দেশের ১৩ জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বইছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। সেই সঙ্গে নদী অববাহিকায় কুয়াশার দাপট থাকবে বলেও সংস্থাটি জানিয়েছে। এমন অবস্থায় ঘরে শিশু, বৃদ্ধ ও রোগী থাকলে তাদের নিয়ে পরিবারের চিন্তার শেষ নেই। শীত বাড়লেই সবার আগে দুশ্চিন্তা বাড়ে বাড়ির বয়স্কদের জন্য। এই সময়ে অনেকে যদিও ঘর গরম রাখার জন্য বৈদ্যুতিক হিটার ব্যবহার করছেন, যাতে বয়স্করা ঠাণ্ডায় অসুস্থ হয়ে না পড়েন। কিন্তু এই হিটারগুলো শরীর ও ত্বকের জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে। এ ছাড়া, সবার পক্ষে ঘরে এই হিটার ব্যবহার সম্ভ নয়। আবার অনেকেই বিদ্যুৎ খরচের জন্য হিটার ব্যবহার করতে চান না, কারও আবার কেনার সামর্থ্য নেই।
কিন্তু কয়েকটি কৌশল প্রয়োগ করলে হিটার ছাড়াও শীতকালে ঘর উষ্ণ রাখা সম্ভব। কীভাবে ঘর উষ্ণ রাখবেন, জেনে নিন—
ঘর গরম রাখার ৫ উপায়
রোদের সঠিক ব্যবহার : শীতের দিনে রোদের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। সকালে রোদ উঠলে জানালা ও পর্দা খুলে রাখুন। সূর্যের আলো সরাসরি ঘরের ভেতরে ঢুকলে দেওয়াল আর মেঝে ধীরে ধীরে গরম হয়।
দুপুরের পর যখন রোদের তেজ কমে আসে, তখন জানালা ও পর্দা বন্ধ করে দিন। এতে দিনের বেলায় জমে থাকা উষ্ণতা সহজে বাইরে বের হয়ে যেতে পারে না।
ফাঁক বন্ধ করে দিন : ঘরের দরজা আর জানালার নিচে বা পাশে ছোট ফাঁক থাকলে সেখান দিয়েই সবচেয়ে বেশি ঠাণ্ডা বাতাস ঢোকে। এই ফাঁকগুলো বন্ধ করে দেওয়া দরকার। পুরনো তোয়ালে বা মোটা কাপড় ভাঁজ করে দরজার নিচে গুঁজে দিন। ছোট ছোট এই কৌশলে ঘরের তাপমাত্রা ধরে রাখা যায়।
গালিচা ব্যবহার করুন : শীতে মেঝে থেকে ঠাণ্ডা বের হয় সবচেয়ে বেশি। তাই খালি মেঝে যথাসম্ভব ঢেকে রাখা ভালো। কার্পেট, মোটা গালিচা বা পাটের দড়ি দিয়ে তৈরি মাদুর ব্যবহার করলে পায়ের তলায় ঠাণ্ডা কম লাগে এবং ঘরও তুলনামূলক ভাবে উষ্ণ থাকে। বিছানা বা সোফার পাশে গালিচা থাকলে শরীরের উষ্ণতা ধরে রাখা সম্ভব।
রান্নাঘর উষ্ণ রাখুন : শীতের সময় রান্নাঘর থেকেও ঘরের উষ্ণতা বাড়ানো যায়। রান্নার সময়ে গ্যাসের আগুন আর গরম পানি থেকে যে উষ্ণতা তৈরি হয়, তা দিয়ে সামন্য হলেও পুরো বাড়ি গরম রাখা যেতে পারে। রান্নার সময় রান্নাঘরের দরজা খোলা রাখলে সেই উষ্ণতা ঘরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে। তা ছাড়া, রান্নাঘরের জানালা বন্ধ রাখলে সেই উষ্ণতা বাইরে যেতে পারে না।
বিছানা উষ্ণ রাখুন : শীতের সময়ে বিছানা কীভাবে রাখছেন, তার মধ্যে ঘরের উষ্ণতা নির্ভর করে। মোটা কম্বল, চাদর ইত্যাদি দিয়ে স্তর তৈরি করলে বিছানা গরম থাকে। ভেতরের উষ্ণতা বাইরে বের হতে পারে না, বাইরের ঠাণ্ডা বাতাস ভেতরে ঢুকতে পারে না।
সময়ের আলো/এনএ