জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম বলেছেন, আপনি যদি নিজে চাঁদাবাজি না করেন, তবে যে বা যারা চাঁদাবাজি করছে তাদের চাঁদাবাজি বন্ধ করুন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিন। আর সেই সক্ষমতা যদি আপনাদের না থাকে, তবে ক্ষমতা ছেড়ে দিন।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ‘জুলাই পদযাত্রা’ উপলক্ষে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর শহিদ মিনার চত্বরে আয়োজিত এক সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দেশে বিরাজমান চাঁদাবাজির চিত্র তুলে ধরে বর্তমান ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সমাবেশে বর্তমান পরিস্থিতির সমালোচনা করে সারজিস আলম বলেন, আমরা যখন গাইবান্ধায় আসি, এই সাদুল্লাপুরে পা রাখি, তখন ভ্যানচালক ভাই ও অটোচালক চাচাদের সঙ্গে কথা বললে আমাদের শুনতে হয়— একটি ভ্যান বা অটো চালানোর জন্য তাদের প্রতিদিন ১০০ টাকা করে চাঁদা দিতে হয়। যে সরকার এই চাঁদাবাজি বন্ধ করতে পারে না, তারা কখনোই জনগণের সরকার হতে পারে না।
তিনি সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আপনি নিজে চাঁদাবাজি না করলে যারা করছে তাদের থামান। তা না করতে পারলে ক্ষমতা ছাড়ুন। আর যদি ক্ষমতাও না ছাড়েন, আবার চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও না নেন, তবে জনগণ বুঝবে— আপনারা দিনের বেলা চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে লম্বা চওড়া গল্প করেন আর রাতে অটোরিকশা ও ভ্যানের চাঁদাবাজির টাকার ভাগ বুঝে নেন।
এনসিপির সাদুল্লাপুর উপজেলা শাখার সভাপতি শফিজল ইসলামের সভাপতিত্বে এই সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন এনসিপির কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, কেন্দ্রীয় কমিটির সংগঠক নাজমুল হাসান সোহাগ, কেন্দ্রীয় নেত্রী সুমাইয়া ফারজানা দিনা, গাইবান্ধা জেলা কমিটির আহ্বায়ক এস এম খাদেমুল ইসলাম খুদি, আবু সাঈদের প্রয়াণ দিবস ও জুলাই পদযাত্রা।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের এই দিনে (১৬ জুলাই) শেখ হাসিনা সরকারের পতনের একদফা দাবিতে বুক পেতে দিয়ে গুলিতে শহিদ হন রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। তার এই আত্মত্যাগের পরেই সারা দেশে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের দাবানল ছড়িয়ে পড়ে। যার ধারাবাহিকতায় ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে এবং তিনি ভারতে পালিয়ে যান।
ঐতিহাসিক এই দিনটি স্মরণে সকালে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পৌর পার্কে অবস্থিত ‘জুলাই শহিদ স্মৃতিস্তম্ভে’ পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এ সময় বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি, ‘শহিদ পরিবার সোসাইটি’ এবং জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া জেলার সাতটি উপজেলাতেই স্থানীয় প্রশাসনের আয়োজনে বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সময়ের আলো/জোই