প্রশাসনে হিস্যা চায় যুগপতের শরিকরা

সাব্বির আহমেদ

রাজনীতি

ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ আন্দোলনে থাকা মিত্র শরিকদের নিয়ে বৈঠকে বসতে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। একসময় ফ্যাসিবাদবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনে থাকা শরিক দলগুলোর

2026-07-18T01:09:33+00:00
2026-07-18T02:21:09+00:00
 
  শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬,
৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
রাজনীতি
প্রশাসনে হিস্যা চায় যুগপতের শরিকরা
সাব্বির আহমেদ
প্রকাশ: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ১:০৯ এএম  আপডেট: ১৮.০৭.২০২৬ ২:২১ এএম
গ্রাফিক : সময়ের আলো
ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ আন্দোলনে থাকা মিত্র শরিকদের নিয়ে বৈঠকে বসতে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। একসময় ফ্যাসিবাদবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনে থাকা শরিক দলগুলোর সঙ্গে সোমবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৈঠক করবেন। বৈঠকের খবরে শরিকরা স্বস্তি প্রকাশের পাশপাশি তাদের দাবিগুলোও জোরালোভাবে সামনে আনছেন। সরকারে থাকতে না পেরে বেশিরভাগই উষ্মা প্রকাশ করছেন। 

‘একসঙ্গে আন্দোলন, একসঙ্গে সরকার’ কয়েক বছর আগে শরিকদের উদ্দেশে দেওয়া বিএনপির এমন মন্তব্য স্মরণ করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। কেউ কেউ চান সরকারের নানা পর্যায়ে অংশীদার হিসেবে কাজ করতে। সরকারের বিভিন্ন কাজে নিজেকে ও নিজেদের দলকে সম্পৃক্ত করতে। 

মিত্রদের প্রত্যাশা, যেভাবে তারা বিএনপির সঙ্গে রাজপথে আন্দোলন করেছেন, একইভাবে এখন সরকারের বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনায়ও সরাসরি ভূমিকা রাখার সুযোগ পাবেন। এ ছাড়া আলোচনায় উঠে আসতে পারে সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পাঁচ মাসের সফলতা ও ব্যর্থতার প্রসঙ্গ। তবে ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর এই দাওয়াতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)। দলটি চিঠি দিয়ে না যাওয়ার কারণও জানিয়ে দিয়েছে।

বিএনপি ও শরিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। ক্ষমতায় আসার পর এখন পর্যন্ত শরিকদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে বসেনি বিএনপি। যদিও নির্বাচনের আগে যুগপৎ আন্দোলনের সঙ্গীদের নিয়ে ধারাবাহিক বৈঠক করেছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও দলটির শীর্ষ নেতারা।

তিন বছর আগে বিএনপির নেতৃত্বে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে যুগপৎ আন্দোলনে প্রায় অর্ধশত দল যুক্ত ছিল। সংসদ নির্বাচনে শরিকদের বিভিন্নভাবে ডজনখানেক আসন ছেড়ে দেয় বিএনপি। এর মধ্যে সরকারে রয়েছে গণতন্ত্র মঞ্চের গণসংহতি আন্দোলন, গণঅধিকার পরিষদ ও জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম)। জানা গেছে, প্রায় দেড়শ শরিক ও সমমনা নেতাকে চিঠি দিয়েছে বিএনপি।

আসন ছাড় পেলেও ভোটে হেরে যান জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের চার প্রার্থী। সংসদে যেতে ব্যর্থ হন আরও কয়েকজন পরিচিত শরিক নেতাও। শরিকদের মধ্যে জয় পান মাত্র তিনজন, যারা নিজ নিজ প্রতীকে নির্বাচন করে বিজয়ী হন। তারা হলেন- গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি, গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুর এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) আন্দালিব রহমান পার্থ। এর মধ্যে জোনায়েদ সাকি ও নুরুল হক নুর বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন। অন্যদিকে নিজ দল এনডিএম ছেড়ে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করে জয়ী হয়ে প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন ববি হাজ্জাজ।


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পিরোজপুর-১ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেন যুগপৎ আন্দোলনের শরিক ১২ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা ও জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার। বিএনপির সমর্থন পেয়েও তিনি পরাজিত হন।

সময়ের আলোকে মোস্তফা জামাল হায়দার বলেন, ‘শুনতে পাচ্ছি আমাদের নিয়ে বসবেন তারেক রহমান। বিএনপির সঙ্গে আমাদের লড়াই দীর্ঘদিনের। রাজপথ থেকে শুরু করে সবখানে আমরা একসঙ্গে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছি। আমরা মনে করি এই লড়াই এখনও চলমান। এই আন্দোলন যেন পুনর্জীবিত ও সুসংহত হয় সেটিই আমাদের প্রত্যাশা। একই সঙ্গে আমরা সরকারের সঙ্গে কাজ করতে চাই। দেশের জন্য কাজ করার পরিবেশ ও সুযোগ চাই। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে আমরা এসব বিষয় তুলে ধরব।’

গণতন্ত্র মঞ্চের নেতা ও বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক সময়ের আলোকে বলেন, ‘আনুষ্ঠানিকভাবে আমরা এখনও কোনো আমন্ত্রণ পাইনি। প্রধানমন্ত্রীর দাওয়াত পেলে মিত্র শরিক হিসেবে অবশ্যই আমরা সেই ডাকে সাড়া দেব। উনি কী  বলেন সেটি আগে শুনব। সরকারের ৫ মাস, আমাদের মিশ্র অনুভূতি জানাব। কোথায় সরকার পিছিয়ে পড়েছে, সামনে কোথায় সরকার খাদে পড়তে যাচ্ছে এগুলো নিয়ে আলোচনা হবে। আমরা ভালো কাজের প্রশংসা ও মন্দ কাজের সমালোচনা করতে চাই।’ তিনি বলেন, বিশেষ করে জোট কিংবা মিত্রদের সঙ্গে সরকারের রাজনৈতিক জার্নিটা কী, সরকার কি এই চ্যাপ্টার ক্লোজ করতে চায়? আর রাজনৈতিক জার্নি জারি থাকলে এর নমুনা কী? আমরা চাই, গণতন্ত্রকে আরও সুসংহত করতে এবং সরকারের গণতান্ত্রিক কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে।

এক প্রশ্নের জবাবে গণতন্ত্র মঞ্চের এই নেতা বলেন, আমরা অর্থাৎ আমাদের দল পরিষ্কারভাবে বলছি, কোনো দেনদরবারে যাচ্ছি না। গণতন্ত্র মঞ্চ কী করবে, কী বলবে সেটা তাদের বিষয়। গণতন্ত্র মঞ্চ কার্যত মৃতপ্রায়। নির্বাচনের পর মঞ্চের স্বাভাবিক মৃত্যু ঘটেছে।

জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের শীর্ষ নেতা ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ সময়ের আলোকে বলেন, ‘বিরোধী দলে থাকাকালে আমরা কী করেছি এবং এখন বিএনপি কী করছে এসব বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। শুধু দুয়েকটি দল থেকে কাউকে মন্ত্রিসভায় নিলেই কিন্তু জাতীয় সরকার হয় না। বিএনপি বলেছিল একসঙ্গে আন্দোলন ও একসঙ্গে অর্থাৎ সবাইকে নিয়ে সরকার গঠন করবে। এইদিন শেষ দিন নয়। সরকারকে এই বিষয়টি বুঝতে হবে। আমরা চাই সরকার সবাইকে নিয়ে সুষ্ঠুভাবে দেশ পরিচালনা করুক।’

শরিকদের কেউ কেউ অভিযোগ করছেন ক্ষমতায় গিয়ে বিএনপি অনেকটা ‘একলা চলো’ নীতি অনুসরণ করছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি ও কমলনগর) আসনে নির্বাচন করে পরাজিত হন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি তানিয়া রব। যুগপৎ আন্দোলনের অন্যতম এই শরিক নেতা সময়ের আলোকে বলেন, ‘আমরা প্রধানমন্ত্রীর দাওয়াত পেয়েছি, কিন্তু যাচ্ছি না। চিঠি দিয়ে কারণ জানিয়ে দিয়েছি। দেশের এই বন্যা পরিস্থিতির মধ্যে নৈশভোজ শোভনীয় নয় বলে মনে করছি। আর সবাইকে একসঙ্গে ডেকেছে, বৈঠক করার মতো পরিবেশ নেই। 

তবে জাতীয় কোনো সংকটের সময় ঐক্যের ডাকে সাড়া দেবে জেএসডি।’ দলের আরেক নেতা বলেন, আমরা জেএসডির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি প্রধানমন্ত্রীর দাওয়াতে যাব না। বিএনপি সরকারের ৫ মাস হলো, এখন পর্যন্ত একবারও খবর নিল না। দেশের প্রবীণ জাতীয় নেতা আ স ম আব্দুর রব দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। সরকার ও বিএনপির কেউ নেতাকে দেখতে এলো না।

এক ধরনের উষ্মা প্রকাশ করে গণফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী সময়ের আলোকে বলেন, ‘কী আর বলব! বিএনপি নিজেই বলেছিল তারা একসঙ্গে আন্দোলন ও একসঙ্গে সরকার গঠন করবে। এই কথা তারা বারবার বলেছে। কিন্তু এখন কী দাঁড়াল? দুয়েকটি দল থেকে মন্ত্রিপরিষদে ঠাঁই হলো, বাকিদের খবর নেই। বিষয়টি তাদের স্মরণ করিয়ে দেব। প্রধানমন্ত্রীর কাছে তো আর দাবি করতে পারব না, কিন্তু বিএনপির প্রধান হিসেবে উনাকে (তারেক রহমান) বলব।’

গণতন্ত্র মঞ্চের আরেক নেতা ও ভাসানী অনুসারী পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু সময়ের আলোকে বলেন, ‘সোমবার সন্ধ্যায় যমুনায় আমরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বসব। ইতিমধ্যে প্রত্যেক দল থেকে ৫ জন করে নামের তালিকা নেওয়া হয়েছে। মূলত প্রধানমন্ত্রী কোন আঙ্গিকে কথা বলেন তা শুনব। সরকারের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে আমরা সার্বিক পর্যালোচনা তুলে ধরব। আমাদের জন্য সরকার কী করতে পারে, আমরা সরকারের জন্য কী করতে পারি তা হয়তো আলোচনায় উঠে আসবে। আমাদের আগে বলা হয়েছিল একসঙ্গে নির্বাচন একসঙ্গে সরকার। কিন্তু কিছু শরিক দল সরকারের কাজের সুযোগ পেল, বাকিরা কিছু পেল না। এসব প্রসঙ্গে কথা উঠবে।’

গণঅধিকার পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন সময়ের আলোকে বলেন, ‘প্রথমত আমরা আলাদাভাবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বসতে চাই। স্বাভাবিকভাবেই আমাদের দল অন্য শরিকের চেয়ে বড়। সারা দেশে কমিটি আছে। আমরা কিছু সুনির্দিষ্ট লিখিত প্রস্তাবনা তুলে ধরতে চাই। অর্থাৎ গণঅধিকার পরিষদ সরকারের সঙ্গে কাজ করতে চায়। আমাদের দলের অনেক নেতাকর্মী আছে সারা দেশে। তাদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে পদায়ন, কর্মসংস্থান নিশ্চিত করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে। বিশেষ করে গণঅধিকার পরিষদের প্রতিনিধি যাতে জেলা ও উপজেলার আইনশৃঙ্খলা-ক্রীড়া, অর্থসহ বিভিন্ন সভা কমিটিতে থাকতে পারে সে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা হবে।’


তিনি বলেন, কেন্দ্রীয়ভাবে বিএনপি যেভাবে গণঅধিকার পরিষদকে মূল্যায়ন করে, তৃণমূলে তার উল্টো চিত্র। বিভিন্ন জেলায় বিএনপি এককভাবে আধিপত্য বজায় রাখছে। আমরা তাদের মিত্র হিসেবে সঙ্গে থাকতে চাই। যেসব জায়গায় সমস্যা হচ্ছে, সেগুলো সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরতে চাই।

বামপন্থি রাজনৈতিক দল গণসংহতি আন্দোলনের বর্তমান নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল সময়ের আলোকে বলেন, ‘নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন, উপজেলা, জেলা পর্যায়ে কীভাবে সরকারের সঙ্গে আরও ভালোভাবে কাজ করা যায় সেসব বিষয় থাকবে আলোচনায়।’

বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ এমপি সময়ের আলোকে বলেন, ‘আমরা তো সরকারের সঙ্গে আছি। তাদের সহযোগিতা করতে চাই। সরকারের নেওয়া বিভিন্ন প্রকল্প বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডগুলোর মতো জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো যাতে সুষ্ঠুভাবে জনগণের কাছে পৌঁছায়। আমরা সরকারকে পরামর্শ ও কিছু প্রস্তাবনা দেব।’

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, গণতন্ত্র মঞ্চ, ১২ দলীয় জোট, সমমনা জোট, গণঅধিকার পরিষদ ও গণফোরামসহ শরিক রাজনৈতিক শক্তিগুলোর শীর্ষ নেতারা বৈঠকে অংশ নেবেন।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির লিয়াজোঁ কমিটি ও স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান সময়ের আলোকে বলেন, ‘আমরা তো সবসময়ই তাদের সঙ্গে বসি। শরিক দল তো একটি নয়, অনেকগুলো। সবার সঙ্গে বসতে সময় লাগে। যুগপৎ শরিকদের সঙ্গে আমাদের আলোচনা চলমান রয়েছে।’

সময়ের আলো/এসএকে


  বিষয়:   প্রশাসন  হিস্যা  যুগপত  শরিক  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
রাজনীতি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: