যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউস প্রেস ব্রিফিংয়ে অভিবাসন ও সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ সংস্থা আইসিই সংক্রান্ত প্রশ্নের জেরে এক ইউরোপীয় সাংবাদিকের সঙ্গে প্রকাশ্য বাকবিতণ্ডায় জড়িয়েছেন প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট। সরাসরি সম্প্রচারিত ওই ব্রিফিংয়ে সাংবাদিককে তিনি ‘বামপন্থি হ্যাক’ ও ‘ভান করা সাংবাদিক’ বলে আক্রমণ করেন, যা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে ১৫ জানুয়ারি নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য হিল-এ কর্মরত আয়ারল্যান্ডের সাংবাদিক নিয়াল স্ট্যানেজ আইসিই হেফাজতে মৃত্যুর সংখ্যা এবং মিনিয়াপোলিসে আইসিই এজেন্টের গুলিতে রেনি নিকোল গুড নিহত হওয়ার ঘটনা তুলে ধরে প্রশ্ন করেন। তিনি জানান, গত বছর আইসিই হেফাজতে অন্তত ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৭০ জন মার্কিন নাগরিককে আটক করা হয়েছিল। স্ট্যানেজ আরও উল্লেখ করেন, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোয়েম রেনি গুডের মৃত্যুর পরও দাবি করেছেন যে আইসিই ‘সবকিছু সঠিকভাবেই করেছে’। এ অবস্থায় তিনি জানতে চান, ‘তা হলে কীভাবে বলা যায় তারা সবকিছু ঠিকভাবে করেছে?’
জবাবে লিভিট উল্টো সাংবাদিকের কাছেই জানতে চান, কেন তার মতে রেনি গুড নিহত হয়েছেন। স্ট্যানেজ বলেন, তার বিশ্বাস অনুযায়ী একজন আইসিই এজেন্ট বেপরোয়া আচরণ করে গুলি চালান। এর পরই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন প্রেস সেক্রেটারি। তিনি বলেন, ‘আপনি একজন পক্ষপাতদুষ্ট সাংবাদিক। আপনি বামপন্থি হ্যাক।’ একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, স্ট্যানেজ সাংবাদিকতার আড়ালে রাজনৈতিক অ্যাকটিভিজম করছেন।
লিভিট আরও বলেন, ‘আপনি এই কক্ষে বসে সাংবাদিক সেজে আছেন। আপনার প্রশ্নই প্রমাণ করে আপনি পক্ষপাতদুষ্ট।’ এরপর তিনি আলোচনার দিক ঘুরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসীদের হাতে নিহত নাগরিকদের প্রসঙ্গ তোলেন এবং অভিযোগ করেন, সাংবাদিকরা এসব ঘটনা উপেক্ষা করেন।
উল্লেখ্য মিনিয়াপোলিসে ৭ জানুয়ারি সকালে ৩৭ বছর বয়সি রেনি নিকোল গুডকে আইসিই এজেন্ট গুলি করে হত্যা করে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে আইসিই অভিযানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে অংশ নিতে গিয়ে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। এ ঘটনার পর শহরজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতির উত্তাপে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘ইনসারেকশন অ্যাক্ট’ প্রয়োগের হুমকি দেন, যা নিয়ে মিনেসোটার গভর্নর টিম ওয়ালজ ও মিনিয়াপোলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা কেন্দ্রীয় সরকারকে উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন।