ব্যালট পেপারে অনিয়ম ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সামনে দ্বিতীয় দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। ইসির দেওয়া আশ্বাস বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকাল থেকে রাজধানীর বিকেল ৩টা পর্যন্ত আন্দোলন চলমান থাকায় ওই সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
এর আগে, সকাল থেকে আগারগাঁওয়ে ইসি ভবনের সামনে জড়ো হতে থাকেন ছাত্রদলের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা। বেলা সোয়া ১১টার দিকে তারা ইসি ভবনের সামনের সড়কে বসে অবস্থান শুরু করেন এবং এখন পর্যন্ত আন্দোলন চলমান রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাজারো ছাত্রনেতা-নেত্রী ইসি ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। একের পর এক নেতার বক্তব্যে কর্মসূচিতে যোগ দেওয়া নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করা হয়। প্রচণ্ড রোদ উপেক্ষা করেই তারা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নির্বাচন কমিশন ভবনের আশপাশে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি র্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন থাকতে দেখা গেছে।
আরও পড়ুন
এ সময় ইসিকে হুঁশিয়ারি দিয়ে ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ‘আজ যদি আমাদের দাবি আদায়ে নির্বাচন কমিশনের সদিচ্ছার প্রতিফলন না দেখি, তাহলে আমরা আন্দোলনের সব ধরনের পন্থা অবলম্বন করতে বাধ্য হবো। বর্তমানে আমরা শুধু মূল সড়কে অবস্থান নিয়েছি। তবে প্রয়োজনে ইসি ভবনের মূল ফটক অবরোধের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।’
দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি জানান, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সুশৃঙ্খলভাবে অবস্থান করছেন এবং দাবি আদায়ের জন্য প্রয়োজনে সারারাত ইসি ভবনের সামনে অবস্থান অব্যাহত রাখবেন।
ছাত্রদল তিনটি প্রধান অভিযোগ গুলো হলো-১. পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতমূলক ভূমিকা পালন করেছে, যা পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
২. একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর চাপে ইসি দায়িত্বশীল সিদ্ধান্তের পরিবর্তে অদূরদর্শী ও হঠকারী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, যা কমিশনের স্বাধীনতা ও পেশাদারিত্বকে ক্ষুণ্ণ করছে।
৩. বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রত্যক্ষ প্রভাবের কারণে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়ে নজিরবিহীন ও বিতর্কিত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে, যা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য হুমকি হিসেবে দেখছে সংগঠনটি।
এএডি/