প্রকাশ: সোমবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬, ৩:২০ পিএম
গুরুদেব ফার্মেসি। ছবি : সংগৃহীতকিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে ফার্মেসির মালিক গোপাল চন্দ্রের প্রেসক্রিপশন জালিয়াতিতে এক রোগী সংকটাপন্ন বলে জানা গেছে।
অভিযুক্ত গোপাল চন্দ্র সূত্রধর গুরুদেব ফার্মেসির মালিক। আর ভুল ওষুধ সেবনের ফলে ভুক্তভোগী রোগী মো. চুন্নু মিয়ার (৫০)।
এ বিষয়ে উপজেলার গনেরগাঁও গ্রামের শামসুদ্দিনের ছেলে ভুক্তভোগী চুন্নু মিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।
জানা গেছে, গত ২ নভেম্বর চুন্নু মিয়া বুকে ব্যথার সমস্যা নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে গেলে হাসপাতালের কর্মরত চিকিৎসক মো. শাহরিয়ার নাজিম তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে হৃদ্রোগ শনাক্ত করে একটি প্রেসক্রিপশন দেন। পরে সেই প্রেসক্রিপশন নিয়ে চুন্নু মিয়া কটিয়াদী পুরাতন বাজারের গুরুদেব ফার্মেসিতে ওষুধ কিনতে যান। কিন্তু ফার্মেসির মালিক গোপাল চন্দ্র সূত্রধর সরকারি চিকিৎসকের দেওয়া প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী নয় নিজের পছন্দমতো ওষুধ লিখে তা বিক্রি করেন।
চুন্নু মিয়া বলেন, আমি লেখাপড়া জানি না। প্রেসক্রিপশন নিয়ে গুরুদেব ফার্মেসিতে গেলে দোকান মালিক ডাক্তারের লেখা কেটে নিজে ওষুধ লিখে সেগুলো খেতে বলেন। আমি তার দোকান থেকে প্রায় দুই হাজার টাকার ওষুধ নেই। ওই ওষুধ সেবনের পর থেকেই আমার শারীরিক অবস্থা অবনতি হতে থাকে। পরবর্তীতে গত ৪ জানুয়ারি আমার ছোট ভাই আশরাফুল ইসলাম আমাকে নিয়ে সরকারি হাসপাতালের ডাক্তার মো. শাহরিয়ার নাজিমের কাছে নিয়ে গেলে তিনি ফার্মেসি মালিকের এই প্রতারণার বিরুদ্ধে অভিযোগ করার জন্য বলেন। আমি প্রতারক গোপাল চন্দ্র সূত্রধরের বিচার চাই।
এ বিষয়ে গোপাল চন্দ্র সূত্রধরের কাছে জানতে চাইলে, চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন কেটে অন্য ওষুধ লিখে বিক্রির কথা স্বীকার করেন তিনি। তার প্রদত্ত ওষুধে চুন্নু মিয়া সুস্থ হয়ে উঠেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
ডাক্তারের প্রেসক্রিপশান কেটে আপনি ওষুধ লিখতে পারেন কি না? জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা আমার অন্যায় হয়েছে।
স্থানীয় ওষুধ ব্যবসায়ীরা জানান, চিকিৎসা বিষয়ক প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও, গুরুদেব ফামের্সির মালিক গোপাল চন্দ্র সূত্রধর দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক সেজে রোগী দেখে আসছেন। এতে প্রতারিত হচ্ছেন গ্রামের সহজ-সরল রোগীরা। এতদিনেও তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় তিনি সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশান কেটে অন্য ওষুধ লেখার সাহস পেয়েছেন।
কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সৈয়দ মো. শাহরিয়ার অনিক বলেন, এ ঘটনায় আবাসিক মেডিকেল অফিসারকে সভাপতি করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সময়ের আলো/জেডআই