ব্যবসায়ী বাদল মিয়া। ছবি : সংগৃহীত মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান ও তার ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) সাদেকুল ইসলাম সবুজকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশিত পোস্ট শেয়ার করার অভিযোগে টাঙ্গাইলের বাসাইলে এক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বাদল মিয়া নামের ওই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইন-২০২৬-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার কাশিল বাজারে গ্রেফতারের কথা উল্লেখ করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে তাকে টাঙ্গাইলের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
গ্রেফতার বাদল মিয়া বাসাইল উপজেলার কাশিল ইউনিয়নের কাশিল দক্ষিণ পাড়ার মৃত শাহজাহান মিয়ার ছেলে। তিনি বাসাইল উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী শহীদুল ইসলামের ছোট ভাই। তিনি মেসার্স বাদল এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, তানভীর আহসান সুমন নামে এক ব্যক্তি ‘বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল’ নামের একটি ফেসবুক গ্রুপে টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খানের ছবি ব্যবহার করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি একটি ফটোকার্ড পোস্ট করেন। এতে মন্ত্রীর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তার অপসারণ দাবি করা হয়।
এজাহারে বলা হয়েছে, ওই পোস্টটি মামলার দ্বিতীয় আসামি শাহাদাত মিয়া তার ফেসবুক আইডিতে শেয়ার করেন। এ ছাড়া মন্ত্রীর পিএস সাদেকুল ইসলাম সবুজের ছবি ব্যবহার করে ‘সখিপুর এবং দেশবিদেশের নিউজ’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকেও পোস্ট দেওয়া হয়। সেখানে লেখা ছিল, শ্বশুরবাড়ির লোক নাটোরের পিএস সবুজ।
এসব পোস্টের বিষয়টি নজরে আসার পর ৬ নভেম্বর টাঙ্গাইল পৌরসভার বিশ্বাস বেতকা এলাকার বাসিন্দা মো. ইবাদুল ইসলাম বাদী হয়ে বাসাইল থানায় মামলা করেন। সাইবার সুরক্ষা আইন-২০২৬-এর ২৫(১) ও ২৭(১) ধারায় দায়ের করা এ মামলায় তিনজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় আরও তিন থেকে চারজনকে আসামি করা হয়েছে।
এদিকে বাদল মিয়ার গ্রেফতারের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কাশিল এলাকার বাসিন্দারা। মো. ছানোয়ার হোসেন খান, কামরুজ্জামান মিয়া বিপুল, সাইদুর রহমান মিয়া, বাদশা মিয়া ও আয়নাল জমাদারসহ স্থানীয়রা এ গ্রেফতারের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাদের দাবি, কাশিল তথা বাসাইলের উন্নয়নে বাদল মিয়ার উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। তার উদ্যোগে কাশিল এলাকায় একটি চায়না ফিডের কারখানা স্থাপিত হয়েছে, যেখানে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। এ ছাড়া নাকাসিমের সায়ের মৌজায় ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ চলছে।
স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে বাসাইল উপজেলার বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধানে ভূমিকা রাখবে। তারা মামলাটিকে মিথ্যা ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক দাবি করে বাদল মিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছেন।
গ্রেফতারের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী শহীদুল ইসলাম বলেন, মূলত রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে এ মামলাটি করা হয়েছে।
বাসাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর কবীর বলেন, বাদল মিয়ার বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইন-২০২৬-এর ২৫(১) ও ২৭(১) ধারায় মামলা হয়েছে। গ্রেফতারের পর তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ সময় তিনি আরও দাবি করেন, বিষয়টি নিয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীর সুপারিশ রয়েছে এবং মন্ত্রী তাকে কয়েকবার ফোন করেছেন।
অন্যদিকে মামলার বাদী মো. ইবাদুল ইসলাম বলেন, সংক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিবাদস্বরূপ তিনি মামলাটি করেছেন। তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত নন এবং কারও প্ররোচনায় মামলা করেননি। তার ভাষ্য, ফেসবুকে যারা বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালান, তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই তিনি আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন। তার কাছে মনে হয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা সঠিক কাজ করেননি।
সময়ের আলো/জোই