এখনই হচ্ছে না নতুন কমিটি

রফিক রাফি

রাজনীতি

ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির নতুন কমিটি গঠন নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা থাকলেও এখনই কমিটি পরিবর্তনের পরিকল্পনা নেই বিএনপির।

2026-07-19T00:37:31+00:00
2026-07-19T00:37:31+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
রাজনীতি
এখনই হচ্ছে না নতুন কমিটি
রফিক রাফি
প্রকাশ: রোববার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ১২:৩৭ এএম 
ছবি : সংগৃহীত
ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির নতুন কমিটি গঠন নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা থাকলেও এখনই কমিটি পরিবর্তনের পরিকল্পনা নেই বিএনপির। আসন্ন ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে বর্তমান নেতৃত্বের ওপরই আস্থা রাখছে দলটি।

নতুন কমিটি গঠন না করে বিদ্যমান নেতৃত্বকে এখন থেকেই নির্বাচনি প্রস্তুতি জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দুই সিটি করপোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলর পদে সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ শুরু করতে বলা হয়েছে। ওয়ার্ড পর্যায়ে সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীদেরও মাঠে নেমে জনসংযোগ চালানোর সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে।

দলীয় সূত্রের দাবি, মেয়র প্রার্থী বাছাইয়েও চমক থাকতে পারে। সম্প্রতি ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির নেতাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে এসব নির্দেশনা দেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি নেতাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও বাড়ানো, দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং তৃণমূলকে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত করার নির্দেশ দেন।

গত ৪ জুলাই রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ঢাকা জেলা বিএনপি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি এবং কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন তারেক রহমান। পরে ১১ জুলাই তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন এবং দলীয় সাংগঠনিক প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নেতা জানান, আলোচনার শুরুতেই বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঢাকা মহানগর বিএনপির বর্তমান সাংগঠনিক অবস্থা নিয়ে জানতে চান।

তিনি প্রশ্ন করেন, জাতীয় নির্বাচনের পর কেন সংগঠনের কার্যক্রম কিছুটা ধীর হয়ে গেছে, কীভাবে এই পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠা যায় এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকা মহানগর বিএনপির প্রস্তুতি কতদূর। পাশাপাশি মেয়র ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে কারা বেশি গ্রহণযোগ্য হতে পারেন সে বিষয়েও নেতাদের মতামত জানতে চান তিনি।

জবাবে মহানগর নেতারা জানান, জাতীয় নির্বাচনের পর বড় ধরনের দলীয় কর্মসূচি না থাকায় নেতাকর্মীদের মধ্যে কিছুটা স্থবিরতা এসেছে। তবে দল থেকে কর্মসূচি ঘোষণা করা হলে রাজপথের আন্দোলন কিংবা নির্বাচন যেকোনো কর্মসূচিতেই নেতাকর্মীরা আগের মতো সক্রিয়ভাবে অংশ নেবেন বলে তারা আশ্বাস দেন।


দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বর্ষা মৌসুম শেষে সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর থেকে ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে। আর ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে আগামী বছর।

বিএনপির নেতারা জানিয়েছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে বা অনৈতিকভাবে কাউকে পাস করিয়ে আনার বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।

তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সরকারের তরফ থেকে কাউকে জোর করে বা অবৈধ উপায়ে বিজয়ী করা হবে না। নির্বাচনে ভালো ফল করতে হলে সবার আগে অভ্যন্তরীণ কোন্দল, হিংসা দূর করতে হবে। দলকে ঐক্যবদ্ধ করতে না পারলে নির্বাচনে ভালো করা সম্ভব হবে না। ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির নেতাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকেও তিনি একই বার্তা দিয়েছেন দলের নেতাদের।

দলীয় সূত্র জানিয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে বিএনপি প্রকাশ্যে তেমন তৎপরতা না দেখালেও দলীয়ভাবে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। বিভিন্ন ব্যক্তি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে জরিপও করানো হয়েছে। মাঠপর্যায়ের ওই জরিপে সারা দেশের ইউনিয়ন, পৌরসভা, উপজেলা ছাড়াও ১৩ সিটি করপোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে জনপ্রিয় আর যোগ্যদের বাছাই করা হচ্ছে।

ঢাকায় মেয়র পদে থাকতে পারে চমক
বিএনপির নীতিনির্ধারক পর্যায়ের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, দলীয় প্রতীক না থাকায় এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচন খুবই চ্যালেঞ্জিং হবে। এ জন্য প্রার্থী তালিকায় কোনো তদবির, স্বজনপ্রীতিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে না। মাঠপর্যায়ের জনপ্রিয়তা ও পরিচ্ছন্ন ইমেজকে প্রাধান্য দিয়ে এবারের দলীয় সমর্থন দেওয়া হবে।

ঢাকা মহানগর বিএনপির নেতারা জানান, ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। এ জন্য দলের হাইকমান্ড খুব ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিতে চাইছে। যোগ্যদের বাছাই করতে এরই মধ্যে দুটি জরিপ পর্ব শেষ করা হয়েছে। নির্বাচনের আগে আরও কয়েক দফা এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনেই নতুন মুখ, নতুন চমক দেখার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তারা মনে করছেন। 

এর মধ্যে ২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ইশরাক হোসেন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে অংশ নিয়েছিলেন। এর আগে ২০১৫ সালের নির্বাচনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস অংশ নিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে ইশরাক হোসেন বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী। জরিপে নেতাকর্মী বিচ্ছিন্ন বলে তাকে উপস্থাপন করা হয়েছে। আর মির্জা আব্বাস এমপি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। বর্তমানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে রয়েছেন আব্দুস সালাম। তার অনুসারীরা আগামী নির্বাচনে তাকে যোগ্য প্রার্থী মনে করছেন।

তবে বিএনপির শীর্ষ মহল মনে করছে এই সিটিতে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ জামায়াত ও এনসিপি তরুণদের সমর্থন দিতে চাইছে। সেখানে বিএনপিও একজন অপেক্ষাকৃত তরুণ আর পরিচ্ছন্ন নেতাকে সমর্থন দেওয়ার পক্ষে। জরিপেও এমন মতামত দেওয়া হয়েছে। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানও এমনটা চাইছেন। সেই হিসেবে এই সিটিতে মেয়র পদে দলের সমর্থন নিয়ে চমক আসছে বলে মনে করছেন তারা।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ২০১৫ ও ২০২০ সালে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়ালকে মনোনয়ন দিয়েছিল দল। তবে এবার ভিন্নতা আসতে চলেছে। এই সিটিতে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী একজন শক্ত প্রার্থীকে বাছাই করেছে বলে বিএনপির নীতিনির্ধারক নেতারাও মনে করছেন। সেখানে পাল্টা শক্ত প্রার্থী হিসেবে উত্তর সিটি করপোরেশনের বর্তমান প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টনকে অগ্রাধিকার দিতে চাইছেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা। জরিপেও তার নাম এগিয়ে রয়েছে বলে জানা গেছে। যদিও এ বিষয়ে মহানগর নেতাদের কেউ প্রকাশ্যে কিছু বলতে রাজি হননি।

ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীর বিষয়ে মহানগর বিএনপি নেতারা বলেন, বৈঠকে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঢাকার প্রত্যেক ওয়ার্ড সম্পর্কে জানতে চান। একই সঙ্গে ঢাকা মহানগরের নেতাদের তরফ থেকে প্রার্থী তালিকা নিয়ে কাজ করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাদের বলেন, সাংগঠনিকভাবে ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে তালিকা দেওয়ার জন্য। এসব তালিকা সমন্বয় করে পরে চূড়ান্ত একক তালিকা করা হবে বলেও বৈঠক থেকে জানানো হয়েছে।

নেতারা জানান, তারেক রহমানের নির্দেশনায় তারা তাদের কাজ ইতিমধ্যে শেষ করেছেন। পরবর্তী বৈঠকে এসব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে বলেও তারা জানান।


ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন সময়ের আলোকে বলেন, বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে সংগঠনকে শক্তিশালী করার নির্দেশনা দিয়েছেন। আমরা সে অনুযায়ী কাজ শুরু করেছি। ইতিমধ্যে থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিট কমিটি প্রয়োজন অনুযায়ী পুনর্গঠন বা নতুন কমিটি গঠনের জন্য ৯টি সাংগঠনিক টিম গঠন করা হয়েছে। তারা কাজ করছে।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সময়ের আলোকে বলেন, বিএনপি নেতাকর্মীরা নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। ইতিমধ্যে আগ্রাহী প্রার্থীরা মাঠে কাজ করছেন। এ বিষয়ে দল যে সিদ্ধান্ত নেবে তা মেনে নেতাকর্মীরা কাজ করে বিজয় তুলে আনবেন।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সময়ের আলোকে বলেন, গণতান্ত্রিক দল হিসেবে আমাদের নির্বাচনের প্রস্তুতি রয়েছে। মাঝে কিছু দিন নির্বাচন না হওয়ায় একটা স্থবিরতা তৈরি হয়েছিল। নির্বাচন কমিশন নির্বাচন ঘোষণা করলেই আমরা অংশ নিতে তৈরি।

সময়ের আলো/এসএকে


  বিষয়:   নতুন কমিটি  বিএনপি  ঢাকা মহানগর উত্তর  ঢাকা মহানগর দিক্ষিণ  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
রাজনীতি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: