ইরানের চলমান বিক্ষোভে মার্কিন হস্তক্ষেপ এবং ট্রাম্পের সম্ভাব্য হামলা নিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে চিঠি পাঠিয়েছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি। তিনি চিঠিতে ইরানের প্রতি ট্রাম্পের ‘হস্তক্ষেপবাদী বক্তব্য’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়।
ইরাভানি অভিযোগ করেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইচ্ছাকৃতভাবে ইরানে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে উৎসাহ দিচ্ছেন এবং সহিংসতা উসকে দিচ্ছেন।
তিনি কাউন্সিলের সদস্যদের বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট যেখানে বিক্ষোভকারীদের ইরানি প্রতিষ্ঠানগুলো দখল করার আহ্বান জানানো হয়েছে- তা স্পষ্টতই রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতাকে উৎসাহিত করছে এবং সহিংসতাকে উসকে দিচ্ছে। ট্রাম্পের এসব মন্তব্য ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ইরাভানি বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের স্পষ্টভাবে দেওয়া বিবৃতি, যেখানে বিক্ষোভকারীদের ইরানে ‘প্রতিষ্ঠানগুলোর দখল’ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। ২০২৫ সালের জুনে ইরানে ১২ দিনের যে আগ্রাসী হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র এর ব্যর্থতার প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প এমন মন্তব্য করছেন।
তিনি বিক্ষোভে নিরীহ বেসামরিক মানুষ, বিশেষ করে তরুণদের প্রাণহানির জন্য তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল সরকার ‘প্রত্যক্ষ এবং অনস্বীকার্য’ দায় বহন করে।
এর আগে ইরানের বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দেয়ার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তাদেরকে ইরানের প্রতিষ্ঠানগুলোর দখল নিতে বলেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, বিক্ষোভ বন্ধ না করে প্রতিষ্ঠানগুলো দখল কর। সাহায্য আসছে।
ডিসেম্বরে ইরানে দ্রব্যমূল্যের বৃদ্ধির কারণে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে তা সরকারবিরোধী আন্দোলনে গিয়ে দাঁড়ায় এবং আয়াতুল্লাহ খামেনির শাসনব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি করে।
/ইউএমএইচ