‘বাবা ভূত কী রকম?’- ‘অনেক রকম ভূত আছে। যেমন ধর কিছু ভূত কথা বলে, কিছু ভূত কথা বলে না। কিছু ভূত দেখতে সুন্দর, কিছু ভূত দেখতে খুব বিশ্রী।’- ‘ভূতগুলো কি মানুষের ক্ষতি করে?’- না ভূত মানুষের কোনো ক্ষতি করে না, তবে ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা যারা দুষ্টুমি করে ভূত তাদের পিছু ছাড়ে না। পড়ার টেবিলে মনোযোগ দিয়ে পড়ছে শাওন। বাবা আর ছোট বোন অর্পার কথাও শুনছে।
অর্পা আরও কিছু জানতে চাইলে বাবা বলে, ‘মা এখন কথা বল না, দেখ না শাওন পড়ছে, তুমিও পড়তে বস, ভূতের কথা কালকে না হয় বলব।’ অর্পা পড়তে বসে। অর্পা পড়ে ক্লাস ফোরে আর শাওন নাইনে। অর্পার বাবা-মা দুজনই শিক্ষক, কলেজে পড়ান। সকাল ৮টায় বেরিয়ে যান, আর বিকাল ৫টার দিকে বাসায় আসেন। বাসায় একজন গৃহকর্মীও আছেন। তার নাম সুফিয়া। শাওন-অর্পা ওনাকে সুফিয়া খালা নামে ডাকে। স্কুল থেকে অর্পা ও শাওন এলে খাওয়া-দাওয়াসহ ওদের দেখভাল করে সুফিয়া।
সুফিয়া গতকাল বাড়িতে গেছে ছুটি নিয়ে। তার মায়ের অসুখ। এদিকে সুফিয়া যাওয়ার এক দিন পর অর্পারও হঠাৎ গায়ে জ্বর জ্বর ভাব লাগছে। মা বলেছে, ‘আজ স্কুলে যাস নে মা।’ বাবাও বলছে, ‘ও আজ স্কুলে না যাক।’ মাঝে মাঝে সুফিয়া না থাকলেও ওকে বা শাওনকে একা বাসায় রেখে ওরা কলেজে চলে যায়। ওরা একা থাকতে অভ্যস্ত। মা-বাবা ছাড়া কেউ বেল বাজালেও দরজা খোলে না। মা-বাবা যদি আসে ঠিকই বুঝতে পারে। আজ অর্পাকে বাসায় একা রেখেই বাবা-মা কলেজে গেছে, শাওনও চলে গেছে স্কুলে।
বাবা-মা বলেছে শাওন এলেই দরজা খুলতে। বাসায় একা একা অর্পা পড়েছে, আর মাঝে মাঝে টিভি দেখছে। অর্পার মনে বাবার বলা ভূতের কথাও মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। এমন সময় দরজায় ঠক ঠক আওয়াজ। অর্পা জিজ্ঞেস করে, ‘কে কে?’- আমি তোমাদের বুড়ি দাদি। অর্পা চিন্তা করে বাবা ভূতের কথা বলেছে, হয়তো কথা বলা ভূত হবে। ভয় ভয় করছে। প্রশ্ন করে ‘কোন বুড়ি?’- ‘তোমাদের স্কুলের সামনে দাঁড়াইয়া ভিক্ষা করি যে, আমাকে কিছু খাওন দাও না।’- ‘এখন চলে যাও, মা-বাবা কেউ নেই। দরজা খুলতে পারব না।’
অনেকক্ষণ অনুনয়-বিনয় করেও দরজা খুলছে না দেখে বুড়ি সটকে পড়ে। বাসার জানালা দিয়ে অর্পা দেখে, হ্যাঁ বুড়িই তো, যে স্কুলের সামনে প্রতিদিন ভিক্ষা করে। তা হলে ভূত না, সত্যি। সে অর্পাদের বাসা চেনে। মাঝেমধ্যে বাসায়ও আসে ভিক্ষা করতে। মা থাকলে সাহায্য করেন। দারোয়ান না থাকলে অনেক সময় এভাবে ঢুকে পড়ে। আবার পড়তে বসে অর্পা।
কিছুক্ষণ পর দরজায় আবার ঠক ঠক আওয়াজ। কারো কোনো সাড়া-শব্দ নেই। অর্পা জিজ্ঞেস করে, ‘কে কে?’ কোনো শব্দ নেই। অর্পা চিন্তা করে কথা না বলা ভূত নাকি! কতক্ষণ পর আবার ঠক ঠক। অর্পার ভয় করছে। ভাবছে এবার বোধহয় কথা না বলাই ভূত হবে। কিছুক্ষণ পর বলে, ‘অর্পা দরজা খোল, আমি শাওন।’ দরজা খুলে দেয় অর্পা। শাওন বলে, ‘আমি দুষ্টুমি করেছি রে, আজ স্কুল তাড়াতাড়ি ছুটি হলো চলে আসলাম’- ‘ভাইয়া আমি ভাবছিলাম, কথা না বলা ভূত।’ দুজনের মুখে কী হাসি!
এএডি/