দেশের শেয়ারবাজারে টানা দুদিন দরপতনের পর ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মিলেছে। প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার পাশাপাশি বেড়েছে মূল্যসূচক। সেই সঙ্গে বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণও। মূলত ব্যাংক কোম্পানিগুলোর দাপটের কারণে মূল্যসূচক ও লেনদেন উভয় বেড়েছে।
জানা যায়, বুধবার (৭ জানুয়ারি) ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ ব্যাংকের শেয়ার দাম বাড়ার মাধ্যমে। যার ইতিবাচক প্রভাব পড়ে অন্য খাতেও। ফলে, লেনদেন শুরুর অল্প সময়ের মধ্যেই বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার তালিকায় চলে আসে। এতে সূচকের বড় উত্থান দেখা যায়। লেনদেনের শেষ পর্যন্ত এ ধারা অব্যাহত থাকে। ফলে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার পাশাপাশি সবকটি মূল্যসূচক বেড়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়।
দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলিয়ে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ১৯৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ১৩১টির। আর ৬৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। অন্যদিকে, তালিকাভুক্ত ২৮টি ব্যাংকের শেয়ার দাম বাড়ার বিপরীতে মাত্র দুটির দাম কমেছে। আর একটির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এদিকে, ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১০৬টির শেয়ার দাম বেড়েছে; বিপরীতে ৬৫টির দাম কমেছে এবং ৩৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এ ছাড়া, মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৪১টি কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ার বিপরীতে ২৬টির দাম কমেছে এবং ১৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
অন্যদিকে, বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৪৬টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৪০টির এবং ১৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে ৫টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৯টির দাম কমেছে এবং ২০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এতে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৩৯ পয়েন্ট বেড়ে ৪ হাজার ৯৯২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৩ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ১৭ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৯১৩ পয়েন্টে উঠে এসেছে।
সবকটি প্রধান মূল্যসূচক বাড়ার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৪৬৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৪৫৪ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। এ হিসেবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ১০ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। এই লেনদেনে সবথেকে বড় ভূমিকা রেখেছে ওরিয়ন ইনফিউশনের শেয়ার। কোম্পানিটির ২৬ কোটি ৫৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সিটি ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৯ কোটি ৯০ লাখ টাকার। ১৭ কোটি ৪৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস। এ ছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- উত্তরা ব্যাংক, মালেক স্পিনিং, লাভেলো আইসক্রিম, যমুনা ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক এবং রবি আজিয়াটা।
অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ১০৮ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৪৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭৯টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৪৬টির এবং ২৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ১২ কোটি ৮০ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১১ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।
সময়ের আলো/এনএ