শহিদ শরিফ ওসমান বিন হাদি ঢাকায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করাসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং ‘ফ্যাসিস্টদের’ দমনে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২’ শুরু করে সরকার। এতে গত এক মাসে সারাদেশে ১৮ হাজার ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে যৌথবাহিনী।
পুলিশ সদর দফতর সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়ে সোমবার পর্যন্ত চলা এই অভিযানে ১৮ হাজার ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় ২৮৪টি আগ্নেয়াস্ত্র, এক হাজার ৮৪৪টি গুলি, ৫৭৭টি দেশীয় অস্ত্র, তিনটি গ্রেনেড, ৯৫টি ককটেল-বোমা, প্রায় ২০ কেজি গান পাউডার ও ২৭ কেজি রাসায়নিক পাউডার, বিস্ফোরক, অস্ত্র-বোমা ও ককটেল তৈরির বিভিন্ন ধরনের সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়।
এ ছাড়া বিভিন্ন মামলা ও গ্রেফতারি পরোয়ানায় ২৭ হাজার ৬০৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়। গত ১৩ ডিসেম্বর থেকে গত সোমবার পর্যন্ত সারা দেশে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে ৭ হাজার ১৯৪টি তল্লাশিচৌকি পরিচালনা করে পুলিশ। এ সময় ৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫৭২টি গাড়িতে তল্লাশি এবং ১৩ হাজার ৮২৬টি মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) যোগাযোগ করা হলে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি-ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করাসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও যারা নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করতে চায়, ঝটিকা মিছিল করছে, যারা ফ্যাসিস্টের সঙ্গে ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত, তাদের কেন্দ্র করেই সারা দেশে অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২ শুরু করা হয়।
এর আগে গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযান ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ শুরু করা হয়েছিল। গাজীপুরে ছাত্র-জনতার ওপর সন্ত্রাসী আক্রমণের ঘটনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত সভায় এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে ও সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনতে গাজীপুরসহ সারা দেশে যৌথ বাহিনীর সমন্বয়ে অপারেশন ডেভিল হান্ট পরিচালনা করা হয়।
সময়ের আলো/কেএইচও