বিশ্বের অর্ধেক কার্বন নিঃসরণে দায়ী ৩২ কোম্পানি

সময়ের আলো ডেস্ক

বিশ্বজুড়ে জলবায়ু সংকট যত তীব্র হচ্ছে, ততই স্পষ্ট হয়ে উঠছে এর দায়। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৪ সালে বৈশ্বিক

2026-01-23T04:16:09+00:00
2026-01-23T04:16:09+00:00
 
  রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬,
২১ আষাঢ় ১৪৩৩
রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬
বিশ্বের অর্ধেক কার্বন নিঃসরণে দায়ী ৩২ কোম্পানি
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ৪:১৬ এএম 
সংগৃহীত ছবি
বিশ্বজুড়ে জলবায়ু সংকট যত তীব্র হচ্ছে, ততই স্পষ্ট হয়ে উঠছে এর দায়। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৪ সালে বৈশ্বিক কার্বন ডাই অক্সাইড নিঃসরণের প্রায় অর্ধেক এসেছে মাত্র ৩২টি জীবাশ্ম জ্বালানি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান থেকে। আগের বছরের তুলনায় এই সংখ্যা কমলেও দূষণের ঘনত্ব বেড়েছে, যা জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও করপোরেট জবাবদিহির সংকটকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে।

দূষণ এখন অল্প কয়েকটি কোম্পানিতে কেন্দ্রীভূত : কার্বন মেজরস রিপোর্ট বলছে, বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণ এখন আগের চেয়ে আরও সীমিত সংখ্যক উৎপাদকের হাতে কেন্দ্রীভূত। ২০২৪ সালে বিশ্বব্যাপী সিও-টু নিঃসরণের প্রায় ৫০ শতাংশ এসেছে ৩২টি কোম্পানি থেকে। এক বছর আগে এই সংখ্যা ছিল ৩৬টি। অর্থাৎ উৎপাদক কমছে, কিন্তু মোট নিঃসরণ কমছে না। বরং দূষণের দায় আরও বেশি করে নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানের ঘাড়ে জমা হচ্ছে। গবেষকদের মতে, এটি জলবায়ু সংকটকে সিস্টেমিক নয়, বরং নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত ও ব্যবসায়িক মডেলের ফল হিসেবে চিহ্নিত করে।

সৌদি আরামকো শীর্ষে : সবচেয়ে বেশি কার্বন নিঃসরণের জন্য দায়ী রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি সৌদি আরামকো। সৌদি আরামকোর নিঃসরণ ১.৭ বিলিয়ন টন সিও-টু। একক দেশ হলে তারা হতো বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম দূষণকারী। অবস্থান হতো রাশিয়ার ঠিক পরেই। নিঃসরণের বড় অংশ এসেছে রফতানি করা তেল থেকে। বিনিয়োগকারী মালিকানাধীন কোম্পানির মধ্যে শীর্ষে রয়েছে এক্সনমোবিল। এক্সনমোবিলের নিঃসরণ ৬১০ মিলিয়ন টন সিও-টু। দেশ হিসেবে গণনা করলে তারা হতো নবম বৃহত্তম দূষণকারী। দক্ষিণ কোরিয়ার চেয়েও বেশি নিঃসরণ করত তারা।

শীর্ষ ২০ দূষণকারীর ১৭টিই রাষ্ট্রায়ত্ত : কার্বন মেজরস রিপোর্টে দেখা গেছে, বড় দূষণকারীদের বড় অংশই সরাসরি সরকারের নিয়ন্ত্রণে। শীর্ষ ২০ কোম্পানির মধ্যে ১৭টিই রাষ্ট্রায়ত্ত। সৌদি আরব, রাশিয়া, চীন, ইরান, ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরাত এতে রয়েছে। এসব কোম্পানির উৎপাদন ও নীতিনির্ধারণে সরকারের সরাসরি ভূমিকা আছে। গবেষকদের মতে, এটি জলবায়ু সংকট মোকাবিলার সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক বাধা।

কপ৩০ সম্মেলনেও একই দেশগুলোর বিরোধিতা : এই রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিগুলোর নিয়ন্ত্রণে থাকা দেশগুলোই সম্প্রতি কপ৩০ জলবায়ু সম্মেলনে জীবাশ্ম জ্বালানি ধাপে ধাপে বন্ধের প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে। কপ৩০ অনুষ্ঠিত হয় গত ডিসেম্বরে। ৮০টির বেশি দেশ জীবাশ্ম জ্বালানি পরিত্যাগের পক্ষে অবস্থান নেয়। সৌদি আরব, রাশিয়া, চীন, ইরান, ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রস্তাবের বিরোধিতা করে। ফলে বৈশ্বিক পর্যায়ে বাধ্যতামূলক অগ্রগতি আবারও থমকে যায়।

