‘মব শব্দটি বলার পেছনে জুলাইকে প্রশ্নবিদ্ধের মানসিকতা কাজ করে’

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয়

‘মব’ শব্দটি বলার পেছনে জুলাই বিপ্লবকে প্রশ্নবিদ্ধ করার একটা মানসিকতা কাজ করে বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর

2026-01-18T18:33:31+00:00
2026-01-18T18:33:31+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬,
২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
জাতীয়
‘মব শব্দটি বলার পেছনে জুলাইকে প্রশ্নবিদ্ধের মানসিকতা কাজ করে’
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: রোববার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:৩৩ পিএম   (ভিজিট : ১২৩)
‘মব শব্দটি বলার পেছনে জুলাইকে প্রশ্নবিদ্ধের মানসিকতা কাজ করে’
‘মব’ শব্দটি বলার পেছনে জুলাই বিপ্লবকে প্রশ্নবিদ্ধ করার একটা মানসিকতা কাজ করে বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম। তাই ‘মব’ শব্দটি ব্যবহার করার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করার কথাও বলেন তিনি।
 
রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং আইনের শাসন’ শীর্ষক নীতি সংলাপে তিনি এ মন্তব্য করেন। সংলাপের আয়োজন করে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস)। 

সংলাপে রাজনৈতিক ব্যক্তি, আইনজীবী, মানবাধিকারকর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আলোচনায় বিচার বিভাগের স্বাধীনতার পাশাপাশি মবের বিষয়টি উঠে আসে।

এ সশয় তাজুল ইসলামের এমন বক্তব্যের পর একাধিক বক্তা তার বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন। এমন বক্তব্যকে থ্রেট হিসেবে দেখছেন বলে জানান বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ। 

এর আগে সংলাপের সূচনা বক্তব্য দিতে গিয়ে সিজিএসের নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করীম আব্বাসি বলেন, এখন বিচার বিভাগের নয়, মবোক্রেসির রুল দেখা যাচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়া ট্রায়াল হচ্ছে। পরিস্থিতি যদি এমন থাকে যে তথাকথিত তৌহিদি জনতা আইন নিজের হাতে নিতে পারে এবং দোষীদের শাস্তি দিতে গড়িমসি চলে, তখন আইনের শাসন নিশ্চিত করতে যত প্রতীকী ব্যবস্থাই নেওয়া হোক, তা যথেষ্ট নয়।

আইনের শাসন নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, বিপ্লবের আগে–পরে যেকোনো সময় ইনজাস্টিসকে অ্যালাউ করলে সেটা বাউন্স ব্যাক করবেই। মবকে অ্যালাউ করা হয়েছিল, এখন মব সরকারকে খেয়ে ফেলছে। নির্বাচন কমিশনকে খেয়ে ফেলছে। দেশকেও খেয়ে ফেলতে পারে।

এই দুই বক্তার বক্তব্যকে উদ্দেশ্য করে সংলাপে তাজুল ইসলাম বলেন, গণভবনের পতনের যে আন্দোলন, তার সঙ্গে বিশেষ কোনো গোষ্ঠীর কেউ যদি রাস্তায় ছিনতাইকারী অথবা কোনো ধর্মীয় সংখ্যালঘু পিটিয়ে হত্যা করে, দুটোকে একসঙ্গে বিচার করা যাবে না। মব শব্দটা প্রয়োগের আগে অবশ্যই খুব সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। 

তিনি আরও বলেন, গণভবনের পতনের এই বিপ্লবের যে অর্জন, সেটার সঙ্গে মব শব্দটি বারবার ব্যবহার করে বিপ্লবীদের প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা কোনো মহলে থাকলে তাদের সংযত হওয়া উচিত।


সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, আইনের শাসন চান, আবার মবকে উসকান। এটা বাংলাদেশে চলতে পারে না।
 
তাজুল ইসলামের বক্তব্যের সমালোচনা করেন বিএনপি নেত্রী নিলুফার চৌধুরীও। এছাড়া বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের নেতারা এটিকে থ্রেট হিসেবে দেখছেন বলে জানান তারা। 

সংলাপের সঞ্চালক ছিলেন সিজিএসের প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমান। এই তিন বক্তার বক্তব্যের পর তিনি বলেন, এই টেবিলে বসেই সরকারের একজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বলেছিলেন মব বলে কিছু নেই, এরা হচ্ছে প্রেশার গ্রুপ, এই জাস্টিফিকেশন দাঁড় করানোর কয়েক দিন পর আমরা দেখলাম, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার, তারপর দেখলাম তারা আর মব নিয়ে কথা বলছেন না। এখন আবার যখন তারা মবের পক্ষে কথা বলতে শুরু করেছেন, আমরা আশঙ্কা করছি, অচিরেই হয়তো আমাদের ওই রকম কিছু ঘটনা বা দুর্ঘটনা দেখতে হতে পারে।

সময়ের আলো/এসকে/



  বিষয়:   মব  জুলাই  প্রশ্নবিদ্ধ  চিফ প্রসিকিউটর 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: