মোবাইল আসক্তি থেকে মুক্ত হওয়ার উপায়

সময়ের আলো ডেস্ক

প্রযুক্তি

আধুনিক যুগে এসে আমরা এখন পুরোপুরি মোবাইল ফোন নির্ভর জীবন যাপন করছি। স্মার্টফোন, ল্যাপটপ বা কম্পিউটারেই সম্পন্ন হচ্ছে দৈনন্দিন কাজ।

2026-01-22T21:37:08+00:00
2026-01-22T21:37:08+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
প্রযুক্তি
মোবাইল আসক্তি থেকে মুক্ত হওয়ার উপায়
‘ডিজিটাল ডিটক্সেই’ লুকিয়ে মানসিক শান্তি
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯:৩৭ পিএম 
প্রতীকী ছবি
আধুনিক যুগে এসে আমরা এখন পুরোপুরি মোবাইল ফোন নির্ভর জীবন যাপন করছি। স্মার্টফোন, ল্যাপটপ বা কম্পিউটারেই সম্পন্ন হচ্ছে দৈনন্দিন কাজ। অফিসের কাজ, খবর পড়া, বিনোদন কিংবা প্রিয়জনের সঙ্গে যোগাযোগ-সবকিছুতেই ডিজিটাল ডিভাইসের নির্ভরতা বেড়েছে। মোবাইল ফোন যেন এখন মানুষের শরীরের একটি অঙ্গ। একটি ক্ষণও এই যন্ত্র ছাড়া চলা অসম্ভব। ঘুম থেকে উঠেই ফোন দেখা এবং রাতে ঘুমোনোর আগেও শেষ বার ফোনে চোখ রাখা যেন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কিন্তু অনেকেই এতে এতো বেশি আসক্ত হয়ে পড়ছেন যে, মুক্তির জন্য বিভিন্ন উপায় খুঁজছেন। ‘ডিজিটাল ডিটক্স’এর মাধ্যমে এ থেকে মুক্তি মিলবে। কীভাবে? চলুন জানা যাক। 

এই অতিরিক্ত স্ক্রিনটাইম ধীরে ধীরে প্রভাব ফেলছে আমাদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যে। ক্রমাগত নোটিফিকেশন, সোশ্যাল মিডিয়ার তুলনা ও তথ্যের বন্যা বাড়াচ্ছে উদ্বেগ, স্ট্রেস ও অবসাদ। এই পরিস্থিতিতেই ধীরে ধীরে গুরুত্ব পাচ্ছে ‘ডিজিটাল ডিটক্স’। কখন বুঝবেন আপনার ডিজিটাল ডিটক্স দরকার? বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি বারবার ফোন চেক করার তাড়না থাকে, নোটিফিকেশন না দেখলে অস্থির লাগে, সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের পর মন খারাপ বা স্ট্রেস বেড়ে যায়, ঘুমের সমস্যা দেখা দেয় বা কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য নষ্ট হয়। তাহলে তা ডিজিটাল আসক্তির লক্ষণ হতে পারে। এমনকি ভার্চুয়াল যোগাযোগকে বাস্তব সম্পর্কের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়াও সতর্ক সংকেত। 


ডিজিটাল ডিটক্সের উপকারিতা : ডিজিটাল ডিটক্স মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে এবং মনকে শান্ত রাখে। মনোযোগের ক্ষমতা বাড়ায়। ফলে, কাজের মানও উন্নত হয়। ঘুমের সমস্যা কমে এবং পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ বাড়ে। যা সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে। পাশাপাশি নিজের শখ, শরীরচর্চা ও আত্মযত্নে সময় দেওয়া সম্ভব হয়। যা জীবনকে আরও পরিপূর্ণ করে তোলে। 

ডিজিটাল ডিটক্স মানে কি প্রযুক্তি ছেড়ে দেওয়া? না, তা একেবারেই নয়। ডিজিটাল ডিটক্স মানে প্রযুক্তির ব্যবহার সীমিত করা। দিনে নির্দিষ্ট সময়ে ফোন দেখা, খাবারের সময় ফোন দূরে রাখা, সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার কমানো বা অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন বন্ধ করার মতো ছোট পদক্ষেপ থেকেই শুরু করা যেতে পারে। কয়েক দিনের মধ্যেই এর ইতিবাচক প্রভাব টের পাওয়া যায়। 

গবেষণা বলছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্রাউন ইউনিভার্সিটির এক রিপোর্ট অনুযায়ী, ডিজিটাল ডিটক্স হল নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ডিজিটাল ডিভাইস, স্ক্রিন ও সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে থাকা। যেমন শরীর সুস্থ রাখতে টক্সিনমুক্ত হওয়া জরুরি। তেমনই মানসিক সুস্থতার জন্য ডিজিটাল ওভারলোড থেকে বিরতিও প্রয়োজন। 

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটালাইজেশন জীবন সহজ করেছে ঠিকই। তবে এর নেতিবাচক দিকও স্পষ্ট। অতিরিক্ত তথ্যের চাপ বাড়ায় মানসিক উদ্বেগ, মাল্টিটাস্কিং কমায় মনোযোগের ক্ষমতা। সোশ্যাল মিডিয়ার মানসিকতা আত্মবিশ্বাসে আঘাত হানে। পাশাপাশি অনলাইন অ্যাক্টিভিটির কারণে গোপনীয়তা ও ডেটা সুরক্ষার ঝুঁকিও বেড়েছে। 

এই জন্যই ব্যস্ত জীবনে নিজেকে মানসিকভাবে সুস্থ রাখতে ‘ডিজিটাল ডিটক্স’ হয়ে উঠছে সময়ের প্রয়োজন। সুস্থ থাকতে তাই ফোনের আসক্তি কাটানোর পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসক থেকে শুরু করে যাপন প্রশিক্ষকেরাও। 

সময়ের আলো/এনএ 


  বিষয়:   মোবাইল আসক্তি  মুক্ত  ডিজিটাল ডিটক্স  মানসিক শান্তি 


Loading...
Loading...
প্রযুক্তি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: