ভারতের সাথে বিএনপির চুক্তির বিষয়ে জামায়াতের নায়েবে আমিরের অভিযোগ ‘রাজনৈতিক অপপ্রচার’ হিসেবে দেখছে বিএনপি।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) গুলশানে বিএনপির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমীন একথা জানান।
জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বিএনপি চেয়ারম্যানের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেছেন যে, তারা ভারতের সাথে তিনটি চুক্তি করেছেন। বিএনপি কী কোনো চুক্তি করেছে?
এ বিষয়ে মাহদী আমীন বলেন, দেখুন একটি রাজনৈতিক দলের খুব প্রভাবশালী একজন নেতা ভারতের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে যে দাবিটি করেছেন। তিনি একটি মিডিয়ার কথা বলেছেন স্বাভাবিকভাবেই তার স্বপক্ষে তিনি কোন প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি। কোন প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারবেন না।
‘কারণ যে তথ্য মিডিয়ায় এসেছে বলে তিনি দাবি করেছেন সেটির ন্যূনতম কোন বাস্তবতা নাই, ন্যূনতম কোন সত্যতা নাই। তাহলে কি আমরা বলতে পারি যে বিতর্ক তৈরি করার জন্য এটি একটি রাজনৈতিক অপকৌশল, অপপ্রচার। আর যদি ওনাকে ভুল তথ্য প্রদান করা হয় বা বিভ্রান্তি ছড়ানোর জন্য করা হয় তাহলে কি সেটা উনার অজ্ঞতা? আমরা মনে করি এটা অপকৌশল বা অজ্ঞতা। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, ভারতের সাথে বিএনপির চুক্তির বিষয়ে যেসব কথা বলা হচ্ছে তা সম্পূর্ণরূপে অপপ্রচার’
তিনি বলেন, আমরা গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বলতে সেটাই বুঝি যে এখানে ইতিবাচক রাজনীতি হবে, কোন অপপ্রচার অপকৌশল, অপরাজনীতি সেটা হওয়া উচিত না।
‘কারণ বিএনপির রাজনীতি মানেই তো বাংলাদেশপন্থি রাজনীতি, আমাদের নেতা জনাব তারেক রহমানের যে রাজনীতি সেখানে হচ্ছে সবার আগে বাংলাদেশের স্বার্থ, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, জনগণের ক্ষমতায়ন.. এটিকে কেন্দ্র করেই তো বিএনপির রাজনীতি জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে।’
মাহদী আমীন বলেন, আমরা দেখেছি তিস্তার পাড়ে পদ্মার পাড়ে পানির ন্যায্য হিৎসার জন্য ধারাবাহিকভাবে বিশাল প্রোগ্রাম করা হয়েছে, সমাবেশ করা হয়েছে এটি তো বিএনপির রাজনীতি। সীমান্তে ফেলানি হত্যার পরে সবার আগে প্রতিবাদ করেছিল বিএনপি, রাজপথে নেমে এসেছিল বিএনপি।
‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে নতজানু পররাষ্ট্র নীতি থেকে বেরিয়ে এসে দেশের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা, আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো এটি তো শহীদ জিয়াউর রহমানের রাজনীতি। সুতরাং বিএনপি দেশের জন্য দেশের মানুষের জন্য বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বের জন্য আমাদের নেতার নেতৃত্বে সবার আগে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করবে। এই রকম অপপ্রচার না হওয়া সেটি আমাদের প্রত্যাশা।’
মাহদী আমীন আরও বলেন, একটি প্রতারক চক্র বিতর্ক সৃষ্টির লক্ষ্যে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড দেওয়ার নামে কিছু কিছু জায়গায় টাকা যাচ্ছে। বিএনপি চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের নারীর ক্ষমতায়ন এবং কৃষকের সমৃদ্ধির জন্য ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড প্রদানের যে পরিকল্পনা ইতিমধ্যে তা দেশব্যাপী আলোচিত হয়েছে সমাদৃত হয়েছে। বিএনপি যদি জনগণের ভোটে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পায় ইনশাআল্লাহ তখন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এবং যথাযথ ব্যক্তিদের হাতে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে এই কার্ডগুলো পৌঁছে দেওয়া হবে।
‘যদি কেউ এই বিষয়ে কোন অসাধু উদ্দেশ্য হাসিলের চেষ্টা করে সেক্ষেত্রে আপনারা আমাদেরকে অবহিত করবেন এবং অবশ্যই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শরনাপন্ন হবেন।’
হটলাইন চালু
মাহদী আমীন বলেন, আপনারা নিশ্চয়ই অবগত আছেন যে বিএনপি দেশের নাগরিকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ জোরদার এবং নির্বাচনসংক্রান্ত আইন বিধিমালা ও নির্দেশিকা সম্পর্কে তথ্য দেওয়ার পাশাপাশি ভোটারদের অভিযোগ পর্যবেক্ষণ ও গঠনমূলক মতামত গ্রহণের উদ্দেশ্যে বিএনপির পক্ষ থেকে ইলেকশন হটলাইন ১৬৫৪৩ এবং নতুন একটা হোয়াটসঅ্যাপ হটলাইন যেটির নাম্বার ০১৮০৬৯৭৭৫৭৭।
‘শহর ও গ্রামসহ পুরো দেশব্যাপী সকল নাগরিককে সম্পৃক্ত করে একটি স্বচ্ছ গ্রহণযোগ্য এবং নাগরিক বান্ধব নির্বাচন পরিচালনা এবং পরিবেশ গড়ে তোলাই আমাদের মূল লক্ষ্য। ইতিমধ্যেই হটলাইনের মাধ্যমে অসংখ্য মানুষ যোগাযোগ করেছেন। বিভিন্ন বিষয়ে সমাধান পেয়েছেন। হটলাইন থেকে জানতে পারা একটি বিষয়ে আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে যাচ্ছি।’
সময়ের আলো/জেডআই