১১ দলীয় জোট মনোনীত ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করে বলেছেন, আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মির্জা আব্বাস রাজউকের ফ্ল্যাট বিতরণ করেছিলেন। নির্বাচিত হলে এরকম দুর্নীতির বরপুত্র যারা আছে ও তাদের সাঙ্গপাঙ্গদের বিচারের আওতায় আনা হবে।
তার অভিযোগ, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জোর করে মিটিং মিছিলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এটা নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বিধিবহির্ভূত কাজ। ইসি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড রাখতে পারছে না। তারা এক দলের প্রতি বধির আর অন্ধ।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে গণসংযোগকালে এনসিপির এই নেতা এসব কথা বলেন।
এসময় গণভোটে হ্যাঁ দিয়ে পুরোনো বন্দোবস্ত বিদায় দেওয়ার আহ্বান জানান এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক।
নাসীরুদ্দীন বলেন, আগে আওয়ামী লীগ হামলা করত, এখন বিএনপি হামলা করে। কেউ আমাদের ভোট কেড়ে নিতে চাইলে সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করব। হামলা-মামলা করে নির্বাচন ঠেকানো যাবে না।
এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক বলেন, ঢাকা মেডিকেলের কর্মকর্তা, কর্মচারী আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। তাদেরকে জোর করে নির্বাচনি প্রচারণায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কারণ এখানে অনেক ফ্রিল্যান্সিং জব রয়েছে। এগুলো আগে আওয়ামী লীগ চালাত। এখন অন্য ব্যক্তিরা চালাচ্ছে। কাজেই আমরা যদি সুষ্ঠু একটি ব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে না যেতে পারি, তাহলে এই ধরনের পরিস্থিতি বিরাজ করবে।
তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের সময় নার্স, চিকিৎসক বুক পেতে আহতদের সেবা করেছেন। তবে বাংলাদেশে স্বাস্থ্যক্ষেত্র ভূতুরে অবস্থা রয়েছে। রোগী বাসায় যেটুকু সুস্থ থাকে, এখানে আসার পর আরও বেশি অসুস্থ হয়ে যায়। এখানে অনেক সিন্ডিকেট রয়েছে। আমরা যদি এসব সিন্ডিকেট ধ্বংস না করি, তাহলে দেশ উন্নত হবে না। আমরা ক্ষমতায় আসলে মেডিকেল নিজ উদ্যোগে উন্নত করব।
নাসীরুদ্দীন আরও বলেন, শেখ হাসিনার সময় ঢাকা মেডিকেলে একটি কলা, একটি ডিম দিয়ে পুকুর চুরির দুর্নীতি করেছিল। সেই ব্যস্ততা পরিবর্তন হয় নাই। ঔষধ, জিনিসপত্র সরবারহে পুরতান সিন্ডিকেট রয়েছে। আমরা ক্ষমতায় আসলে সকল হাসপাতালে সব সিন্ডিকেট ভেঙে দিব। বিভিন্ন রুম দখল করে ট্রেড ইউনিয়ন গঠন হয়েছে, আমরা তা ভেঙে দিব। চিকিৎসা নার্স বেতন বৈষম্য দূর করব, মর্যাদা নিশ্চিত করব। স্বাস্থ খাতের নিয়ন্ত্রণ নিব, স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন করব। বেতন বৈষম্য কমাব। ঢাকা মেডিকেলের সামনে মাদকের আখড়া। আমরা নির্বাচিত হলে মেডিকেল, বুয়েটের সামনের মাদকের আড্ডাখানা ভেঙে দিব।
তিনি বলেন, ঢাকা মেডিকেল এ আসলে কোনো মেডিকেল না। এখানে একটা ভুতুড়ে অবস্থা করে রাখা হয়েছে। আমরা ঢামেকের আধুনিকায়ন করব।
তিনি বলেন, দুদককে ৫০ বছর ধরে অকার্যকর করে রাখা হয়েছে। দুদকে ফাইল যায়, কিন্তু ওপেন হয় না। আমরা দুদককে শক্তিশালী করব। ২০০১-২০০৬ পর্যন্ত বংলাদেশে যেই দুর্নীতি হয়েছে, অবিচার হয়েছে, আমরা সেগুলোর বিচার করব। ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পরে মির্জা আব্বাস রাজউকের ফ্ল্যাট বিতরণ করেছিল, অনিয়ম, দুর্নীতি করেছিল। সেই ফাইলগুলো ও ৫ তারিখের পরে ২টি মামলা উঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এসব দুর্নীতির বরপুত্র যারা রয়েছে, আমরা তাদের ফাইলগুলো নতুন করে ওপেন করে তাদেরকে যথাযথ বিচারের মধ্যে নিয়ে আসব।
সময়ের আলো/এসকে/