গাজীপুরের শ্রীপুরে বেতনের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন লাক্সমা ইনারওয়্যার লিমিটেড নামের একটি তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। এ সময় পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ ও লাঠিপেটা করলে নারীসহ অর্ধশতাধিক শ্রমিক আহত হন।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুরে শ্রীপুর পৌরসভার বৈরাগীরচালা এলাকায় ওই কারখানার সামনে এ ঘটনা ঘটে।
এর আগে, এদিন সকাল থেকেই শ্রমিকরা বেতনের দাবিতে কারখানার সামনে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে তারা শ্রীপুর–গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ি বাজার আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করেন, ফলে ওই এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
কারখানার শ্রমিক আমির হোসেন জানান, গত দুই মাস ধরে আমরা বেতন পাচ্ছি না। লাক্সমা ইনারওয়্যার লিমিটেড কারখানার কর্তৃপক্ষ শুধু আশ্বাস দিয়ে সময় ক্ষেপণ করছে। বৃহস্পতিবার সকালেও বেতন দেওয়ার কথা হয়। তবে দুপুর পর্যন্ত কারখানা কর্তৃপক্ষের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত হয়নি।
তিনি অভিযোগ করেন, শ্রমিকরা সড়কে নামার পর পুলিশ এসে কোনো আলোচনা ছাড়াই লাঠিপেটা ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ শুরু করে। এতে নারী শ্রমিকসহ বহু শ্রমিক আহত হন এবং কয়েকজনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
কারখানার অপারেটর শিউলি আক্তার বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের ন্যায্য পাওনা দাবি করেছিলাম। কিন্তু পুলিশ আমাদের কথা না শুনেই লাঠিপেটা শুরু করে। নারী শ্রমিকদের প্রতিও কোনো সহানুভূতি দেখানো হয়নি। অনেকের শরীর থেকে রক্ত ঝরছে। পরিবারের জন্য কাজ করে আজ আমাদেরই লাঠিপেটা খেতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে লাক্সমা ইনারওয়্যার লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার নাজমুল হোসেন বলেন, শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধের প্রস্তুতি চলছিল। কিন্তু তার আগেই তারা সড়ক অবরোধ করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলে। পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ ঘটনায় কয়েকজন পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন বলে তিনি জানান।
শিল্প পুলিশের পরিদর্শক স্বপন কুমার জানান, শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করলে তাদের সরে যেতে বলা হয়। কিন্তু এতে শ্রমিকরা ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কয়েক রাউন্ড সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
তিনি আরও জানান, ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
এফআর