ইরানে চলমান বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটন পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনে সামরিক হস্তক্ষেপসহ খুব শক্তিশালী কিছু বিকল্প বিবেচনা করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
রোববার (১১ জানুয়ারি) রাতে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সামরিক বাহিনীও বিষয়টি পর্যালোচনা করছে এবং একাধিক কঠোর বিকল্প সামনে রয়েছে। সময় বুঝে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তিনি আরও দাবি করেন, সামরিক পদক্ষেপের হুমকির পর ইরানের নেতৃত্ব আলোচনার আগ্রহ দেখিয়েছে এবং একটি বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে।
তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, বৈঠকের আগেই যুক্তরাষ্ট্রকে পদক্ষেপ নিতে হতে পারে।
এদিকে ট্রাম্পের এ মন্তব্যের পর ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেন, ইরানে হামলা হলে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা সব মার্কিন ঘাঁটি ও জাহাজ ইরানের বৈধ লক্ষ্যবস্তু হবে।
গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারের ব্যবসায়ীরা ইরানি মুদ্রার ভয়াবহ পতনের প্রতিবাদে দোকান বন্ধ করলে বিক্ষোভ শুরু হয়। দ্রুতই তা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। শুরুতে জীবনযাত্রার ব্যয় ও অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে ক্ষোভ থাকলেও পরে তা ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর থেকে ক্ষমতায় থাকা ধর্মীয় নেতৃত্বের বিরোধিতায় রূপ নেয়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, সহিংসতায় অন্তত ১০৯ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নিহত হয়েছেন। তবে বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুর সঠিক সংখ্যা সরকার প্রকাশ করেনি। বিদেশভিত্তিক বিরোধী কর্মীদের মতে, নিহতের সংখ্যা আরও বেশি এবং শত শত বিক্ষোভকারী এতে প্রাণ হারিয়েছেন।
এদিকে পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, টানা ৭২ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে দেশজুড়ে ইন্টারনেট বন্ধ রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের আগ্রাসী পররাষ্ট্রনীতির দৃষ্টান্তও সামনে এসেছে। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ, গ্রিনল্যান্ড কেনা বা শক্তি প্রয়োগের আলোচনা— এসব বিষয়েও তিনি বক্তব্য দিয়েছেন।
এক মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ইরান বিষয়ে করণীয় ঠিক করতে ট্রাম্প মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) শীর্ষ উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য বিকল্পের মধ্যে সামরিক হামলা, গোপন সাইবার অস্ত্র ব্যবহার, নিষেধাজ্ঞা জোরদার এবং সরকারবিরোধীদের অনলাইনে সহায়তা দেওয়ার বিষয়ও রয়েছে।
ট্রাম্প জানান, ইরানে ইন্টারনেট পুনরুদ্ধারের বিষয়ে তিনি ধনকুবের ইলন মাস্কের সঙ্গে কথা বলবেন। মাস্কের স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবার কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, এ ধরনের প্রযুক্তিতে মাস্ক খুবই দক্ষ।
এ ছাড়া তিনি গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের পরিকল্পনা ও ভেনেজুয়েলা ইস্যুতেও নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন এবং ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদোর সঙ্গে বৈঠকের কথা নিশ্চিত করেন।
সূত্র: আল-জাজিরা
সময়ের আলো/এমএইচজে/জেডআই