন সহিংসতা এখনও দেশের একটি গুরুতর মানবাধিকার সংকট।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বিদায়ী বছরের নভেম্বর পর্যন্ত মোট ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ৫৫৩টি। আর ২০২৪ সালে এটি ছিল ৩৪৫টি। ২০২৫ সালে দলগত ধর্ষণের সংখ্যা ছিল ১৭১টি আর ২০২৪ সালে ছিল ১৪২টি।

২০২৫ সালে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় ২৯ জনকে আর ২০২৪ সালে ২৩ জনকে। ২০২৫ সালে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় ১৮১ জনকে আর ২০২৪ সালে ৯৪ জনকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত যেখানে পারিবারিক সহিংসতার শিকার হন ৩৫ জন নারী ২০২৪ সালে তা ছিল ২৫ জন।

২০২৫ সালের প্রথম ১১ মাসে ২০ হাজার ৬৯১টি নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলা হয়েছে। এর মধ্যে জানুয়ারিতে এক হাজার ৪৪০টি, ফেব্রুয়ারিতে এক হাজার ৪৩০টি, মার্চে দুই হাজার ৫৪টি, এপ্রিলে দুই হাজার ৮৯টি, মে মাসে দুই হাজার ৮৭টি, জুনে এক হাজার ৯৩৩টি, জুলাইয়ে দুই হাজার ৯৭টি, আগস্টে ১ হাজার ৯০৪টি, সেপ্টেম্বরে এক হাজার ৯২৮টি, অক্টোবরে এক হাজার ৯৮৫টি ও নভেম্বরে এক হাজার ৭৪৪টি নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলা হয়েছে। গত বছরের চেয়ে চলতি বছরের ১১ মাসে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় চার হাজার ৩২৫টি মামলা বেশি হয়েছে। 

জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯ চলতি বছরের শুরু থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত ধর্ষণ, ধর্ষণচেষ্টা ও ইভটিজিংসহ নানা কারণে নারীরা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, এমন ফোন পেয়েছে ২৬ হাজার ৩১৭টি। এর মধ্যে স্বামীর মাধ্যমে নির্যাতনের শিকার হওয়ার বিষয়ে ৯৯৯-এ ফোন এসেছে ১৪ হাজার ৯২৮টি। যেখানে গত বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে ৯৯৯ মোট ফোন কল পেয়েছিল ২৩ হাজার ৩৩টি। এর মধ্যে স্বামীর দ্বারা নির্যাতনের বিষয়ে ফোন ছিল ১১ হাজার ৪১৮টি। এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নারীরা প্রিয় মানুষের কাছেও যে অনিরাপদ, সেই তথ্যই উঠে এসেছে।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য মতে, গত বছরের প্রথম ১০ মাসে পারিবারিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে ৪২৭টি, চলতি বছরের একই সময়ে তা বেড়ে হয়েছে ৫০৩টি। বেড়েছে ৭৬টি। স্বামীর হাতে হত্যার সংখ্যা ২০২৪ সালে ছিল ১৫৫টি। তা বেড়ে ২০২৫ সালে ১৯৮ জনে দাঁড়িয়েছে।

২০২৫ সালে ৫ মার্চ মাগুরার শিশু আছিয়া ধর্ষণের ঘটনাটি ছিল সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা। সে সময় মাগুরা শহরতলির নিজনান্দুয়ালী গ্রামে বড় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে বোনের শ্বশুর হিটু শেখ, তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়েটির ওপর পাশবিক নির্যাতনসহ হত্যাচেষ্টা চালায়। পরে শিশুটিকে উদ্ধার করে চিকিৎসা দেওয়া হলেও ১৩ মার্চ সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) শিশুটির মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আসামি হিটু শেখকে আদালত মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন। আছিয়া ধর্ষণের ঘটনায় অপরাধীদের বিচারের দাবিতে সারা দেশ উত্তাল হয়ে ওঠে।

এরপরও চলতে থাকে এ ধরনের ঘটনা। ৮ মার্চ রাতে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ এলাকায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন অন্তঃসত্ত্বা এক নারী। একই রাতে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় এক কিশোরীকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে নগ্ন ভিডিও ধারণ এবং পরে সেই ভিডিও দেখিয়ে ধর্ষণচেষ্টা করেন মেয়েটির সৎ-বাবা। ১০ মার্চ রাঙামাটি জেলা শহরে এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে সুভাষ কুমার চাকমা (৬০) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। 

ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলায় চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শিশুর মা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। এ ঘটনায় ১০ মার্চ বিকেলে ১৫ বছর বয়সী অভিযুক্ত কিশোরকে গ্রেফতারও করে পুলিশ। 

গবেষকরা বলছেন, বেশির ভাগ পরিবার মামলা বা অভিযোগ করতে ভয় পায়। সামাজিক লজ্জা, আর্থিক অক্ষমতা এবং পুলিশের প্রাথমিক অনীহা অনেক ঘটনাকে চিরতরে চাপা দিয়ে দেয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশে পারিবারিক সহিংসতা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং একটি প্রকট সামাজিক বাস্তবতা।

সময়ের আলো/কেএইচও


  বিষয়:   ২০২৫ সাল  আলোচিত  ফিরে দেখা ২০২৫  সালতামামি ২০২৫  নারী  সহিংসতা  নির্যাতন  কর্মস্থল  হয়রানি  পারিবারিক নির্যাতন  ধর্ষণ  বীভৎস অপরাধ  কন্যাশিশু  সালজুড়ে  যৌন নির্যাতন  ভুক্তভোগী  ক্ষোভ  প্রতিবাদ 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: