প্রকাশ: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৫৭ এএম
আইআইইউসির সামনের স্পিডব্রেকার তুলে ফুটওভার ব্রিজের দাবি। ছবি : সময়ের আলোআন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) শিক্ষার্থী মাইশার মৃত্যুর পর শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের কুমিরা এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নির্মিত অস্থায়ী স্পিডব্রেকার অপসারণ করেছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ। তবে সাময়িক ব্যবস্থা নয়, শিক্ষার্থীদের নিরাপদে মহাসড়ক পারাপার নিশ্চিত করতে দ্রুত ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর কয়েক দিন আগে কুমিরা এলাকায় দ্রুতগতির যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে মহাসড়কে উঁচু স্পিডব্রেকার স্থাপন করা হয়েছিল। একই সময়ে দুর্ঘটনাস্থলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ট্রাফিক আইন অমান্য করায় কয়েকটি যানবাহনকে জরিমানাও করা হয়। তবে পর্যাপ্ত সতর্কতামূলক সংকেত ও নিরাপত্তাব্যবস্থা ছাড়া স্পিডব্রেকারটি নির্মাণ করায় নতুন করে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয় বলে অভিযোগ করেন চালক ও স্থানীয়রা।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড অংশ দিয়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক দূরপাল্লার বাস, কাভার্ডভ্যান ও ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল করে। অভিযোগ রয়েছে, পর্যাপ্ত আলো, সতর্কীকরণ সংকেত ও প্রতিফলক ছাড়াই স্পিডব্রেকার স্থাপন করায় রাতে চালকদের জন্য সেটি শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ে। এ ছাড়া হঠাৎ গতি কমানোর কারণে মহাসড়কে যানজটেরও সৃষ্টি হয়। চালক, যাত্রী ও স্থানীয়দের আপত্তির পর স্পিডব্রেকারটি অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এর আগে গত মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনুষ্ঠানে স্বেচ্ছাসেবীর দায়িত্ব পালন করতে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন শিক্ষার্থী মাইশা। কুমিরা এলাকায় মহাসড়ক পার হওয়ার জন্য রাস্তার পাশে অপেক্ষা করছিলেন তিনি। এ সময় দুটি লরির পাল্লা দিয়ে চলার মধ্যে একটি প্রাইভেটকারের গতি কমে গেলে একটি লরি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মিনিবাসকে ধাক্কা দেয়। এতে মিনিবাসটি উল্টে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা তিন ছাত্রীর ওপর পড়ে। বাসের নিচে চাপা পড়ে গুরুতর আহত হন মাইশা। তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
মাইশার মৃত্যুর ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শোকের ছায়া নেমে আসে। স্থগিত করা হয় ক্লাস ও পরীক্ষা। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে মরদেহ নেওয়া হয় মীরসরাই উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নের বড়তাকিয়া এলাকায় গ্রামের বাড়িতে। বাদ এশা দ্বিতীয় জানাজা শেষে বাবার কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।
মাইশার ব্যক্তিগত জীবনও ছিল নানা সংগ্রামের। পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময় বাবাকে হারান তিনি। মায়ের সংগ্রাম ও প্রচেষ্টায় উচ্চশিক্ষার পথে এগিয়ে যাচ্ছিলেন এই শিক্ষার্থী। গত শুক্রবার আত্মীয়স্বজনকে নিয়ে মেয়ের জন্মদিন উদ্যাপন করেছিলেন মা সালমা আক্তার। কিন্তু এর কয়েক দিনের মধ্যেই সেই পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া।
মাইশার মৃত্যুর পর মহাসড়কে নিরাপদ পারাপারের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। শিক্ষার্থীরা বলছেন, অস্থায়ী স্পিডব্রেকার দিয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কুমিরা এলাকায় দ্রুত আধুনিক ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থানটিতে দ্রুত ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের পাশাপাশি ট্রাফিক পুলিশের তৎপরতা বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে মহাসড়কে পথচারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে স্থায়ী অবকাঠামোগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
সময়ের আলো/জোই