প্রার্থী বিপাকে বিএনপি, ভিন্ন পথে জামায়াত-ইসলামী আন্দোলন

মনপুরা (ভোলা) প্রতিনিধি

রাজনীতি

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোলার দ্বীপ উপজেলা মনপুরার ৫টি ইউনিয়নে নির্বাচনি হাওয়া বইতে শুরু করেছে। মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক দলগুলোর

2026-09-12T23:28:08+00:00
2026-09-13T00:35:49+00:00
 
  মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬,
১৯ কার্তিক ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
রাজনীতি
উপকূলে নির্বাচনি হাওয়া
প্রার্থী বিপাকে বিএনপি, ভিন্ন পথে জামায়াত-ইসলামী আন্দোলন
মনপুরা (ভোলা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২৮ পিএম  আপডেট: ১৩.০৯.২০২৬ ১২:৩৫ এএম
কোলাজ : সময়ের আলো
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোলার দ্বীপ উপজেলা মনপুরার ৫টি ইউনিয়নে নির্বাচনি হাওয়া বইতে শুরু করেছে। মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক দলগুলোর তৎপরতায় এখনই নির্বাচনি আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র। তবে এবারের নির্বাচনে প্রধান তিন রাজনৈতিক দল— বিএনপি, জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে সম্পূর্ণ ভিন্ন ভিন্ন নির্বাচনি কৌশল লক্ষ্য করা যাচ্ছে। 

স্থানীয় সূত্র ও রাজনৈতিক কর্মীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার ৫টি ইউনিয়নেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে একাধিক হেভিওয়েট প্রার্থী মাঠে নেমেছেন। দলটির ভেতরে চাঙ্গা ভাব থাকলেও একক প্রার্থী নিশ্চিত না হওয়ায় অনেক জায়গায় অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও ভোট ভাগাভাগির শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তৃণমূলের সাধারণ ভোটাররা বলছেন, কেন্দ্রে নির্দেশনা পেতে প্রার্থীরা ঢাকায় লবিং করার পাশাপাশি এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ চালাচ্ছেন।

অন্যদিকে, সম্পূর্ণ বিপরীত ও গোছানো কৌশলে এগোচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের। ৫টি ইউনিয়নের প্রতিটিতেই দলটি 'একক প্রার্থী' চূড়ান্ত করে নিরবচ্ছিন্নভাবে মাঠ গুছিয়ে আনছে। জামায়াতের স্থানীয় দায়িত্বশীল এক নেতা জানান, কেন্দ্রে ও স্থানীয়ভাবে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে তারা প্রতিটি ইউনিয়নে একজন করেই প্রার্থী রাখছেন, যাতে ভোট ভাগ না হয়ে দলীয় পুরো শক্তি এক জায়গায় কাজে লাগানো যায়। বিএনপির একাধিক প্রার্থীর বিপরীতে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এই একক প্রার্থীর কৌশল ভোটের মাঠে বড় ধরনের সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় বিশ্লেষকরা।

এদিকে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মনপুরায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অনেকটা কোণঠাসা অবস্থায় থাকলেও ভেতরে ভেতরে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন দলটির সাবেক জনপ্রতিনিধি ও প্রার্থীরা। প্রকাশ্যে দলীয় ব্যানারে প্রচারণা বা সভা-সমাবেশ করতে না পারলেও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন তারা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী জানান, যদি নির্বাচনি পরিবেশ সুষ্ঠু থাকে, প্রশাসন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে এবং তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত হয়— তবে তারা দল বেঁধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেবেন।

স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্র ও মাঠপর্যায়ের কর্মীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মনপুরার ৫টি ইউনিয়নেই বিএনপির একাধিক হেভিওয়েট ও প্রভাবশালী নেতা প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে নেমেছেন। দীর্ঘদিন পর নির্বাচনমুখী পরিবেশ তৈরি হওয়ায় তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মাঝে যেমন উৎসাহ আছে, তেমনি এই ‘প্রার্থীর মেলা’ দলের জন্য বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নেই ৩ থেকে ৫ জন করে সম্ভাব্য প্রার্থী পোস্টার, ব্যানার এবং গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন। শেষ পর্যন্ত দল থেকে একজনকে গ্রিন সিগন্যাল দেওয়া হলেও বাকিরা ‘বিদ্রোহী’ হিসেবে মাঠে থেকে যাওয়ার আশঙ্কা প্রবল, যা দলটির বড় ভোট ব্যাংককে খণ্ডিত বা ভাগ করে দিতে পারে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার ১ নং মনপুরায় ইউনিয়নে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী বিএনপি নেতা মো. মোরশেদ আলম, উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি আবদুল জলিল ও সাবেক ছাত্রদল নেতা মো. মনির, উপজেলা সেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরউদ্দিন তুহিন, জামায়াতের একক প্রার্থী হলেন, ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মাও. মো. এমরান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এখনো প্রার্থী নির্ধারণ করা হয়নি। 

২ নং হাজিরহাট ইউনিয়নে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আবদুল খালেক সেলিম মোল্লা, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মফিজুল ইসলাম মিলন মাতাব্বর, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দিন মেম্বার, যুবদল সহসভাপতি কামাল উদ্দিন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব হোসেন হাওলাদার, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমান। জামায়াতের একক প্রার্খী হচ্ছেন উপজেলা জামায়াতের আমীর মাও. আমিমুল ইহসান জসিম ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর সম্পাদক মাও. মো. ইউনুচ। 

৩ নং উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মো. আবদুর রহিম, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি হাজী নিজাম উদ্দিন, সাবেক যুবদল সম্পাদক মো. রাসেল ও সাবেক ছাত্রদল নেতা মো. কবির। জামায়াতের একক প্রার্থী হলেন, ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি মো. আবদুর রহিম ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর কোষাধ্যক্ষ হাফেজ মাও. মো. মাকসুদুর রহমান।

৪ নং দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হলেন, বিএনপি নেতা মো. সিরাজ পালোয়ান, মনপুরা উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মাহারুফ হোসেন খালেক মাস্টার, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব শাহদুল ইসলাম শাহীন, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাস্টার জামাল উদ্দিন, বরিশাল বিএম কলেজের সাবেক ছাত্রনেতা আবদুর রহমান, ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি জসিম উদ্দিন রাঢ়ী, বিএনপি নেতা মো. ফিরোজ মুন্সী। অপরদিকে জামায়াতের উপজেলার নেত্রীবৃন্দ দিকে তাকিয়ে আছেন, ইউনিয়ন নেতাকর্মীরা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হলেন, মাও মো. ইলিয়াস। 
৫ নং, কলাতলী ইউনিয়নে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হলেন, উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি জোবায়ের হাসান রাজিব চৌধুরী , উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মামুন ‍মিঞা, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আছিয়ল হক মেম্বার, বিএনপি নেতা রেজাউল হক লিটন ও আমিরুল ইসলাম সোহেল। জামায়াতের একক প্রার্থী হলেন, মাও. আবদুর রশিদ। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি।

এই ব্যাপারে উপজেলা জামায়াতের আমীর মাও আমিমুল ইহসান জসিম জানান, আসন্ন ইউপি নির্বাচনে প্রত্যেকটি ইউনিয়নে একক প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে জামায়াত ইসলামী।

এই ব্যাপারে মনপুরা উপজেলা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর সভাপতি মাও. মো. মুফতি এনায়েত উল্ল্যাহ নুরনবী জানান, প্রত্যেকটি ইউনিয়ন একক প্রার্থী দেওয়ার কাজ চলমান।  

নির্বাচন বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিএনপির একাধিক প্রার্থীর বিপরীতে জামায়াতের এই একক প্রার্থীর কৌশল ভোটের মাঠে বড় ধরনের সমীকরণ তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা প্রকাশ্যে কোনো প্রচারণা না চালালেও, নির্বাচনি পরিবেশ সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও নিরাপদ হলে তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে চমক দেখাতে পারেন, শেষ পর্যন্ত কোন ইউনিয়নের ভাগ্যে কী ঘটে, তা দেখার জন্য চাতক পাখির মতো চেয়ে আছেন দ্বীপবাসী।

সব মিলিয়ে মনপুরার নির্বাচনি সমীকরণ এখন ত্রিমুখী মোড় নিয়েছে। বিএনপির অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষা, একক প্রার্থীদের সুবিধা এবং নীরব থাকা আওয়ামী সমর্থকদের ভোট কোন দিকে ধাবিত হয়— তার ওপরই নির্ভর করছে মনপুরার আগামী দিনের মসনদ।

সময়ের আলো/আতা
  বিষয়:   উপকূল  নির্বাচন  হাওয়া  প্রার্থী  বিপাক  বিএনপি  জামায়াতে ইসলামী  ইসলামী আন্দোলন  মনপুরা  ভোলা  সময়ের আলো  রাজনৈতিক হাওয়া 


Advertisement
Loading...
Loading...
রাজনীতি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: