শীতের দিনে ভাপা পিঠা

আল হাফিজ

বাংলার শীত মানেই পিঠাপুলির ঈদ। সারা বছর তেমন পিঠাপুলির সঙ্গে দেখা হয় না এই দেশের মানুষের। কিন্তু যখন শীতের আগমন

2026-01-17T02:24:36+00:00
2026-01-17T02:24:36+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬,
২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
শীতের দিনে ভাপা পিঠা
আল হাফিজ
প্রকাশ: শনিবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ২:২৪ এএম   (ভিজিট : ২০৪)
ফাইল ছবি
বাংলার শীত মানেই পিঠাপুলির ঈদ। সারা বছর তেমন পিঠাপুলির সঙ্গে দেখা হয় না এই দেশের মানুষের। কিন্তু যখন শীতের আগমন ঘটে, তখন গ্রামগঞ্জের প্রতিটি ঘরেই দেখা মেলে নানারকম পিঠাপুলির। নানা পিঠার মধ্যে সবচেয়ে রূপবতী যে পিঠাটি, সেটি হলো ভাপা পিঠা। মায়েদের নিপুণ হাতে তৈরি করা তুলতুলে, কোমল এই ভাপা পিঠা দেখতে যেমন লাবণ্যময়, খেতেও তেমনি চমৎকার। দেখলে মনে হয় সাদা অঙ্গসজ্জায় নিজেকে সাজিয়ে রেখেছে। সাদার মাঝে একটু গুড় আর নারকেল ব্যবহারে এই পিঠার রূপ আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। এই সময়ে গ্রামের নববধূরাও মাথায় ঘোমটা দিয়ে শাশুড়ির সঙ্গে নব হাতে পিঠা বানানোর কাজে শরিক হয়। এই ভাপা পিঠা গ্রামবাংলার ঐতিহ্যেরই একটি অংশ। এটি প্রধানত চালের গুঁড়া দিয়ে জলীয় বাষ্পের আঁচে তৈরি করা হয়।

মিষ্টি করার জন্য দেওয়া হয় গুড় এবং স্বাদ বৃদ্ধির জন্য যোগ করা হয় নারকেলের শাঁস। ঐতিহ্যগতভাবে এটি একটি গ্রামীণ নাস্তা হলেও বিংশ শতকের শেষভাগে প্রধানত শহরে আসা গ্রামীণ মানুষের খাদ্য হিসেবে এটি শহরেও বহুল প্রচলিত হয়েছে। রাস্তাঘাটে এমনকি রেস্তোরাঁয়ও আজকাল ভাপা পিঠা পাওয়া যায়। এই পিঠা অনেক অঞ্চলে ‘ধুপি’ নামেও পরিচিত। এর ধরনের মধ্যে রয়েছে মিষ্টি ভাপা ও ঝাল ভাপা। ভাপা পিঠা খাওয়ার অনুভূতি সত্যিই অনন্য। এই পিঠা খেলে মনে হয় নরম, কোমল তুলো মুখে দিয়েছি। এই পিঠা শুধু মুখের স্বাদই নয়, মনেও প্রশান্তি জোগায়। বন্ধুদের সঙ্গে সকাল-সন্ধ্যায় এই পিঠা খাওয়া মনে করিয়ে দেয় শৈশবের সেই সোনালি দিনগুলোর কথা। এই ছোট, নরম পিঠাটুকুর মধ্যেই লুকিয়ে আছে শীতের পুরো আনন্দ। খেজুর গুড়ের মিষ্টি রস আর নারকেলের শাঁসের মাখামাখিই হলো আসল শীতকালীন আনন্দ।

শীতকাল যখন তার শীতলতা নিয়ে আসে, তখন এই পিঠাই যেন আমাদের উষ্ণতা। এক কামড়েই শরীর ও মনে ছড়িয়ে পড়ে এক আরামদায়ক উষ্ণতা। মায়ের হাতে তৈরি এই পিঠাটির প্রতিটি দানা যেন ভালোবাসা দিয়ে গড়া। এর স্বাদ শুধু জিভে নয়, হৃদয়েও লেগে থাকে বহুক্ষণ। ভাপা পিঠা খাওয়ার উপকারিতা হলো এই পিঠা শরীরে তাৎক্ষণিক শক্তি ও উষ্ণতা দেয়।

এতে থাকা চালের গুঁড়া, গুড় ও নারকেল থেকে শর্করা, ফাইবার, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম এবং ভিটামিন বি-কমপ্লেক্সের মতো পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়, যা রক্তশূন্যতা দূর করতে, মেটাবোলিজম বাড়াতে এবং ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী; তবে ক্যালরির পরিমাণ বেশি হওয়ায় পরিমিত পরিমাণে খাওয়া জরুরি। এই পিঠাতে যেমন স্বাস্থ্যগুণ রয়েছে, তেমনি দেখতেও এটি অত্যন্ত চমৎকার। মা-বোনদের নিপুণ হাতে গড়া এই পিঠাগুলো বাংলাদেশের চিরন্তন ঐতিহ্যের এক অনন্য নিদর্শন। বৈচিত্র্যময় হে বাংলাদেশ আমার গর্ব। এই মাটিতে জন্ম নিয়ে আমি ধন্য।

এএডি/


Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: