বৈষম্য, জুলুম ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের পক্ষে রাজপথে প্রাণ উৎসর্গকারী শহীদদের রূহের মাগফিরাত কামনা করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দিবাগত রাতে জামায়াতে ইসলামীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের এক উত্তাল সময়ে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ নিজের অধিকারের দাবিতে পুলিশের সামনে বুক পেতে দাঁড়িয়ে বীরত্বের পরিচয় দেন। স্বৈরাচারী সরকারের নির্দেশে পুলিশ বাহিনী তাকে গুলি করে হত্যা করলে সারাদেশে দাবানলের মতো বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। শহীদ আবু সাঈদের এই অকুতোভয় আত্মত্যাগ ছাত্র আন্দোলনকে একটি সর্বজনীন গণআন্দোলনে রূপান্তর করে।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, পেশাজীবী ও সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে এই আন্দোলন একপর্যায়ে ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনা সরকারের পতনের এক দফার আন্দোলনে পরিণত হয়। ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে তৎকালীন সরকার পুলিশ, র্যাব ও বিজিবির মাধ্যমে নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে। এই নির্মম হত্যাযজ্ঞে প্রায় দেড় হাজার মানুষ প্রাণ হারান এবং আহত হন প্রায় ৩০ হাজার মানুষ। অনেকে চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ করেন।
অবশেষে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মুখে ৫ আগস্ট দীর্ঘ সাড়ে ১৬ বছরের একনায়কতান্ত্রিক শাসনের অবসান ঘটে। পতন নিশ্চিত জেনে শেখ হাসিনা ও তাঁর অনুসারীরা ভারতে পালিয়ে যান। এর মাধ্যমেই স্বৈরাচারের হাত থেকে মুক্তি পায় দেশ।
তিনি আরও বলেন, আজ দেশের মানুষ মুক্ত ও স্বাধীনভাবে মতামত প্রকাশের যে সুযোগ পাচ্ছে, তা জুলাই গণআন্দোলনেরই ফসল। শহীদদের বুকের তাজা রক্তে জাতি আজ ঋণী। এই ঋণ পরিশোধের একমাত্র পথ হলো শহীদদের স্বপ্নের বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, ন্যায়বিচারভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা।
সময়ের আলো/কহু