মিয়ানমার সীমান্ত থেকে ছোড়া গুলিতে আহত টেকনাফের ৯ বছরের শিশু হুজাইফা আফনানের শারীরিক অবস্থা এখনও সংকটাপন্ন। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্সেস ও হাসপাতালে স্থানান্তর করার জন্য ঢাকায় আনা হচ্ছে। এদিকে তার মস্তিষ্কের চাপ কমাতে খুলির একটি অংশ খুলে রাখা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চার সদস্যের মেডিকেল বোর্ড এই সিদ্ধান্ত নেন। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
হুজাইফা কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের লম্বাবিল গ্রামের জসিম উদ্দিনের সন্তান। রোববার (১১ জানুয়ারি) সকালে সীমান্তের ওপার থেকে ছোঁড়া গুলিতে গুরুতর আহত হলে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাতেই তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয় এবং অস্ত্রোপচার করা হলেও গুলি বের করা যায়নি। বর্তমানে সে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে।
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে কয়েকদিন ধরে বিমান ও ড্রোন হামলা, মর্টার শেল ও বিস্ফোরণ চলছেই। মংডু টাউনশিপের আশপাশে সরকারি বাহিনী আরাকান আর্মির অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা জোরদার করেছে। একই সময়ে স্থলভাগে আরাকান আর্মির সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছে রোহিঙ্গাদের তিনটি সশস্ত্র গোষ্ঠী। ফলে সীমান্তবর্তী এলাকায় পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হচ্ছে। ওপারের বিস্ফোরণে বাংলাদেশের টেকনাফের গ্রামগুলো কেঁপে উঠছে; গোলাগুলির আওয়াজে লোকজনের ঘরবাড়ি, চিংড়িঘের এবং নাফ নদ পর্যন্ত ক্ষতি হচ্ছে।
হুজাইফার চাচা মোহাম্মদ এরশাদ জানিয়েছেন, শনিবার রাতের গোলাগুলির শব্দে পুরো এলাকা আতঙ্কিত ছিল। রোববার সকালে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত মনে হওয়ায় হুজাইফা বাইরে খেলতে বের হয়। ঠিক সেই সময় সীমান্তের ওপার থেকে ছোড়া একটি গুলি তার মুখের পাশে ঢুকে মাথায় লাগে।
/ইউএমএইচ