নিঃসরণ বাড়ছেই, প্যারিস লক্ষ্য অধরা : কোভিড-১৯ মহামারির সময় সাময়িকভাবে বৈশ্বিক নিঃসরণ কমেছিল। মহামারির পর আবার নিঃসরণ বাড়তে শুরু করে। প্রতি বছরই নতুন রেকর্ড তৈরি হচ্ছে। জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো কমেনি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস লক্ষ্য পূরণ করতে হলে ২০৩০ সালের মধ্যে নিঃসরণ ৪৫ শতাংশ কমাতে হতো। সেই লক্ষ্য এখন প্রায় অসম্ভব। তবে তাপমাত্রা যতটা সম্ভব কমিয়ে রাখাই এখন মূল লক্ষ্য।

করপোরেট একীভবনে দূষণের ঝুঁকি আরও বাড়ছে : তেল ও গ্যাস খাতে সাম্প্রতিক বড় একীভবন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে। এক্সনমোবিল অধিগ্রহণ করেছে পাইওনিয়ার ন্যাচারাল রিসোর্সেস। শেভরন অধিগ্রহণ করেছে হেস। উৎপাদন আরও কেন্দ্রীভূত হচ্ছে। কম কোম্পানির হাতে বেশি নিয়ন্ত্রণ যাচ্ছে। ইনফ্লুয়েন্স ম্যাপ বলছে, এতে নিঃসরণ কমার বদলে বাড়ার আশঙ্কাই বেশি।

জলবায়ু আন্দোলনের কড়া অভিযোগ : ফসিল ফুয়েল নন-প্রোলিফারেশন ট্রিটি ইনিশিয়েটিভ এই পরিস্থিতিকে সরাসরি জলবায়ু নাশকতা হিসেবে দেখছে। বড় কোম্পানিগুলো জলবায়ু পদক্ষেপে বাধা দিচ্ছে। সরকারগুলোর উচ্চাকাক্সক্ষা দুর্বল করছে। জীবাশ্ম জ্বালানির সম্প্রসারণ বন্ধ করছে না। সংস্থাটির মতে, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জরুরি। ন্যায্য রূপান্তরের বিকল্প নেই।

বিনিয়োগ বদলালেও কার্বন মেজররা বদলাচ্ছে না : সাবেক জাতিসংঘ জলবায়ু প্রধান ক্রিস্টিয়ানা ফিগুয়েরেস বলেন, বিশ্বজুড়ে পরিষ্কার জ্বালানিতে বিনিয়োগ এখন জীবাশ্ম জ্বালানির প্রায় দ্বিগুণ। তবুও বড় কার্বন উৎপাদকরা পুরোনো মডেলেই আটকে আছে। তারা দূষণকারী পণ্য আঁকড়ে ধরছে। তার মতে, তথ্যই এখন জবাবদিহির সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র।

আদালতেও ব্যবহার হচ্ছে কার্বন ডাটা : কার্বন মেজরস ডাটাবেস ইতিমধ্যে আইনি ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। নিউইয়র্ক ও ভারমন্টের জলবায়ু সুপারফান্ড আইনও বড় জীবাশ্ম জ্বালানি কোম্পানিগুলোকে বন্যা ও চরম তাপপ্রবাহের মতো জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলার প্রকল্পে অর্থ দিতে বাধ্য করছে। তাপপ্রবাহ ও বন্যাজনিত ক্ষতির দায় নির্ধারণে ব্যবহার হচ্ছে এই তথ্য। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবাশ্ম জ্বালানি ও জলবায়ু ক্ষতির যোগসূত্র এখন প্রমাণিত। আদালতগুলো বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। প্রমাণ বাড়ছে। তথ্য স্পষ্ট। আইনও ধীরে ধীরে পরিষ্কার হচ্ছে। এখন প্রশ্ন একটাই- বিশ্বের সবচেয়ে বড় দূষণকারীরা কি দায় নেবে, নাকি ইতিহাসের ভুল দিকেই দাঁড়িয়ে থাকবে।

সময়ের আলো/এসকে/



  বিষয়:   বিশ্ব  কার্বন নিঃসরণ  দায়ী  কোম্পানি 


Loading...
Loading...
- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: