প্রকাশ: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৪৭ এএম আপডেট: ০৭.১১.২০২৬ ১১:৪১ এএম
দুর্ঘটনা কবলিত বাস। ছবি : সময়ের আলো কুমিল্লা থেকে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের নিয়ে কক্সবাজারে শিক্ষাসফরে যাওয়ার পথে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার কেরানীহাটে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে একটি বাস। এতে এক নারীসহ দুজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন।
শনিবার (৭ নভেম্বর) ভোররাত আনুমানিক ৩টা ৪৫ মিনিটে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের খুনিয়াবটতল কেরানীহাট রেলবিটের প্রায় ৩০০ গজ দক্ষিণে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মালাপাড়া এলাকার মৃত ইউনুস মিয়ার ছেলে সাখাওয়াত হোসেন ইসরাফিল (৫৬) এবং বুড়িচং উপজেলার জগতপুর এলাকার রেজাউল করিমের স্ত্রী সোহানা আফরোজ (৪৫)।
দোহাজারী হাইওয়ে থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার নিউমার্কেটের সামনে অবস্থিত বাক্সিমুল ইসলামিয়া সুন্নিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের নিয়ে শিক্ষাসফর উপলক্ষে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাত ১০টার দিকে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হয় তিশা পরিবহনের একটি বাস। বাসটির নিবন্ধন নম্বর কুমিল্লা-ব-১১-০০৬০।
পুলিশের তথ্যমতে, বাসটি কক্সবাজারের দিকে যাওয়ার সময় সাতকানিয়ার কেরানীহাট এলাকায় পৌঁছে নিয়ন্ত্রণ হারায়। এ সময় নির্ধারিত লেন অতিক্রম করে মহাসড়কের পশ্চিম পাশের খাদে পড়ে উল্টে যায়। এতে বাসের বেশ কয়েকজন যাত্রী আহত হন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দোহাজারী হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সাতকানিয়া ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় উদ্ধার অভিযান চালায়। আহতদের উদ্ধার করে কেরানীহাটের আশশেফা, আল-হায়াত, মা ও শিশু হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পরে গুরুতর আহত সাখাওয়াত হোসেন ইসরাফিল ও সোহানা আফরোজকে সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
অন্য আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়।
দোহাজারী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল আবছার জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করে। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি জব্দ করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলছে।
সময়ের আলো/জোই