বাংলাদেশে একজনের ভোট অন্যজনের দিয়ে দেওয়ার ঘটনা নতুন না। বিগত কিছু নির্বাচনে এই পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন অনেকে। ভোটকেন্দ্রে গিয়ে দেখলেন আপনার ভোট অন্য কেউ দিয়ে দিয়েছে। নিজেদের অধিকার প্রয়োগ করতে না পেরে মন খারাপ নিয়ে চলে গেলেন বাড়িতে। তবে এবার আর এই পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে না ভোটারদের।
‘টেন্ডার্ড ভোটের’ মাধ্যমে আপনার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন আপনিই। বাংলাদেশের নির্বাচনী আইন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ বা আরপিওতেই এই টেন্ডার্ড ভোটের বিধান যুক্ত রয়েছে।
আরপিওর ৩২ এর (১) অনুচ্ছেদে বলা আছে– ‘যদি কোনো ব্যক্তি ব্যালট পেপারের জন্য আবেদন করে জানতে পারেন যে, অন্য কোনো ব্যক্তি আগেই তার নামে ভোট দিয়ে চলে গেছে, তাহলে তিনি এই অনুচ্ছেদের বিধান সাপেক্ষে, একটি টেন্ডার্ড ব্যালট পেপার পাওয়ার অধিকারী হইবেন।’
যদিও টেন্ডার্ড ভোটের এই পদ্ধতিতেও আছে বিস্তর ঝামেলা। এতে ভোটারকে ভোটাধিকার প্রয়োগের ক্ষমতা দেওয়া হলেও এই ভোট পড়বে না ব্যালট বক্সে। যার কারণে টেন্ডার্ড ভোটকে অনেকে শান্তনা ভোট বা প্রতারণামূলক ভোটও বলে থাকেন। সাধারণত ভোট কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে এই ভোট নেওয়া হয়ে থাকে। তবে আপাতদৃষ্টিতে টেন্ডার্ড ভোট কাজে না লাগলেও পছন্দের প্রার্থীর একেবারে বিপদের মুহূর্তে ফলাফলের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে এই ভোট।
আরপিও অনুযায়ী- টেন্ডার্ড ব্যালট পেপারে ভোট দিতে পারলেও ভোটার ওই ব্যালট পেপারটি নির্দিষ্ট ব্যালট বাক্সে না ফেলে প্রিসাইডিং অফিসারের কাছে জমা দেবেন। প্রিসাইডিং অফিসার ভোটারের নাম ও ভোটার নম্বর লিপিবদ্ধ করে ওই ব্যালটটিকে আলাদা একটি খামে সংরক্ষণ করবেন। কিন্তু এই ভোটটি মূল ভোটের হিসাবে যুক্ত হবে না। তবে দুই প্রার্থীর ভোটের পরিমান সমান হয়ে গেলে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে এই টেন্ডার্ড ভোটটি। শুধু আদালতের অনুমোদনক্রমে সেই ভোট যুক্ত হতে পারে প্রার্থীদের হিসাবে। যা হয়ে উঠতে পারে ভোটের ফলাফল নির্ধারণের বড় হাতিয়ারও।
সময়ের আলো/এসকে/