দুর্নীতির অভিযোগে চীনের শক্তিশালী কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের (সিএমসি) সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান জেনারেল ঝাং ইউশিয়াসহ দুই শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) চীনের জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বিবৃতিতে জানানো হয়, সিএমসি ভাইস চেয়ারম্যান ঝাং ইউশিয়া এবং পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) জয়েন্ট স্টাফ বিভাগের প্রধান জেনারেল লিউ ঝেনলির বিরুদ্ধে ‘শৃঙ্খলা ও আইনের গুরুতর লঙ্ঘনের’ অভিযোগ আনা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত চলছে।
৭৫ বছর বয়সী ঝাং ইউশিয়া বর্তমানে চীনের সর্বোচ্চ পদমর্যাদার সামরিক কর্মকর্তা। তিনি প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড হিসেবে সিএমসির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং কমিউনিস্ট পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্যও ছিলেন। তিনি ১৯৭০ ও ১৯৮০-এর দশকে ভিয়েতনামের সঙ্গে সংঘাতে অংশ নিয়েছিলেন, তিনি একজন যুদ্ধপ্রবীণ জেনারেল, তিনি বর্তমানে পিএলএ-র বাস্তব যুদ্ধ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সামরিক নেতাদের একজন।
অন্যদিকে, ৬১ বছর বয়সী জেনারেল লিউ ঝেনলি সিএমসির সদস্য এবং জয়েন্ট স্টাফ বিভাগের চিফ অফ স্টাফ হিসেবে পিএলএর যৌথ অভিযান, প্রশিক্ষণ এবং যুদ্ধ প্রস্তুতির দায়িত্বে ছিলেন।
ঝাং ইউশিয়া সিএমসির আরেক ভাইস চেয়ারম্যান জেনারেল ঝাং শেংমিনের সঙ্গে এই পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন। গত বছরের অক্টোবরে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে তার পূর্বসূরী অপসারিত হওয়ার পর ঝাং শেংমিনকে এই পদে পদোন্নতি দেয় বেইজিং। সিএমসির চেয়ারম্যান হিসেবে ২০১২ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করছেন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০১২ সালে ক্ষমতায় আসার পর শি জিনপিং দল ও রাষ্ট্রের সব স্তর থেকে দুর্নীতি নির্মূলের ঘোষণা দেন। সাম্প্রতিক এই তদন্ত সেই দীর্ঘদিনের অভিযানেরই অংশ, যা এখন চীনের সামরিক বাহিনীর সর্বোচ্চ স্তর পর্যন্ত বিস্তৃতি পেয়েছে।
চীনের রাজনৈতিক বাস্তবতায় কোনো শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে তদন্ত শুরুর ঘোষণা প্রায় নিশ্চিতভাবেই তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের অবসানের ইঙ্গিত দেয়। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই শুদ্ধিকরণ অভিযানের ফলে স্বল্পমেয়াদে পিএলএর যুদ্ধ প্রস্তুতি কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তবে একই সঙ্গে এটি সামরিক বাহিনীর ওপর প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের নিয়ন্ত্রণ আরও সুসংহত করার কৌশল হিসেবেও দেখা হচ্ছে, বিশেষ করে ২০২৭ সালের কমিউনিস্ট পার্টি কংগ্রেসকে সামনে রেখে।
কর্তৃপক্ষ এখনো তদন্তাধীন দুই জেনারেলের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিস্তারিত প্রকাশ করেনি।
/ইউএমএইচ