নির্বাচনী ইশতেহারে উপকূল সুরক্ষায় অঙ্গীকারের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয়

নির্বাচনী ইশতেহারে উপকূলের প্রাণ-প্রকৃতি সুরক্ষায় সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার তুলে ধরার দাবি জানিয়েছেন পরিবেশকর্মীরা। তারা বলেছেন, পরিবেশগত বিপর্যয়ের কারণে উপকূলে ভয়াবহ সংকট

2026-01-11T18:02:24+00:00
2026-01-11T18:02:46+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
জাতীয়
নির্বাচনী ইশতেহারে উপকূল সুরক্ষায় অঙ্গীকারের দাবি
নির্বাচন, ইশতেহার, উপকূল, সুরক্ষা, দাবি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: রোববার, ১১ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:০২ পিএম  আপডেট: ১১.০১.২০২৬ ৬:০২ পিএম
নির্বাচনী ইশতেহারে উপকূল সুরক্ষায় অঙ্গীকারের দাবি। ছবি : সংগৃহীত
নির্বাচনী ইশতেহারে উপকূলের প্রাণ-প্রকৃতি সুরক্ষায় সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার তুলে ধরার দাবি জানিয়েছেন পরিবেশকর্মীরা। তারা বলেছেন, পরিবেশগত বিপর্যয়ের কারণে উপকূলে ভয়াবহ সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে জনসংখ্যা কমে যাচ্ছে। এই সংকট মোকাবেলায় রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

রোববার (১১ জানুয়ারি) রাজধানীর ডাব্লিউভিএ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)’র সাধারণ সভা থেকে এই দাবি জানানো হয়।

বাপা সভাপতি অধ্যাপক নুর মোহাম্মদ তালুকদারের সভাপতিত্বে সভায় এ সংক্রান্ত প্রস্তাব উপস্থাপন করেন সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র। সভায় বক্তব্য রাখেন বাপা সহ-সভাপতি ও বেন-এর প্রতিষ্ঠাতা ড. নজরুল ইসলাম, বেনের বৈশ্বিক সমন্বয়কারী ড. মো. খালেকুজ্জামান, বাপার সহ-সভাপতি মহিদুল হক খান ও অধ্যাপক এম. শহীদুল ইসলাম, বাপার সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর কবির, বাপার যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক আহমেদ কামরুজ্জামান মজুমদার প্রমুখ।

সভার প্রস্তাবে উপকূলের সংকট মোকাবেলায় আসন্ন এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সকল রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ১১দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হচ্ছে-উপকূলীয় অঞ্চলকে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ বিশেষ এলাকা ঘোষণা করতে হবে। উপকূলের প্রাণ-প্রকৃতি সুরক্ষায় জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখতে হবে। লোনা পানি নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপদ খাবার পানির স্থায়ী ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
আরও পড়ুন

দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে উপকূলের প্রতিটি বাড়িকে শেল্টার হোম হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। উপকূল সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় ভুক্তভোগী জনগণের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে। উপকূলের রক্ষাকবচ বিশ্বঐতিহ্য সুন্দরবন সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। নদ-নদী ও জলাশয় দখল ও দুষণমুক্ত এবং স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে। বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে উপকূলে সবুজ বেষ্টনী গড়ে তুলতে হবে। টেকসই ও মজবুত বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও পুরানো বাঁধ মেরামত করতে হবে। কৃষির উন্নয়ন ও বিকল্প কর্মসংস্থানে পদক্ষেপ নিতে হবে। উপকূলীয় উন্নয়ন বোর্ড গঠন করতে হবে।

এতে আরও বলা হয়, বৈশ্বিক উষ্ণতায় দায় মাত্র শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ হলেও দুর্যোগে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে অন্যমত বাংলাদেশ। আর সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশের উপকূলীয় অঞ্চল। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ২০ বছরে উপকূলে দুর্যোগ ১০গুণ বেড়েছে। এসব দুর্যোগে মানুষের জীবন-জীবিকা, সম্পদ, খাদ্য, পানি, বাসস্থানসহ অন্যান্য সংকট সৃষ্টি করছে। সমগ্র উপকূলে সুপেয় পানির তীব্র সংকট চলছে।

অপরিকল্পিত চিংড়ি চাষ ও লবণাক্ততার আগ্রাসনে সুন্দরবন এলাকায় সুপেয় পানির সংকট বেড়েছে। সুন্দরবন উপকূলে ৭৩শতাংশ পরিবার সুপেয় পানি থেকে বঞ্চিত বা অনিরাপদ পানি খেতে বাধ্য হচ্ছে। টেকসই বেড়িবাঁধের অভাবে প্রতিবছর স্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। নদ-নদী ও জলাশয় দখল-দূষণ ও ভরাটের কারণে পরিবেশগত বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। ফলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে জনসংখ্যা কমে যাচ্ছে।

এএডি/


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: