যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দফতরের দুই কর্মকর্তা জানিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক ও গোপন পদক্ষেপের বিভিন্ন পরিকল্পনা সম্পর্কে জানানো হয়েছে।
তাদের মতে, ইরানে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এখনও সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পাশাপাশি সাইবার হামলা ও মনস্তাত্ত্বিক প্রচারণা পরিচালনার মতো পদক্ষেপও পেন্টাগনের পরিকল্পনার অংশ।
মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং অর্থনৈতিক চাপ
মানবাধিকার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে গত তিন সপ্তাহে ৬০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। এ পরিস্থিতির মধ্যে সোমবার ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক থাকা দেশগুলোর পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তেহরান আলোচনার জন্য প্রস্তুত, তবে একই সঙ্গে যুদ্ধের জন্যও তারা প্রস্তুত।
হোয়াইট হাউজে বৈঠকের সম্ভাবনা
সূত্র জানায়, মঙ্গলবার হোয়াইট হাউজে ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা দলের বৈঠক হতে পারে। তবে প্রেসিডেন্ট নিজে সেখানে উপস্থিত থাকবেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
এর আগে ট্রাম্প বলেন, যদি আরও বিক্ষোভকারী নিহত হয়, যুক্তরাষ্ট্র “খুব শক্ত” পদক্ষেপ নিতে পারে। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, ইরানি নেতারা আলোচনার জন্য যোগাযোগ করেছেন, তবে প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রকে বৈঠকের আগেই পদক্ষেপ নিতে হতে পারে।
সামরিক পরিকল্পনা ও নাগরিকদের সতর্কতা
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রগুলো জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপে বিমান হামলার ভূমিকা থাকতে পারে। এছাড়া ইরানের সামরিক কমান্ড ও যোগাযোগ ব্যবস্থাকে দুর্বল করার পরিকল্পনাও বিবেচনা করা হচ্ছে।
ইরানে থাকা মার্কিন নাগরিকদের দেশ ছাড়ার বা বিকল্প পরিকল্পনা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
খামেনির প্রতিক্রিয়া
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি প্রতারণা ও বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, ইরানি জাতি শক্তিশালী, সচেতন এবং শত্রুদের চেনে।
ট্রাম্পের শুল্ক এবং অর্থনৈতিক প্রভাব
ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত।
ইতোমধ্যে কঠোর নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের মুদ্রা ধ্বংসপ্রাপ্ত ও খাদ্যের দাম ৭০ শতাংশ বেড়ে গেছে। নতুন শুল্ক পরিস্থিতি আরও খারাপ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নির্বাসিত রেজা পাহলভির মন্তব্য
যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত ইরানের সাবেক শাহের ছেলে রেজা পাহলভি ট্রাম্পকে দ্রুত হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বর্তমান ইরান সরকার আলোচনার নামে বিশ্বকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।
বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা
নরওয়েভিভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআরএনজিও) বলছে, ইরানে অন্তত ৬৪৮ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে নয়জন ১৮ বছরের কম বয়সী। তবে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট ও বিদেশি সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার সীমিত হওয়ায় প্রকৃত সংখ্যা জানা কঠিন।
/ইউএমএইচ